Tuesday, 13 December 2016

রঞ্জী ট্রফি ২০১৬-১৭ প্রথম পর্ব।

রঞ্জী ট্রফি ২০১৬-১৭ এর লীগ পর্ব প্রায় শেষের পথে। এবারের রঞ্জী তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অন্যান্য বারের মতই ঘটেছে। একবার দেখে নেওয়া যাক কি কি ঘটল। 
·         গ্রুপ-এঃ মুম্বই এই গ্রুপ এর এক নম্বর দল ৩০ পয়েন্ট পেয়ে। ৮ টি খেলার মধ্যে তাঁরা ৩ টি জিতেছে। আয়ার তাদের দলের হয়ে লীগে সর্বোচ্চ রান কারি(৫৪১)। যাদব করেছেন ৪৯৪ রান। দলের হয়ে মোট ৭টি শতরান এখনও অবধি হয়েছে। ধবল কুলকারনি  ১৯ টি উইকেট নিয়ে দলের সেরা। মুম্বাই এর মৌলিকতা হল তাঁরা কারও ওপর নির্ভর নয়। দলগত সাফল্যের নিরিখে তাঁরা খেলছে। বাংলা আর গুজরাট ছাড়া কোথাও তাঁরা সমস্যায় পরেনি। তা বাংলা ম্যাচে তাঁরা ৩ পয়েন্ট পেয়েছে।
   ৮টি ম্যাচে দুটি জয় সহ ২৬ পয়েন্ট পেয়ে তামিলনাড়ু দ্বিতীয় স্থানে।তাদের কে এম গান্ধী ৩টি শতরান সহ ৭০৯ ও অভিনব মুকুন্দ ৩টি শতরান সহ ৬৭২ রান করেছে। ১০টি শতরান আছে তামিলনাড়ুর খেলোয়াড় দের নামে।বিঘ্নেশ ৩২ টি ও ক্রাইস্ট ২৭ টি উইকেট নিয়েছে তাদের হয়ে।
    তৃতীয় স্থানে আছে গুজরাট।তাদেরও পয়েন্ট ২৬। যদিও তাঁরা বাংলার সাথে ১ পয়েন্ট পেয়েছে খেলা না হওয়ার জন্য। প্রথমবার রঞ্জী খেলতে নামা  গুজরাটের প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চাল মাত্র ৭ ম্যাচে ১০৩৭ করে এক মরশুমে ১০০০ কারি রঞ্জী খেলোয়াড় দের মধ্যে তৃতীয় স্থানে নাম তুলেছে( প্রথম দুজন রুশি মোদী বোম্বের হয়ে ১৯৪৪-৪৫ সালে এবং লক্ষ্মণ হায়দ্রাবাদের হয়ে ২০০০-০১ সালে )। ৪টি শতরান সে করেছে। তাঁর মধ্যে একটা আবার ৩১৪।মোট গুজরাটের হয়ে ৯ খানা শতরান হয়েছে। বোলিং এর ক্ষেত্রে কালারিয়া ২৪ খানা উইকেট পেয়েছে। গুজরাট খুব একটা শক্তিশালী দল নয়। এবার বাংলা ম্যাচ খেলা হলে তাঁরা পরবর্তী পর্বে যেত না। তাঁরা সেমিফাইনাল গেলে একটা চমক হবে।
     ৪ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ওপরের দিকে থাকা বাংলা ৮ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে এবারের মতো রঞ্জী অভিজান শেষ করেছে। অধিনায়ক মনোজের  ৬৪৩ বা সুদীপের ৫৫৭ বা শ্রীবৎসের ৪৯২ তাদের পরবর্তী পর্বে তুলতে পারেনি।দলের পক্ষে ৯ খানা শতরান হয়েছে। ৩৩৭ করে তামিলনাড়ুকে ৩১০/৯ করে দিয়েও তাঁরা ১ পয়েন্ট পায়। মাত্র ৯৭ তে বরোদা আউট করেও ম্যাচ হারে। বরোদা এবার লীগে শেষ স্থান পেয়েছে। মুম্বই কে যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭/৫ করে তখন কেউ ভাবেনি যে বাকি ৫ টা উইকেট ৫৪ ওভারেও তোলা যাবে না। সর্বোপরি গুজরাট ম্যাচ না হওয়াটা অভিশাপ হয়ে ২৬ তম বছর টানা রঞ্জী শূন্য করে দিল। অশোক দিন্দার ৩৯ উইকেট বা অমিত কুইলার ১৭ তম বাংলার খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট কোনও কাজে দিল না। ৪ ম্যাচে ১৭ উইকেট পাওয়া সায়ন কে কেন এত কম খেলা খেলানো হল কে জানে? “বহিরাগত” ওঝা ব্যর্থ। অরিন্দম ঘোষের হাওয়া ঈস্বরনের লেগে গেছে। প্রথম আর শেষ খেলা ছাড়া তাকে পাওয়া যায় নি।

  ভাল শুরু করেও পঞ্চম স্থানে পাঞ্জাব। দলটা পুরোপুরি যুবরাজ সিং নির্ভর। তাঁর ‘আম্লাপুরম’ খ্যাত হ্যাসেল কিচ কে বিয়ে করতে যাওয়া পাঞ্জাবের কাল হয়ে গেল। মাত্র ৫ ম্যাচে যুবরাজের রান ছিল ৬৭২। যা কল (৪৯৫),জীবনজ্যোৎ(৪৪৮) বা গুরকিরাত (৪২৯) ৮ ম্যাচেও করতে পারেনি।দলের পক্ষে ৭টা শতরান হয়েছে।এস কল একাই ৩৫ টা উইকেট নিয়েছে। মনপ্রীত গনি এবং এস শর্মা ২৩টা করে উইকেট নিয়েছে। 

মধ্যপ্রদেশ আর উত্তরপ্রদেশ এর অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁরা পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে ছিলই না। পরপর দুই রঞ্জীতে ধুমকেতুর মতো উত্থান হওয়া মধ্যপ্রদেশের শ্রীবাস্তব কে এবার খুজেই পাওয়া যায়নি। বুড়ো ঘোড়া বুন্দেলা (৫৫৫) বা আরও দুজন ৫০০ এর বেশী রান করলেও (ভাটিয়া ও শর্মা) মাত্র ৫ টা শতরান দেখাচ্ছে তাদের কি হাল।ঈশ্বর পাণ্ডে ৩২ আর শাকুরে ২৭টা উইকেট নেয় মধ্যপ্রদেশের হয়ে।আর উত্তরপ্রদেশের হয়ে এবারে ৭টি শতরান হলেও কেদার যাদব (৪৬৬) আর কেউ ৪০০র গণ্ডি পেরোয় নি। কুলদিপ যাদব ৩৫ টা উইকেট নিয়েছে

  রেল এবারও ব্যর্থ। গ্রুপে শেষের আগের স্থান তাঁরা পেয়েছে।এই শতাব্দির শুরুতে তাঁরা রঞ্জী ফাইনাল পরপর দুবার খেলে। বেশ কিছু খেলোয়াড় তাদের দলকে শক্তিশালি করেছিলো যেমন কার্তিক, পারিদা, বাঙ্গার যারা অনেকেই অবসর নেওয়ায় তাদের জায়গা পূর্ণ হয়নি। রেল আসা করা যায় এদিকে নজর দেবে। তাদের শুক্লা ও বাসকর ৬০০ এর বেশী রান করে এবং কে শর্মা ৩১ টা উইকেট পেলেও মাত্র ৪টি শতরান হয়। বোলিং বাকি কেউ কিছু করতে পারেনি।

    বিজয় হাজারের বরোদা  আতঙ্কিত করেছে ক্রিকেটপ্রেমী দের। অন্ততঃ যারা রঞ্জির ইতিহাস জানে তাদের তো বটেই। কয়েকবছর আগে হায়দ্রাবাদ ঠিক এই অবস্থায় পরেছিল। এবার বরোদা এই জায়গায় এসেছে।বাংলা ছাড়া তাঁরা কাউকে হারাতে পারেনি। যদিও হুডা একটি অপরাজিত ২৯৩ সহ ৭০৯ করেছে বা দেওধার ৬২২ করেছে কিন্তু কোনও বোলার দাগ কাটতে পারে নি শুধু শেঠ একটি ৭/৩৬ সহ ১৮ টি উইকেট নেয়। বোলিং বরোদা কে ডোবাল।

পরবর্তী পর্বে আসবে গ্রুপ বি এর কথা।



Thursday, 30 June 2016

জন উইজডেন, লিলিহোয়াইট এবং প্রথম টেস্ট

জন উইজডেন তার জীবদ্দশায় এই বার্ষিকীকে খুব একটা ভাল অবস্থায় দেখে যাননি। কারন তিনি বিভিন্ন বিষয়ে মেতে থাকতেন। লেমিংটনের একটা মাঠের সাথে তার ভাল মত যোগাযোগ ছিল। ১৮৫৯ সালে তিনি ইংল্যান্ডএর প্রথম কানাডা ও আমেরিকা সফরে যান। তার একটা তামাকজাত দ্রব্য এবং ক্রীড়া সরঞ্জামের ডিপো ছিল লন্ডনের হে মার্কেটে। তিনি নিজে ছিলেন একজন পেশাদার ফাস্ট বোলার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন। ফ্রেড লিলিহোয়াইট ১৮৪৯ সাল থেকে ক্রিকেটারস গাইড বলে একটা অ্যালমানাক বার করতেন। উইজডেন নিজে ১৮৫৫ থেকে ১৮৫৮ অবধি সেখানে যুক্তও ছিলেন। কিন্তু ১৮৬০ এর দশকে ফ্রেড কে সরিয়ে ক্রিকেটারদের ফান্ড ও ফ্রেন্ডলি সোসাইটির সম্পাদক হতেই সাথে সম্পর্ক বিগড়ে গেল। এ ব্যাপারে ইতিহাস বিদেরা খুব বেশি কিছু আলোচনা করেননি কারন লিলিহোয়াইট দের বই ১৯০০ সালে বন্ধ হয়ে যায় আর উইজডেনএর ব্যাপারে সবাইতো জানে। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়।
         ১৮৬৪ সালে উইজডেন প্রকাশ শুরু হল। ১৮৬৫ তে লিলিহোয়াইট দের বই তে লেখা হল উইজডেন সম্পর্কে যে একসময় তিনি ভালই ছিলেন। কিন্তু এখন নাকি "দেশের জন্য" তেমন কিছুই করছেন না। এই সংস্থার (লিলিহোয়াইট ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি) বই গুলি একটু সীমা ছাড়িয়ে ক্রিকেটারদের সমালোচনা করা হত। যদিও প্রথম "উইজডেন" ( যার আসল নাম ছিল ' The Cricketers almanac for the year of 1864 being Bissextile or leap year,and the 28th of the reign of Her majesty Queen Victoria) লিলিহোয়াইটের খুব একটা মাথা ব্যাথার কারন হয়নি। এই বই ডার্বি, ওকস এবং সেন্ট লেজারের ঘোড়ার রেস, চীনের ইতিহাস, গোলাপের  যুদ্ধ এই সব নিয়েও লিখেছিল। কিন্তু গোটা ১৮৭০ এর দশক ধরে লিলি হোয়াইটদের সাথে এটা রীতিমত ঠাণ্ডা লড়াই চালাচ্ছিল।
      ১৮৭৮ সালে যখন ইংল্যান্ড থেকে প্রথম প্রতিনিধিত্ব মূলক সফরে যাওয়া হল অস্ট্রেলিয়ায় তখন উইজডেনের সম্পাদক নাইট গোটা সফর কে নিয়ে লিখলেন বটে কিন্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আলাদা আলাদা অংশে। এবং যাকে  পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম টেস্ট ম্যাচ বলে ধরা হয়, তা প্রায় অনুল্লেখিত থেকে গেল।
এমনকি নাইটের মৃত্যু(১৮৭৯) এর পর যখন জর্জ ওয়েস্ট সম্পাদক হলেন তখনও ১৮৮০ সালের খেলা গুলির সাথে কয়েকটা মাত্র লাইন লিখলেন গোটা সফর কে নিয়ে।
    এখন প্রশ্ন হল কেন? কেউ কেউ বলেন যে ১৮৭২ সালের পরবর্তীকালে যখন সমুদ্রের তলাদিয়ে টেলেগ্রাফ লাইন পাতা হয় তার খরচা ছিল খুব বেশি ফলে উইজডেন তখন জাহাজ গুলিতে পাওয়া যায় এমন কাগজ ব্যাবহার করেতেন যেমন "লিডার", "অস্ট্রেলিয়ান", "স্পোর্টসম্যান" প্রভৃতি।
    আসলে তা নাও হতে পারে। সেই সময় উইজডেন দাবি করত যে তারা তাদের পুরোন প্রতিষ্ঠিত  প্রতিদ্বন্ধি দের প্রচার সংখ্যার নিরিখে পিছনে ফেলে দিয়েছে ঠিক তখন জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়র তার দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যান এবং সেখানে ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসএর যৌথ দলের বিরুদ্ধে যে ম্যাচ খেলেন তাই ১৮৯৫ সালে প্রথম টেস্ট ম্যাচের সন্মান পায়। যেহেতু লিলিওহোয়াইট এর দল তাই উইজডেন ঐ বিষয়ে কিছুই লেখেনি।
  ইতমধ্যে ফ্রেড লিলিহোয়াইটের মৃত্যু হওয়াতে (১৮৬৬) জন লিলিহোয়াইট তৈরি করেছেন "জন লিলহোয়াইট ক্রিকেটারস কম্প্যানিয়ন"। তারা আবার দাবি করত যে তাদের গ্রন্থ খেলাটির সর্ববৃহৎ বার্ষিকী অন্যান্য দের তুলনায়। আবার এও বলত যে বাকিরা নাকি "ফ্যাক্ট" এর প্রতি খুব একটা নজর দেয় না। ফলে তাদের ১৮৭৮ সালের সংস্করণে তারা ১৮৭৭ এর ঐ ম্যাচ গুলির পূর্ণ খবর ছাপে।
         ১৯০০ সালে তাদের প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলেও তাদের ভুত উইজডেন কে তাড়া করে বেড়াত। কারন ১৯৩০ সালে কেইন যখন সম্পাদক তখন উইসডেন দাবি করেছিল যে ১৮৭৭ সালের লিলিহোয়াইট বা ১৮৭৮-৭৯ সালের লর্ড হ্যারিসের দল কোনটাই ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারন প্রথম দল ছিল আর্থিক উদ্দেশ্যে তৈরি আর দ্বিতীয় দল চরম অপেশাদার। মনে রাখবে স্পফোর্থ  এই দলের বিরুদ্ধে হ্যাট্রিক করেছিল যা টেস্টে প্রথম বলে ধরা হয়।
  মজার ব্যাপার । এর ফলে ১৮৮০ সালের লর্ডস টেস্ট কে তাহলে প্রথম বলে ধরতে হয়। কিন্তু তা তারা কোনোদিন ধরেনি। ধরেছে কিন্তু ১৮৭৭ কেই । কারন? দীর্ঘদিন ধরে উইজডেনের পরিসংখ্যানবিদ ছিলেন সিডনি সাউদারটন। যার বাবা জেমস সাউদারটন ঐ ১৮৭৭ এর খেলায় ছিলেন ( মনে রাখবেন জর্জীয় যুগের যে কজন হাতে গোনা ক্রিকেটার টেস্ট খেলেছেন ইনি তাদের একজন।আজও সবথেকে বেশি বয়সে টেস্ট এ অভিষেকের রেকর্ড এর নামে আছে।)। এমন কি ১৯৭১ সালের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক খেলা কেও উইজডেন গুরুত্ব দেয়নি। সংক্ষিপ্ত স্কোর ছেপে ছিল। যাই হোক ১৮৮২-৮৩ সালের সফরে লিলিহোয়াইটরা ২৩ পাতা ছাপলেও উইজডেন এক পাতাও লেখেনি।
       ১৮৮৪ তে জন উইডেন অবিবাহিত অবস্থায় মারা গেলেন। তার ম্যানেজার হেনরি লাফ এর দায়িত্ব নিলেন। উইজডেন আস্তে আস্তে পেশাদার হল।
      অনেক পরে ১৯৭৭ সালে শতবার্ষিকী টেস্ট এর সময় তারা ব্রাকেটে ঐ টেস্টের সাথে ১৮৭৭ সালের ম্যাচের পুরো স্কোর ছাপে।
     

Thursday, 2 June 2016

দ্বাদশ ব্যক্তি (প্রথম পর্ব) ------ লেখক অজ্ঞাত---- প্রথম প্রকাশ বয়ে'জ বুক অফ ক্রিকেট - ১৯৫৩ অনুবাদ - সুমিত গাঙ্গুলী

  জন বেকার , স্কুলের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, তাড়াতাড়ি হাঁটছিল, দাঁড়িয়ে পড়ল ফিল ক্রসকে সামনে দেখে।
            "কি ব্যাপার?" সে জিজ্ঞাসা করল।
    " দল তৈরি হয়ে গেছে?"--- ফিল ওর সাথে যেতে যেতে জিজ্ঞাসা করল।
   " হয়ে গেলে বোর্ডেই দেখতে পেতে"
   "এখনি কি দল বাছা হবে?"---
  "হ্যাঁ। কেন?"--
   "ও"--- ফিল বলল --" আসলে আমাকে নেবে না এটা আমি জানি। যাই হোক, তবু তোমাকে বলি-- আ-আমি খেলতেও চাই না"
        ক্যাপ্টেন দাঁড়িয়ে পড়ল।
" তুমি বলতে কি চাও বলত?"
"আমি আগামিকাল খেলতে চাই না"
"বাহ! বেশ প্রশংসনীয়"- জন বলল।"তার মানে দলে রাখলেও তুমি খেলবে না।"
" না না ---- তা বলিনি। দলে রাখলে খেলব। আসলে আমি চাই না আমাকে দলে রাখা হোক।"
"কেন?"
"দলে রাখার যোগ্য আমি নই।"
"সেটা নির্বাচন সমিতি সিদ্ধান্ত নিক।"
"আমি জানি -কিন্তু- যাই হোক আমি নিশ্চিত।আমি দলে থাকলে একজন যোগ্য খেলোয়াড় বাদ পড়বে।"
"ঠিক কার কথা বলছ তুমি?"
ফিল একটু ইতস্ততঃ বোধ করল---
"তুমি জান আমি কার কথা বলছি" সে বলল-" মানে এমন নয় যে মরিস আমার খুব ভাল বন্ধু।ও সত্যিই আমার থেকে ভাল খেলে"।
"স্বীকার করছি ওর খেলার মধ্যে একটা সাবলীলতা আছে" জন বলল- "কিন্তু ব্যাপারটা আমাদের কে ছেড়ে দাও কে সেরা"।

 
      বাকি নির্বাচন সমিতি জনের অপেক্ষায় ছিল।"আমার মনে হয়না বেশিক্ষন লাগবে"-সে বলল-"দল তো  তৈরিই আছে"।
 ড্যান হোমস - সহ-অধিনায়ক মাথা নাড়ল- " আগেরবারের মতো"-" দরকার শুধু বব টারনারের বিকল্প,যতক্ষণ না সে সারছে"।
  " সারবে না"--- মিস্টার ওয়েব বললেন,তিনি ক্রীড়া শিক্ষক, নির্বাচনী সভার পরামর্শদাতা, ভোট দেননা।"আমি এক্ষুনি ডাক্তারের সাথে কথা বললাম, সেতো বলল কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আর আমার ভয়" --- চিন্তিত ভাবে বললেন "আদৌ বাকি মরসুমে ওকে পাবো কিনা"।
   "তবে"---- বিড়বিড় করল কমিটির তৃতীয় সদস্য পিটার স্টোন।
"তবে টা শুধু ওর না...... আমাদের জন্যও বটে"। জন বলল-- "সমস্যা, আর কেউ তেমন আছে কি যে প্রথম দলে খেলতে পারবে?"
          "ফিল ক্রস"- ড্যান বলল।
         "মরিস থরপ"--- পিটার বলল, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই।
        " ফিল ভাল ব্যাট করে"--- ড্যানের যুক্তি।
   " বিরাট কিছু না"---- পিটার বলল- "মরিস অনেক ভাল ফিল্ডার,সামান্য বলও করে"।
"আমাদের ওর বোলিং এর দরকার নেই" --জন বলল।"ওটা প্রথম দলের মানের নয়"।
"তাহলে মনে হয় ফিলই ঠিক আছে" -----ড্যান বলল।"আমরা তো মেনে নিয়েছি ও ভাল ব্যাট করে"।
    "ওতে এমন কিছু বাহাদুরি নেই"---- পিটার বলল---"মরিস অনেক ভাল স্লিপ ফিল্ডার-স্কুলের সেরা- আর সবাই জানে---ক্যাচেস উইন ম্যাচেস"।
"ফিল খারাপ ফিল্ডার না"--- ড্যান প্রতিবাদ করল।
পিটার মাথা নেড়ে বলল " জানি ও প্রথম দলের যোগ্য কিন্তু তাও বলব যে মরিস ওর থেকে ভাল। ওর ফিল্ডিং ১০-২০ রান আটকে দেবে। ফিল ভাল ব্যাট করবে কিনা এটা বলা মুস্কিল"।
      সবাই খানিক চুপ।
"তোমার কি মত বেকার?"--- মিস্টার ওয়েব জিজ্ঞাসা করলেন।
"আমি ঠিক করতে পারিনি" জন আস্তে আস্তে বলল,"কোনও সন্দেহ নেই ফিল ভাল ব্যাট করে,আর মরিস অনেক ভাল ফিল্ডার"----"প্রশ্ন হল কাকে নেব? আপনি কি ভাবছেন স্যার?"
"আমি বলতে চাই না যদিও" ক্রীড়া শিক্ষক বললেন" যা বললে সবই ঠিক, যদি বল ......... ভাগ্য ভাল আমি ভোট দিই না... তবুও থরপই সঠিক, ও ভাল ফিল্ডার "।
" ফিল খুব একটা খারাপ না" ড্যান আপত্তি করল।
"আমি জানি"---- মিস্টার ওয়েব বলল" ও একজন সাবলীল ফিল্ডার,কিন্তু থরপ ওর থেকেও সাবলীল, ও ক্রিকেট পাগল, এটা ওর বাবারই দোষ"।
    "দোষ?" ---জন আহত হল একটু যেন।
    মিস্টার ওয়েব হেসে উঠলেন," তুমি ওর ক্লাসে গিয়ে কথা বল- যে কোনও বিষয়ে, ও ক্রিকেট ছাড়া কিছু বঝে না। ওর রক্তে ক্রিকেট, তাই বোধ হয় ও অত ভাল ফিল্ডার, ওর ফিল্ডিং দেখলেও অনেক কিছু শেখা যায়"।
       কিছুক্ষন সবাই চুপ।তারপর জন ধিরে ধিরে বলল" জানি আমরা আর একটা ব্যাপার ভেবে দেখতে পারি কিনা----- ফিল কিন্তু দলে থাকতে চায় না"।
          "কী?" ড্যান আর পিটার চমকে উঠলো।
 জন সব কিছু খুলে বলল।তারপর বলল " এটা বোঝাই  যাচ্ছে যে ওরা খুব ভাল বন্ধু আর ফিল জানে এই ম্যাচ নিয়ে মরিসের আগ্রহ কত। ওর বাবা ওল্ড বয়েসের ক্যাপ্টেন--- আর এটাই আসল ব্যাপার নয় কি?"
" ওর বাবা এটা শুনলে খুশি হবে না যে তার ছেলেকে এই কারনে দলে নেওয়া হচ্ছে"---মিস্টার ওয়েব বললেন।
  " আমি জানি,এটা আমি বলতামও না যদি না ফিল আমাকে বলত, প্রশ্ন হল আমরা কি এমন কাউকে দলে নেব যে খেলতে চায় না?"
" ও খুবই দয়ালু"---- ড্যান বলল" ও বলেনি যে দলে রাখলে খেলবে?"
"হ্যাঁ" জন বলল - একটু চুপ করে বলল--- "ভোট হক","ফিল ক্রসের পক্ষে?"
"আমি" -ড্যান বলল।
"মরিস থরপ?"--
"আমি "---পিটার বলল।
ওয়েব বললেন" আমার দিকে দেখ না , কাস্টিং ভোট দাও জন"
জন বলল "আর একটা ব্যাপার হতে পারে"।"দু জনকেই নেটে ট্রায়ালে ডাকলে কেমন হয়?"
" ভাল হয় "---মিস্টার ওয়েব বললেন।
"কিন্তু পাব কোথায় ওদের?"
"নোটিস বোর্ডের দশ গজের মধ্যে"   অধিনায়ক বলল।

জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারসঃ পরিসংখ্যানে প্রথম যুগ

শতরানঃ জেন্টলম্যান- ১
             প্লেয়ারস- ৭
অর্ধশতরানঃ জেন্টলম্যান- ২৫
                   প্লেয়ারস- ৩৫
     
           সর্বচ্চো-দলগত - 
       প্লেয়ারস রা ৩০০ এর বেশি রান করেছে মোট ৭ বার। সবথেকে বেশি ৩৯৪ রান ১৮৬০ সালে লর্ডসে একমাত্র ইনিংসে। 
      জেন্টলম্যান কোনওবারই ৩০০ করতে পারেনি।২৭৬ রান সবথেকে বেশি। ১৮৬২ সালে ওভালে প্রথম ইনিংসে।
      
          সেই যুগে ১০০ এর কমে দল হামেশাই আউট হত। তাই সর্বনিম্ন হিসেবে ৫০ রানকে মাপ কাঠি করলে দেখা যাচ্ছে যে অপেশাদাররা ৮ বার ৫০ এর কমে আউট হয়েছে। সবথেকে কম ৩১। ১৮৪৮ সালে লর্ডসে প্রথম ইনিংসে। পেশাদাররা মাত্র তিন বার ৫০ এর কম করেছে। সর্বনিম্ন ২৪। ১৮২৯ সালে লর্ডসে প্রথম ইনিংসে।
     
    ৫ উইকেট ও এক ইনিংসে অনেক বার হয়েছে। তাই ৭ উইকেটকে মাপকাঠি করলে দেখা যাবে যে দু দলের হয়ে মোট ২১ বার ৭ উইকেট হয়েছে। যার মধ্যে প্লেয়ারসদের  ১৪ বার আর জেন্টলম্যান ৭ বার। একা লিলিহোয়াইট ১০ বার এই কাজ করেছেন। ৯ বার প্লেয়ারস আর ১ বার জেন্টলম্যানের পক্ষে।
    
  ম্যাচে ১০ উইকেট ২৩ বার। প্লেয়ারস দের পক্ষে ১৫ বার । জেন্টলম্যানদের পক্ষে ৮ বার। লিলিহোয়াইট প্লেয়ারসদের জন্য ৭ বার আর জেন্টলম্যানদের জন্য ১ বার করেছেন।
   
              যাই হোক।এই সময় থেকে এই খেলা জাকিয়ে বসে এবং এই খেলার জন্যই ক্রিকেট ভিক্টোরীয় যুগে ইংল্যান্ডের জাতীয় খেলা হয়ে যায়। পরবর্তী প্রায় ৮৫ বছর এই খেলার গুরুত্ব ছিল মারাত্মক। কিন্তু ১৯৫০ থেকে এই খেলা গুরুত্ব হারায়। ঐ সময় কে নিয়ে পরে অবশ্যই লিখব। 

Tuesday, 24 May 2016

জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারসঃ প্রথম যুগ নিয়ে আরও কিছু কথা

জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারসের খেলা শুরু হয়েছিল ১৮০৬ সালে তা আগেই বলেছি। এই খেলা নিয়ে আগেই দুটি পোস্ট করেছি।এখন যা পরে থাকছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বহুল বিষয় যা একই সাথে চমকপ্রদও বটে।
    জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারসদের খেলার প্রথম যুগ অর্থাৎ ১৮০৬ সাল থেকে ১৮৬৪ সাল অবধি ছিল প্লেয়ারসদের দাপট।এই সময়ে জেন্টলম্যান দল খুব একটা ভাল খেলেনি।বহু ক্ষেত্রে প্লেয়ারসদের থেকে খেলোয়াড় নিয়ে দল পূর্ণ হত।একথাও ঠিক যে সমান সমান সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে তারা মাত্র ৭টা ম্যাচ জেতে।
   প্রথম ম্যাচেই প্লেয়ারস বেলদ্যাম ও ল্যাম্বারট কে জেন্টলম্যান দলে নেওয়া হয়।এই খেলায় হ্যাম্বলডনের ৫ জন খেলোয়াড় খেলেন, এরা ছিলেন যথাক্রমে ওয়াকার,স্মল,রবিন্সন,বেলদ্যাম ও নাইরেন।এই সেই নাইরেন যে “Cricketers of My age” গ্রন্থ লিখে হ্যাম্বল্ডন কে অমর করেছেন।ল্যাম্বারট অর্ধশতরান করেন যদিও তিনি প্লেয়ারস কিন্তু খেলেন জেন্টলম্যানদের হয়ে।খেলাটা হয়েছিল পুরোনো লর্ডসে মানে ডরসেট স্কোয়ারে। ঐ বছরই দ্বিতীয় খেলা হয়। তাতে ব্যুক্লার্ক প্রথম অ্যামেচার হিসেবে অর্ধশতরান করেন।
  তৃতীয় ম্যাচে প্লেয়ারসদের পৃষ্ঠপোষক লর্ড স্ট্যাথাভ্যানকে প্লেয়ারস দলে খেলানো হয়। এই ম্যাচেই প্রথম খেলতে নামেন প্লেয়ারসদের প্রথম শতরানকারি বেগলি আর জেন্টলম্যানদের প্রথম শতরানকারি কিংবদন্তী খেলোয়াড় উইলিয়াম ওয়ার্ড।এই খেলা হয় প্রায় ১৩ বছর পর ১৮১৯ সালে নতুন লর্ডস মাঠ মানে সেন্ট জন’স উডে।অনারেবল হেনরি সিসিল লোদার (উলস্টারের প্রথম ভাইকাউন্টের পূর্বপুরুষ- যিনি ১৯২২ সালে এম সি সির সভাপতি হন)। প্লেয়ারস দের হোয়ারড এই খেলায় ৮ উইকেট নেন।বেগলি ৭৫ রান করেন,শেরম্যান করেন ৫২(সবই প্লেয়ারসদের হয়ে,জেন্টলম্যানদের বার্ড ৪টে স্ট্যাম্প করেন ও ২টি উইকেট নেন।
  যাইহোক পঞ্চম খেলা হয় ১৮২১ সালে(চতুর্থ খেলা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমি শুধু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ে আলোচনা করব)।মনে হয় এই খেলাটা হয়েছিল চতুর্থ জর্জের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে। তিনি প্রিন্স অফ ওয়েলশ থাকার সময় ভাল ক্রিকেট খেলতেন তার ঠাকুরদার মতো(ফ্রেডরিখ প্রিন্স অফ ওয়েলশ, যিনি পেটে বল লেগে টিউমার ফেটে মারা যান)। মজার ব্যাপার মেরিলিবোরন এর প্রথমদিকের ম্যাপে এই মাঠ মানে সেন্ট জন’স উডের নাম হল প্রিন্স অফ ওয়েলশ গ্রাউন্ড।ডাবলু সি পায়ার যিনি প্লেয়ারদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন তিনি এই ম্যাচে প্লেয়ারস দলে খেলে।এর কারন বোধহয় হ্যানভারিয় ঐতিহ্যের “ম্যাচ ফিক্সিং”(আজকের ভাষায়) বন্ধ করার চেষ্টা।ম্যাচ ড্র হয়। বেগলি শতরান করেন। পরের বছর প্রথমবার দুপক্ষ সমান দল নিয়ে খেলে।
   ১৮২৫ সালে নবম খেলা ছিল চার দিনের। ১৫৬ বছরে ২৭৭টি প্রথম শ্রেণির খেলার মধ্যে এই একটি ছিল চার দিনের ম্যাচ।এই খেলায় উইলিয়াম ওয়ার্ড ১০২ রান করেন। পরের ৪২ বছর জেন্টলম্যান দলের হয়ে আর কেউ শতরান করেননি। প্লেয়ারসদের সন্ডারস ৯৯ রান করেন। জেন্টলম্যান ছিল ১৬ জনের দল মানে তাদের ১৫ উইকেট পড়লে তবে অল আউট হবে। এই খেলায় বারনেট, বার্নার্ড, কিংস্কট, ডিডেস(সবাই জেন্টলম্যান দলের) পরবর্তী কালে এম সি সির সভাপতি ছিলেন।এই খেলা এবং এর পরের বছর জেন্টলম্যান দল জিতে যায়।পরের বছর মানে ১৮২৬ সালে তারা ১৭ জনের দল নিয়ে নামে(মনে রাখতে হবে, এই গুলো সব প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হিসেবেই ধরা হয়)।
  ১৮২৭ সালে প্লেয়ারসদের সন্ডারস শতরান করেন (পুরো ১০০)। এবার জেন্টলম্যান ১৭ জনের দল গড়ে হেরে যায়।তাদের হয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সী এম সি সির সভাপতি কিংস্কট খেলেন। ইনি উইলিয়াম দ্য কংকয়ারার এর ভাইঝি ইভের বংশধর ছিলেন।গ্লস্টারশায়ারের কিংস্কট ক্লাব এঁদের নিজেদের ক্লাব ছিল।
     ১৮২৯ সালের খেলায় দেখছি প্লেয়ারসদের ব্যাটিং স্কোরশিটে ক্যাচ ও স্ট্যাম্পএর সাথে বোলারদের নাম আছে। কিন্তু জেন্টলম্যানদের ইনিংসে নেই।প্লেয়ারদের লিলিহোয়াইট জেন্টলম্যানদের হয়ে খেলে প্লেয়ারসদের ১২টা উইকেট নিয়েছিলেন।
 ১৮৩২ সালের ১৫তম খেলায় জেন্টলম্যান দলে ভিনসেন্ট কটন নামে এক বিখ্যাত জুয়াড়ি খেলেছিলেন(ইনি অনেকগুলো ম্যাচ খেলছেন যাকে প্রথম শ্রেণি ধরা হয়, এমনকি নিজের নামে দল করেও খেলেছেন)।
  ১৮৩৩ সালে শেষবারের মত এম সি সির তৎকালীন সভাপতি এই খেলায় খেলেন। তখনকার দিনে সক্রিয় অ্যামেচার ক্রিকেটাররাই এম সি সির সভপতি হত।যাই এই ব্যক্তি অর্থাৎ জেনার ৯৯ বছর বয়সে ১৯০৪ সালে মারা যান। প্রথম যুগের জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস খেলার একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিংশশতকে কিছুদিন জীবিত ছিলেন।এই খেলাতেই হেওয়ারড পরিবারের প্রথম কেউ অংশ নেন।
পরের বছর সেই যুগের মহান উইকেট রক্ষক টম বক্স প্রথম খেলেন। বিখ্যাত ব্যাটসম্যান ফুলারপিচ ৬০ করেন প্লেয়ারসদের হয়ে।
১৮৩৬ সালের ১৯ তম ম্যাচ ছিল ঐতিহাসিক। প্রথম আধুনিক স্কোর পাওয়া যাচ্ছে।
 ১৮৩৭ সালের খেলা বেশ মজার।প্লেয়ারসরা ব্যাট করতে নামে ৪টে করে স্ট্যাম্প নিয়ে। সেগুলি আকৃতিতেও বিরাট। ৩ ফুট লম্বা আর একফুট বেধ। মানে বল ফসকালেই আউট। কিন্তু জেন্টলম্যান খেলতে নামে তিনটে উইকেট নিয়ে যা স্বাভাবিক মানের অর্থাৎ ২৭ ইঞ্চি লম্বা আর ৮ ইঞ্চি বেধ। উইলিয়াম ওয়ার্ডের এই অদ্ভুত নিয়ম সত্বেও প্লেয়ারস(৯৯ রান) এক ইনিংস ও ১০ রানে জেতে। লিলহোয়াইট প্রথম এক ইনিংসে ৯ উইকেট নেয়(ম্যাচে ১৩টি)।এই ঐতিহাসিক খেলার নাম “বান ডোর” ম্যাচ(প্রথম শ্রেণি)।
ঐ বছরের জুলাই মাসের শেষে ২১ তম খেলা হয় রানী ভিক্টোরিয়ার রাজ্যাভিষেকের সন্মানে। ১৬ জন জেন্টলম্যান দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১৬ রান করে (মানে ৩০ উইকেটে)। লিলিহোয়াইট একাই ১৮টি উইকেট নেন। তার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ খানা(প্রথম শ্রেণির খেলায় এটাই নাকি প্রথম ১০ উইকেট)।
   পরের বছর উইলিয়াম ওয়ার্ড খেলা ছেড়ে দেন ঠিক ৫১ বছর বয়সে। গ্রেস ও এই বয়সে টেস্ট ও লর্ডসের জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস খেলা ছেড়ে দেন।যাই হোক এই খেলার জন্য ওয়ার্ডের অবদান কেউ ভুলবে না।১৮২৫ সালে যখন লর্ডসে আগুন লাগে তখন তাকে পুনরায় খেলার জন্য প্রস্তুত করায় তার ভূমিকা ছিল বিরাট।উল্লেখযোগ্য এই আগুনেই হ্যাম্বলডনের সেই কাঠের মধ্যে আঁচড় কাটা স্কোর গুলি পুড়ে যায় যা ক্রিকেটের ইতিহাসের বিরাট ক্ষতি।
১৮৪০ সালের খেলা(২৪ তম খেলা)কে “আউট অফ ফ্লেভার” বলা হয়েছিল। আসলে জেন্টলম্যানরা বারবার হেরে যাওয়ায় “লেগস”(মানে তখনকার “বুকি”)রা উৎসাহ পাচ্ছিল না।যাই হোক প্রথম ওভার সহ উইকেট এর হিসেব(রান ছাড়া) এই ম্যাচ থেকেই পাওয়া যায়।
 ১৮৪২ সালের ২৬ তম ম্যাচ থেকে পাক্কা কুড়ি বছর পর জেন্টলম্যান দল “অড” ছাড়া (মানে ১১ জনের বেশি দল) প্রথম জয় পায়। ফেলিক্সের ৮৮ রান ও ৯ উইকেটই এর কারন।
১৮৪৪ সালের খেলায় ২৮ তম ম্যাচে ‘মেডেন’ ওভার ছাড়া পুরো বোলিং এর হিসাব প্রথম পাওয়া যায়।
১৮৪৬ সালের খেলায় ১৮৬৫ সাল অবধি খেলা জর্জ পার এবং “Cricket scores and biography” গ্রন্থের লেখক হোগার্ড প্রথম খেলেন।
 ১৮৪৮ সালে (ঐ বছর যখন ম্যাচ খেলা হয় তার দু সপ্তাহ বাদে ডাবলু জি গ্রেস জন্মান) যে ম্যাচ খেলা হয় তাতে আর টি কিং দ্বিতীয় ইনিংসে পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ৩ টি ক্যাচ লোফেন। এই পয়েন্ট কিন্তু আজকের পয়েন্ট নয়। এটা পুরনো পয়েন্ট। উইকেটের খুব কাছে স্কোয়ার অফ উইকেট দাঁড়াত ফিল্ডার।এই পজিশনটা আজ উঠে গেছে। ই এম গ্রেস এখানেই দাঁড়াত। ডাবলু জি গ্রেস ১৮৮০-৯০ সাল নাগাদ কয়েকটা টেস্ট ম্যাচে এইখানে দাঁড়ায়। সেই যুগে ট্রট,নোবল,অস্ট্রেলিয়ার লেভার,ডার্বিশায়ারের রাইট এখানে ভাল ফিল্ডিং করত।এই খেলায় জন উইসডেন প্লেয়ারস দলের হয়ে খেলন(উইডেন অ্যালমানাকের জন্মদাতা)।
  পরের বছর লিলিহোয়াইট ও ফুলারপিচ শেষবার খেলেন।
  ১৮৫৪ সালে ৪০তম খেলায় শেশবার খেললেন স্যার ফ্রেডরিখ বাথারড। ২৩ বছর ধরে তিনি ৭৩টা উইকেট নেন জেন্টলম্যানদের জন্য।এই বছর কোনও অল ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের উইলিয়াম ক্লার্ক খেলতে দেননি।তিনি ও টম বক্স তার আগের বছর শেষ খেলেছিলেন।
১৮৫৬ সালে সারের জুলিয়াস সিজারের অভিষেক হয় এই খেলায়। এডগার উইলক্সশায়ার ও ঐ বছর প্রথম খেলেন।
 ১৮৫৭ সালে ওভালে প্রথম জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস প্রথম খেলা হয়।চার বছর এখানে জেন্টলম্যান জিততে পারেনি।সারের সি জি লোর প্রথম খেলে।
 ১৮৬০ সালে ৩৩ বছর পর ওভালে প্লেয়ারস দের কারপেন্টার ১১৯ করে শতরান করেন। ঐ বছর ফিরতি খেলায় লর্ডসে ৫০ তম ম্যাচে ক্যাফিন প্লেয়ারসদের হয়ে ১০২ করেন।পরের বছর কারপেন্টার ১০৬ রান করেন।তার পরের বছর ১৮৬২ সালে লর্ডসে ই এম গ্রেস জেন্টলম্যানদের হয়ে খেলতে নামেন।বাবার রাস্তা ধরে জন লিলিহোয়াইট প্লেয়ারসদের হয়ে ২৯ রানে ৮ উইকেট নেন।
১৮৬৩ সালের হেওয়ারড ১১২ করেন। ই এম গ্রেস লর্ডসে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন। তিনি ঐ বছর ওভালেও ১০১ রানে ৫ উইকেট নেন।
১৮৬৪ সালে পেলহ্যাম ওয়ারনারের মতে প্রথম বা আদি যুগের শেষ বছর প্লেয়ারসদের স্টিফেন্সন ১১৭ রান করে ওভালে। পুরো ম্যাচে ১০০০ এর বেশি রান ওঠে। লর্ডসে জেন্টলম্যানদের আর্করাইট ৩৮ রানে ৭ উইকেট নেয়। তিনি ১৮৬৬ সালে ম ব্লাতে তুষারধ্বসে মারা যান।
  পরের পোস্টে থাকবে প্রথম যুগের কিছু পরিসংখ্যান।  


Wednesday, 18 May 2016

জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারবঃদ্বিতীয় পর্ব

বেটিং, দুর্নীতি এবং পেশাদারিত্ব এই ছিল জর্জীয় বা হ্যানভারিয় যুগের ইংলিশ ক্রিকেট। ভিক্টোরীয় যুগ প্রথম দুটিকে বাদ দিয়ে তৃতীয়টিকে নিয়ে পথচলা শুরু করে যদিও পেশাদারিত্বের চেহারা কিন্তু জর্জীয় যুগেরই ছিল। যদিও এই পেশাদারিত্ব ছিল তাদের কাছে গলার কাঁটা। এবং এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে পেশাদাররাই ভিক্টোরীয়দের খেলা শেখায় এবং খেলাটিতে বিপণন যুক্ত করে। পেশাদাররা না থাকলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট জিনিসটার জন্ম সম্ভব হত না।
  পেশাদারদের চাকরের চোখে দেখা হত, এবং অধিকাংশ বোলাররা উঠে এসেছিল (বিশেষতঃ ফাস্ট বোলাররা) পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে, ফলে ধারনা হয়ে গিয়েছিল যে প্রভুরা ব্যাট করেন, আর চাকরেরা বল করে। আজও ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের প্রাধান্য এই কারনে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত যাবতীয় সবকিছু বোলিংকে ঘিরে বা ফিল্ডিংকে ঘিরে।  
  শ্রেণি বৈষম্য এই কারনে সাঙ্ঘাতিক ভাবে চোখে পরে এই জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস খেলা কে ঘিরে।
  যাই হোক আমরা আবার খেলায় ফিরি। বেশ কিছু ভাল উইকেট-কিপার খেলতেন যেমন বক্স,লকেয়ার,ডাকওয়রথ, স্ত্রাডউইক,স্মিথ,অ্যামেস...এরা সবাই পেশাদার,আবার জেন্টলম্যান দলে খেলত রাইডিং,রাউন্ড,নিউটন,ম্যাকগ্রেগররা।
       বিশ শতকে অস্ট্রেলীয় দলের সাথে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে যায়, ফলে ওভালের খেলা ১৯৩৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় যদিও লর্ডসে ১৯৬২ সাল অবধি চলেছিল।
  হবস ১৯০৫ সালে প্রথম শ্রেণি খেলা শুরু করেন যে সময়কে ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের শেষ পর্যায় বলা হত।যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাথে সাথে সমাপ্ত হয়ে যায়।এই সময় আমরা কিছু মহান পেশাদার খেলোয়াড়দের নাম পাই যেমন স্রসবেরি,গুন,অ্যাবেল,লকউড এবং মহান অ্যামেচারদের নাম ও উঠে আসে যেমন ম্যাকলারেন,জ্যাকসন(সেই বাংলার গভর্নর),রঞ্জী,বসাঙ্কয়েট(গুগলি বলের জন্মদাতা) প্রভৃতি।
 এই যুগের মহান পেশাদার বোলাররা ছিলেন ফ্রিম্যান,মরিসটেট,হ্যাডলি ভেরিটি,বিল ভোস এবং হ্যারল্ড লারউড। একথাও বলা চলে যে সিম্পসন বা এডরিচ আসার আগে অবধি জেন্টলম্যান দলে ভাল ব্যাটসম্যান সেই অর্থে ছিল না।
 বেশ কিছু বড় মাপের অলরাউন্ডার ছিল এই সময় যেমন গাবি অ্যালেন,রবিন্স।
এবার কিছু স্মৃতিচারণা। প্রথম ম্যাচের (১৮০৬) দিকে তাকালে দেখতে পারব যে টি ওয়াকার,বেলডাম আর স্মল সেই হ্যাম্বল্ডন যুগের লোক।এবং জন নাইরেন তো সেই হ্যাম্বলডন কে অমর করেছিলেন “ক্রিকেটার অফ মাই টাইমস” বই লিখে, তিনিও খেলেছিলেন। ছিলেন বুক্লার্ক যিনি প্রথম জেন্টলম্যান দলের হয়ে ৫০ রান করেন।

  সেখান থেকে আমরা এই যুগে এলে পাবো হবসকে যিনি বিশ্বযুদ্ধ পূর্ব যুগের ক্রিকেটের সাথে সেতু ছিলেন।এবং সেখান থেকে সর্বশেষ খেলায় ট্রুম্যান,ব্যারিংটন,ক্লোস ...তারপর ...... বিশ শতকের আধুনিক ক্রিকেটের যুগে গা ভাসিয়ে বিদায় নিল গ্রাম্য খেলা ক্রিকেটকে জাতীয় খেলাতে পরিনত করার সর্বাপেক্ষা বড় অবদান ছিল যে ম্যাচের ...যে খেলায় অংশ নিতে পেরে ধন্য হতেন মহান ক্রিকেটাররা সেই “জেন্টলম্যান ভার্সেস প্লেয়ারস”...। 

Tuesday, 17 May 2016

জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস

যতদূর জানা যায় যে জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস খেলা প্রথম হয়েছিল ১৮০৬ সালে লর্ডসে। পরে অবশ্য অনেক জায়গাতেই হয়েছে। তবে হ্যাঁ, ওভালের যে খেলা গুলি হয়েছিল (তা মোটামুটিভাবে ১৮৫৭ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে- এবং অবশ্যই ১৯৩০-১৯৩৩ সালের সংক্ষিপ্ত পর্বের ছেদ ঘটার সময়কে বাদ দিলে) তাকে লর্ডসের খেলারই একটি বিশেষ সংস্করণ বলা যায়। যদিও অতিরিক্ত ক্রিকেটের জন্য প্রকৃতপক্ষে পরবর্তীকালে সমস্যা হয় এবং ম্যাচ গুলি খুব একটা প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল না।
     কিন্তু লর্ডসের খেলা সবসময়েই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার আগে।এই খেলায় আমন্ত্রন পাওয়া ছিল সর্বদা বিশেষ ভাবে সম্মানের। আর এইচ লিটেল্টন লিখেছেন “In conclusion, let us express a hope that the Gentlemen and Players match will never fall through; for , having been played on and off since 1806,it has a notable history, and it ought to be the summit of ambition of every cricketer, be he amateur or professional, to appear in the great classic contest.
   ১৮০৬ সালের আগেও এই ধাঁচের খেলা আয়োজন করার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু তা আদৌ হয়েছেইল কিনা তা নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। বলা হয় ১৭৯৮ সালে জেন্টলম্যান বনাম কমনারস নামে খেলা হয়।আর দুটি খেলা মোসলে-হারস্ট এবং কক্সহেচ নামে আরও দুই জায়গায় হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বোধহয় হয়নি।
       অ্যামেচার শব্দটি ফরাসি শব্দ যা ইংরেজি ভাষায় খেলাধুলা সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে যুক্ত হয় ১৮০৪ সাল থেকে। বহু বছর আগে থেকেই ক্রিকেট সংক্রান্ত ক্লাব গুলোর খরচ-পাতির তালিকায় “ খেলোয়াড়দের পেমেন্ট” নামে আলাদা হিসাব থাকত। যদিও “পেশাদার” বলতে বিশ শতকের প্রথমে বা উনিশ শতকে যা বলত তা এটা নয়। এমনকি আজকের দিনেও “পেশাদার ক্রিকেটার” ব্যাপারটা অনেক ভিন্ন।  
    যাই হোক প্রথম যুগে যখন বেটিং বৈধ ছিল তখন “খেলোয়াড়” মানে প্লেয়ারস দের দাপটে খেলা কৌলীন্য হারাচ্ছিল। শুধু সামান্য কিছু “ জেন্টলম্যান” খেলা অন্যরকম করে তুলত যার মধ্যে একজন ছিলেন উইলিয়াম ওয়ার্ড।যিনি লর্ডস কে “বিল্ডারস” দের হাত থেকে বাঁচান। ১৮২৮ সালে তার করা ২৭৮ রান ১৮৭৬ অবধি প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান ছিল। এই রান তিনি করেছিলেন এম সি সি এর পক্ষে নরফোকের বিরুদ্ধে(নরফোক এখন প্রথম শ্রেণি খেলে না, মাইনর কাউন্টি দল)। 
  লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে ১৮০৬ থেকে ১৮৬৫ অবধি জেন্টলম্যান দল মাত্র ১৫টি খেলায় যেতে। ১৮৫৩ সাল থেকে শেষ ১২ বছর একটাও জেতেনি,১৮৩৭ থেকে মাত্র ৭টি জিতেছিল। কিন্তু ১৮৬৫ থেকে পুরো ব্যাপারটা আলাদা হয়ে যায়। পরবর্তী ১৮ বছরে তারা হেরেছিল মাত্র ৭টি ম্যাচ কারন “একমেবঃদ্বিতিয়ম” উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস।
    পৃথিবীর কোনও ধরনের প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায়  গ্রেসের মত অলরাউন্ড দক্ষতা খুব কমই আছে। ৬০০৮ রান,২৭১টা উইকেট।যাই হোক গ্রেস লর্ডসের ম্যাচ খেলা ১৮৯৯ সালেই ছেড়ে দেন, যদিও ওভালের খেলায় ১৯০৬ অবধি তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
আবার মজার ব্যাপার ১৮৮০ বা ১৮৯০ এর দশকে প্লেয়ারসরা ৬ জনের কম বোলার নিয়ে খেলেছে খুব কম। কখনবা ৭ এমনকি ৮ জন বোলার নিয়েও খেলেছে। জেন্টলম্যান দলে চিরকাল ভাল ব্যাটসম্যানরা খেলে গেছেন যেখানে পেশাদাররা বোলিং সবসময়েই ভাল করেছেন।
   এবার আশা যাক অনন্য কিছু কৃতিত্বে। ১৮৭৫ সালে গেস ছিলেন মারাত্মক ফর্মে। তিনি ঐ বছর ১৪৯৮ রান করেন আর ১৯২টা উইকেট নেন। বহুদিন পরে ১৯০৬ সালে জর্জ হার্স্ট ২৩৮৫ রান করেন আর ২০৮টা উইকেট নেন। ১৯৩৭ সালে পার্কস সেই রেকর্ড ভেঙ্গে দেন ৩০০৩ রান আর ১০১ উইকেট নিয়ে। যাই হোক ঐ ১৮৭৫ সালে গ্রেস লর্ডসে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫২ রান করেন আর ১২৫ রানে ১২ উইকেট নেন।
    যাই হোক ১৮৯০ থেকেই সব বদলাচ্ছিল। গ্রেস তার একটি রচনায় লেখেন (১৮৯০ সালে)-“The professional are now the equals of the amateurs in batting and fielding, and their superior in bowling”. এক্ষেত্রে বিশেষ করে বলতেই হবে এস এম যে উডসের কথা। জেন্টলম্যান দলের উডসের মত কোনও বোলার ছিলই না। তিনি মাত্র ১৯.৯ গড়ে ৭৫ উইকেট নেন ১৮৮৮ সালে। যা কিনা টম রিচার্ডসনের ২০.৭ গড়ে ৬৩ উইকেটের থেকে ভাল ছিল।
      উনবিংশ শতকে ডগলাস খুব ভাল বোলার ছিলেন। এবং অবশ্যই বুচানন। যিনি ১৮৭৪ সালে অবসর নিলে জেন্টলম্যান দল সমস্যায় পড়ে গিয়েছিল। যে সমস্যা ১৯১৪ সালে গিয়ে শেষ হয় জে জি হোয়াইট আসার পর।  এছাড়া অবশ্যই উল্লেখ করার মত বোলার ছিলেন পিটে, পিল, ব্রিগস,রোডস,ব্লাইথ, লিলিহোয়াইট প্রভৃতিরা।
   এবং প্লেয়ার্স দলেও ছিলেন শ’,উইলশার,এমেট,মরলে,হার্স্ট  ইত্যাদিরা।
   প্রথম দিকে সেঞ্চুরি তো হতইনা। বিশেষ করে জেন্টলম্যানদের। ১৮২৫ সালের পর ঐ দলের সেঞ্চুরি আসে ১৮৬৭ সালে যেবার লাবক ১০৭ করল।তাও ওভালে। সেই উইলিয়াম ওয়ার্ড করেছিলেন ১৮২৫ এ লর্ডসে ১০২, তারপর। কিন্তু সব বদলে গেল গ্রেসের জন্য। ১৮৬৮ থেকে ১৮৮৫ গ্রেস একাই করল ১৩টা। এরপর ১৮৯৪ আর ১৮৯৫ সালে আরও দুটো। ১৮৬৮ থেকে ১৮৭৫ সালের মধ্যে ৯খানা ছিল এমন বোলিং এর বিরুদ্ধে যাকে অনায়াসে ইংল্যান্ড দলের বোলিং বলা যায়। যাই হোক ১৮৯৯ সালে আরও একটা সেঞ্চুরি তিনি করেন, এবং সর্বশেষটা আসে (যদিও সেটা সেঞ্চুরি নয়, ৭৪) ১৯০৬ সালে ৫৮ বছর বয়সে। যাই হোক এরপর থেকে হবস যুগের সুত্রপাত। জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস নিয়ে আরও কথা বাকি যা পরে হবে।


Thursday, 5 May 2016

ভারতের প্রথম ইংল্যান্ড সফর (প্রথম পর্ব)

১৯১১ সালে ভারতীয় দল প্রথম ইংল্যান্ড সফরে যায়।ঠিক হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াতেও যাওয়া হবে কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি।দলের নেতৃত্বে ছিলেন পাতিয়ালার মহারাজা [১]।দলের অন্যান্যরা ছিলেন কে এম মিস্ত্রী[২],কাঙ্গা[৩],মেহেরহোমজী[৪],শিবরাম[৫],সালামউদ্দিন[৬],ওয়ার্ডেন[৭],জয়রাম
[৮],গায়কোয়াড়[৯],বাজানা[১০],মুল্লা[১১],পি বালু[১২],শফকৎ[১৩],সৈয়দ হুসেন[১৪],বালসারা[১৫],পাই[১৬] এবং শেষাচারী[১৭]।  
        ভারতের বোলিং যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও ব্যাটিং খুবই দুর্বল ছিল।গোটা সফরে মোট ৪৩ টা ইনিংসে ৮বার ১০০ রান তুলতে ব্যর্থ হয়।এর মধ্যে ছ'বার প্রথম শ্রেণির ম্যাচে।আরও তিন বার তাঁরা ১০০ করতে পারেনি যদিও সেগুলি অসমাপ্ত ইনিংস ছিল।অন্ততঃ আরও ১৭ বার তারা ২০০ তুলতে পারেনি।অর্থাৎ গোটা সফরে ৬৫.১১% ক্ষেত্রে তারা ২০০ রান তুলতে ব্যর্থ হয়।ফলে প্রথম শ্রেণির ৯টি সহ মোট ১১টি ম্যাচে যা ছিল সফরের প্রথম ১১টি ম্যাচ, তাতে তারা একটানা হেরে যায়।এই প্রথম ১১টি ম্যাচে ইনিংস প্রতি তাদের গড় রান ছিল মাত্র ১৪২। কিন্তু পরবর্তী ১২টি খেলায় তারা ৬টি তে জেতে যার মধ্যে ২টি ছিল প্রথম শ্রেণির খেলা।বাকি ৪ টি তে হারে ও দুটি ড্র করে।গোটা সফরে ১৪ টি প্রথম শ্রেণির খেলায় মাত্র দুটি খেলায় ভারত জিতেছিল। ১০টা খেলায় হেরেছিল ।প্রথম শ্রেণির নয় এমন খেলায় তার ৫ টি তে হেরেছিল।যদিও শেষ ১২টি ম্যাচে তাদের ইনিংস প্রতি গড় ছিল ২৩৪/৮। তিন বার ভারত ৪০০ রান করে এই দ্বিতীয় ভাগে। এবং একবারও ১০০ এর নিচে আউট হয় নি।প্রথম শ্রেণির ম্যাচ গুলিতে ১৬টি অর্ধশতরান ও ৪টি শতরান হয়েছিল ভারতের পক্ষে।গোটা সফরে অবশ্য ৯টি শতরান ও ২৮টি অর্ধশতরান হয়।এর মধ্যে কাঙ্গা,বাজানা,শিবরাম এবং মেহেরহোমজী প্রথম শ্রেণিতে শতরান করেন।অন্য খেলা গুলিতে মেহেরহোমজী দুটি, শিবরাম,ওয়ার্ডেন এবং সালামুদ্দিন একটি করে শতরান করেন।প্রথম শ্রেণির খেলায় ভারতের সর্বচ্চো রান ছিল ৪৮১।লিচেস্টার এর বিরুদ্ধে।সর্বনিম্ন ৭৬।ওয়ারউইকশায়ারের বিরুদ্ধে।প্রথম শ্রেণির ম্যাচ নয় এমন খেলায় ভারতের সর্বচ্চো রান ছিল ৪৬৩/৬।লিঙ্কনের বিরুদ্ধে। এবং সর্বনিম্ন ৫১। সফরের দ্বিতীয় ম্যাচে সাউথ ওয়েলসের বিরুদ্ধে।ব্যক্তিগত সর্বচ্চো রান কাঙ্গা। ১৬৩,প্রথম শ্রেণির খেলায় লিচেস্টার এর বিরুদ্ধে।
      সফরের প্রথম খেলায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির কাছে ভারত হারে (এই একবার মাত্র...তারপর গত ১০৫ বছরে আর হারেনি)।পরের খেলায় সাউথ ওয়েলসের বোলার হেপারের (ম্যাচে ১২/৮১) বোলিং ভারত কে বিধ্বস্ত করে।এরপর কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটির খেলায় লকহার্ট ম্যাচে ১০২ রানে ১০ উইকেট নেয়।আর দ্বিতীয় ইনিংস এ ফ্যালকন ৫/৫০। ইনিংসে হারল ভারত (যথারীতি ১০৫ বছরে এই একবার)।ইতিমধ্যে ভারত এম সি সি এর সাথে বেসরকারি টেস্ট (বলা যেতেই পারে) খেলেছে।এবং হেরেওছে। তাও আবার ইনিংসে। এম সি সির এই দলে মাত্র দুজন টেস্ট খেলোয়াড় ছিলেন। নেভিল টাফনেল আর জন হারনে।আর একজন জ্যাক হারনে ঐ বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলেন। এরা কেউই খুব বড় কিছু নন। যাই হোক এরপর ওয়ারউইকশায়ারের বিরুদ্ধে খেলায় ভারত আবর লাইন লাগায়(দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কোল্যাপ্স নিয়ে আলাদা গবেষণা হওয়া উচিৎ)।ফস্টার(৫/৩১) আর ফিল্ড(৫/৩০) ভারত কে প্রথম ইনিংসে ৭৬ রানে নামিয়ে দেয়।দ্বিতীয় ইনিংসে কেঁদে-ককিয়ে ১৮৫ রান তুলেছিল ভারত।তাও ক্রুফোর্ড ৩৬ রানে ৬ উইকেট নেয়।এরপর লাঙ্ক‍্যাশায়ারের বিরুদ্ধে কুড (৫/২২) ও হুডলেটন (৫/৩০)দের জন্য ভারত কোনও ইনিংসেই ১০০ করতে পারেনি(৮৫ ও ৯৪)।একই অবস্থা স্ট্র্যাফোর্ডশায়ারের বিরুদ্ধে (৭৪ ও ৫৭)। কারন মহান সিডনি বার্নস (ম্যাচে ২৯ রানে ১৪ টি উইকেট)।যদিও স্ট্র্যাফোর্ডশায়ার কোনও প্রথম শ্রেণির না মাইনর কাউন্টী দল। সারের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংস ভাল খেললেও (২৬৪) দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ধ্বস (১২০)। কারন হলেন সারের বার্ড (ম্যাচে ১০/৯৮)।কেন্টের ফেয়ারসার্ভিসকেও ভারত সামলাতে পারেনি(৫/৩৩)। এরপর নর্দাম্পটনশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের কাছেও হারে ( ইয়র্কশায়ারকে অবশ্য ১৯৮৬ সাল অবধি হারান যায় নি......আর ঐ ১৯৮৬তেই শুধু...তারপর থেকে আজও "অধরা মাধুরী")।ইয়র্কের ড্রেক (৫/৫৫) ভাল বল করেন।
               এই ১১ টি খেলায় ভাল বল করেছিলেন একমাত্র বালু।বালু হয়ে উঠেছিলেন বিপক্ষের ত্রাস।স্টিকি ডগ উইকেটে তিনি ছিলেন ভয়ানক।তার বোলিং ছিল ভারতীয় দড়ির জাদুর মতই বিস্ময়কর। অক্সফোর্ডের বিরুদ্ধে ৫/৮৭,কেম্ব্রিজের বিরুদ্ধে ৮/১০৩(বালুর প্রথম শ্রেনিতে সেরা বোলিং),লাঙ্ক্যাশায়ারের বিরুদ্ধে ৭/৮৩,কেন্টের বিরুদ্ধে ৫/১০৯,নর্দাম্পটনের বিরুদ্ধে ৬/৫৮।শুধু বালুর জন্য স্ট্র্যাফোর্ডশায়ার কে ঐ ১৩২ রান তুলতে দু'ইনিংসে ১৫ খানা উইকেট হারাতে হয় যার ৮টি বালুর নামে যায়।সাউথ ওয়েলসের খেলায় ওয়ার্ডেন (৫/৫৮) আর এম সি সি এর সাথে সালামুদ্দিন (৫/১২৮) কিছুটা সাহায্য করেন বালুকে।বাকি খেলায় বালুকে কেউ সাহায্য করেনিনি।উল্টে এত ক্যাচ ফেলেছিল যে বালু অনায়াসে সফরে ১৫০ উইকেট পেতে পারতেন।এগুলো নাহলে সফরের ফল হয়ত অন্যরকম হত।(চলবে).........



টীকা.....
১।পাতিয়ালার মহারাজা ভুপিন্দর সিংএর অবদান ভারতীয় ক্রিকেটে অনেক। খুব ভাল খেলোয়াড় না হলেও রঞ্জী ট্রফি তিনি দান করেন।না হলে ঐ ট্রফির নাম লর্ড উইলিংডন ও হতে পারত। তার ছেলে যাদবেন্দ্র সিং ভারতের হয়ে একটা টেস্ট খেলেন।
২।কেখাস্রু মানেকশা মিস্ত্রি পার্শি যুগের ক্রিকেটার। ১৮৯৩/৯৪ থেকে ১৯২৭/২৮ অবধি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন।কাঙ্গা,পাভ্রি,বাপাসোলা থেকে নাইডু, দেওধর অবধি সেতুর কাজ তিনি করেছেন।পারসি নিয়ন্ত্রিত ভারতীয় ক্রিকেট কে মারাঠি মধ্যবিত্তের হাতে চলে যাওয়া তিনি দেখে যান।সেই আদি যুগের ভারতীয় ক্রিকেটে ১০টি অর্ধশতরান সহ ১৬০০ রান করেন ও ১০৪টি উইকেট পান।সেরা ৮/৭০, সর্বচ্চো ৯৫। ১৯৫৩ সালে যখন তিনি মারা যান তখন বম্বে টানা ১৪ বার রঞ্জী জয়ের সুচনা করছে।
৩।হোরমাসজী দোরাবজী কাঙ্গা(১৮৮০-১৯৪৫).১৮৯৯/১৯০০ থেকে ১৯১১/১২ অবধি ৪৩টি প্রথম শ্রেণির খেলায় ১৯০৫ রান করেন।সর্বচ্চো ২৩৩। তেমন বল না করলেও ৩৭ টা উইকেট আছে এবং সেরা বোলিং ৮/১৪।তার দাদার নামে বম্বে তে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়। তার দুই ভাই ১৮৮৬ ও ১৮৮৮ সালে পার্শি দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফর করেছেন।
৪।রুস্তমজি ফিরোজশা মেহেরহোমজী ১৭৭৭ রান করেছেন দুটি শতরান সহ।
৫।পালওয়াঙ্কার শিবরাম।বালুর ভাই। ১১৩০ রান করেছেন প্রথম শ্রেণির খেলায়।একটি শতরান।
৬। খান সালামুদ্দিন।জলন্ধরের ছেলে। মোট ১৬টি ম্যাচ খেলেছেন প্রথম শ্রেণিতে। তার ভাইপো জাহাঙ্গির খান ভারতের হয়ে ১৯৩২ সালে প্রথম টেস্ট খেলেন। হ্যাঁ এই পরিবার থেকেই মজিদ খান, জাভেদ বারকি ও ইমরান খানের জন্ম।
৭।জাহাঙ্গির সোরাবজী ওয়ার্ডেন। প্রাক টেস্ট পর্বের ভারতের সেরা অল রাউন্ডার ১টি শতরান সহ ১২০৮ রান ১৮৩ টা উইকেট।
৮।বাঙ্গালোর জয়রাম। এই সফরে সুযোগ পান শুধু ইংল্যান্ডে খেলবার অভিজ্ঞতার জন্য। আরও জানতে পড়ুন অভিষেক মুখারজির ব্লগ......http://www.cricketcountry.com/articles/bangalore-jaya-ram-wg-graces-colleague-who-also-went-on-the-first-all-india-tour-to-england-278084
৯।শিবাজিরাও গায়কোয়ার। ইনি অংশুমান গায়কয়ারের বাবা দত্তাজিরাও এর ঠাকুরদা(গ্রান্ড আঙ্কেল)। ১৪ টি ম্যাচ খেলেন প্রথম শ্রেনিতে। খুব কম বয়সে মারা যান।
১০।মূলতঃ সমারসেট দলের খেলোয়াড় বাজানা (মানেকশা বাজানা) মারা যান লন্ডনে।৫৫ টি প্রথম শ্রেণির খেলায় ১৯০৫ রান করেন।
১১।মুল্লা মোটামুটি ব্যাটসম্যান ছিলেন।২৮ ম্যাচে তার রান মাত্র ৭৮১।
১২।পালওয়াঙ্কার বালু। অচ্ছুৎ শ্রেণির খেলোয়াড়। আরও জানতে পড়ুন রামচন্দ্র গুহর গ্রন্থ "আ কর্নার ফ্রম দ্য ফরেন ফিল্ড"... ভবিষ্যতে বালুকে নিয়ে আলাদা লেখার ইচ্ছে আছে।
১৩।আলিগড়ের ক্রিকেটার শফকৎ মাত্র ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলছিলেন।
১৪। সৈয়দ হুসেন (মোরাদাবাদ)ও মাত্র ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন।
১৫।পর্তুগীজ ভারতের দমনে জন্মান বালসারা। ৩০ টি প্রথম শ্রেণির খেলায় তার ১১৯টা উইকেট আছে।সেরা ৮/৩১।
১৬। মুকুন্দরাম দামদর পাই। ২২ টি প্রথম শ্রেণির খেলায় ৬৪০ রান করেন।
১৭।খিলভিদি শেষাচারি। জন্ম মাদ্রাজে। মৃত্যু কলকাতায়। ১৯টি প্রথম শ্রেণির খেলায় ২০টা ক্যাচ এবং ১৬টা স্ট্যাম্প আছে। সত্যজিৎ রায়ের ধনদাদু মানে কুলদারঞ্জনের লেখায় এর বেশ প্রশংসা আছে। 

Tuesday, 26 April 2016

কিছু কথা কিছু স্মৃতি-- পূর্ব পাকিস্তান ও ক্রিকেট

১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর পূর্ববঙ্গে ক্রিকেট বন্ধ হয় নি। তবে খেলার জনপ্রিয়তা থাকলেও বড় রকমের খেলা হত না। কিছু স্থানীয় লিগ ছাড়া কোনও বড় খেলা হতই না। কিন্তু ১৯৫২-৫৩ সালে পাকিস্তান ভারতে খেলতে এলে তাঁরা পূর্ব পাকিস্তানে গিয়ে তিনটে ম্যাচ খেলে যদিও সেগুলো কোনওটাই প্রথম শ্রেণির নয়। এই ম্যাচে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে খেলছিলেন এক প্রাক্তন টেস্ট খেলোয়াড় । সিন্ধ প্রদেশের জামশেদ খুদাদাদ ইরানি। তিনি ১৯৪৭-৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি দুটি টেস্ট খেলেন ভারতীয় দলের হয়ে। এবং দেশ ভাগের পর করাচি ও সিন্ধের যৌথ দলের হয়ে শেষ প্রথম শ্রেণির খেলা খেলেন প্রথম কমনওয়েলথ দলের বিরুদ্ধে মাত্র ২৬-২৭ বছর বয়সে। তারপর এই দুটো ম্যাচ খেলেন। আর শেষ যে খেলার স্কোর এ ওনার নাম পাওয়া যায় তা হল কারদার একাদশ বনাম পূর্ব পাকিস্তান গভর্নর একাদশের ম্যাচ।তাতে উনি কারদারের দলে খেলেন যা আসলে পাকিস্তানের টেস্ট দল ছিল। এটা বলা মুস্কিল কেন উনি আর টেস্ট খেলেন নি। গুল মহাম্মদ কে পাকিস্তান টেস্ট খেলাল বুড়ো বয়সে আর যুবক ইরানি বাদ গেল কেন বলা মুস্কিল।
    আর এক আশ্চর্য ব্যাপার ! পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে একজন খেলেছিলেন তার নাম মহসিন কাজী। তিনি ১৯৩৬-৩৭ সালে বিহারের হয়ে বিহার দলের প্রথম রঞ্জী ম্যাচ খেলেন বাংলার বিরুদ্ধে। তিনি পরে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে কায়েদ-এ-আজম ট্রফি খেলেন। সেটা বড় কথা না। বড় কথা হল এই ম্যাচে বিহারের হয়ে খেলা সুবীর চক্রবর্তী পরবর্তী কালে পূর্ব পাকিস্তান সবুজ মানে ইস্ট পাকিস্তান গ্রিন দলের হয়ে কায়েদ-এ-আজম খেলেন। পূর্ব পাকিস্তান দলে খুব বেশি হলে চার জন কি পাঁচ জন হিন্দু বাঙালি খেলেছেন। সে খেলতে পারেন কিন্তু রঞ্জী খেলা কোনও হিন্দু খেলোয়াড়  তাও আবার বাংলা নয় অন্য দলের হয়ে খেলা বাঙালি হিন্দু সে কেন পূর্ব পাকিস্তানে চলে গেল জানা যায় না। মনে হয় মহসিন গাজি ও সুবীর চক্রবর্তী নিজেরা  পরামর্শ করেই এই কাজ করেন।
  পূর্ব পাকিস্তান কায়েদ-এ-আজম  খেলা শুরু করে ১৯৫৪-৫৫  সাল নাগাদ। কম্বাইন্ড সারভিসেসের বিরুদ্ধে। তারা মোট ১৯ টি প্রথম শ্রেণি খেলা খেলে।এছাড়া ইস্ট পাকিস্তান এ দুটি (দুটি ম্যাচ ইস্ট পাকিস্তান বি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে),ইস্ট পাকিস্তান বি দুটি ম্যাচ( একটি ইস্ট পাকিস্তান এ এবং অপর টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে) খেলে যা প্রথম শ্রেণির ছিল। এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট পাকিস্তান গভর্নর,ইস্ট পাকিস্তান হোয়াইট, ইস্ট পাকিস্তান গ্রীন,ইস্ট পাকিস্তান রেলওয়ে,ঢাকা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এডুকেশন বোর্ড,ইস্ট জোন,কম্বাইন্ড সারভিসেস,পাবলিক ওয়ারকস ডিপার্টমেন্ট,রাজশাহী,চট্টগ্রাম,খুলনা ইত্যাদি দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে। যদিও খুলনা দলে কারা খেলেছিলেন বা  নির্বাচিত হন তার কোনও খবর নেই কারন ঐ ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়।চট্টগ্রামের ও প্রায় তাই। তাঁরা তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও কোনও ম্যাচই খেলা হয়নি। কেন জানি না। দাঙ্গাও কারন হতে পারে।তবে রাজশাহি দলের খেলোয়াড় দের নাম পাওয়া যায়।
  সে যাই হোক পাকিস্তান দলে কোনও বাঙালি সুযোগ না পেলেও এমন বহু খেলোয়াড় আছে যারা পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণি ও পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেছেন যাদের মধ্যে সবথেকে ভাল ছিলেন নাসিম-উল-ঘানি।আসলে এরা কেউ কেউ বাঙালি ছিলেন না। যখন কোনও দল পাকিস্তান সফরে আসত তখন এঁদের পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পাঠানো হত খেলার জন্য। মাত্র একজন খেলোয়াড় পাকিস্তানের হয়ে দুটি টেস্ট খেলেন যিনি  তার আগে  কোনও দিন কোনও পশ্চিম পাকিস্তানের দলের হয়ে খেলেন নি।পরে অবশ্য খেলেন। তবে তিনি বাঙালি ছিলেন না। তিনি বেনারসের ছেলে নিয়াজ আলি সিদ্দিকি। আর রকিবুল হাসান নামে একজন বাঙালি খেলোয়াড় মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে দ্বাদশ ব্যক্তি হন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। রকিবুল  এর পর ১৯৭১ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইলেভেন যখন পাকিস্তানে খেলতে যায় তখন বোর্ড অফ ক্রিকেট কন্ট্রোল ইন পাকিস্তান দলের হয়ে খেলেন যাকে অনেক সময়ে বেসরকারি টেস্ট বলে দাবি করা হয়।রকিবুল পরে বাংলাদেশের হয়ে দুটো ওয়ান ডে ইন্টারন্যাশনাল খেলেছিলেন।
   আজ এই অবধি। পূর্ব পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে আবার অন্য কোনও দিন।  

Monday, 25 April 2016

পটলা দা ...... বাঙালি ও ক্রিকেটের বিস্মৃত অধ্যায়

আমরা টেনিদা, ঘনাদার কথা পড়েছি...ফেলুদাও পড়েছি... আজ শুনব পটলাদার কথা। না ইনি কোনও গুলবাজ দাদা বা গোয়েন্দা নন। তবে টেনিদা বা ফেলুদার সাথে এনার দুটি মিল আছে। ইনি ক্রিকেট খেলতেন ( বাকি দুজন ও খেলেছেন), আর এঁর জন্ম কলকাতায়। ১৯১৮ সালের ১৬ জুন। বেছে থাকলে ৯৮-৯৯ বছর বয়স হত। সে যাই হোক। বাঙালি হলেও বাংলার হয়ে কোনও দিন ক্রিকেট খেলেননি। খেলেছেন বিহারের হয়ে। সাথে আরও দুই ভাই বিরাজ আর বিকাশ। এরাও দুজনে বিহারের হয়েই রঞ্জী খেলেছেন। আজ থেকে ৫০-৫৫ বছর আগে ওড়িশা বা বিহার আসামের দলে প্রায় ৮-৯ জন করে বাঙালি খেলোয়াড় খেলতেন। বিহারের অধিনায়ক ছিলেন শুটে ব্যানার্জী। বিহার ভাল দল না হলেও এঁদের জন্য রঞ্জী সেমিফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনাল দু এক বার খেলেছে। পটলা দা মানে বিমলকৃষ্ণ বসু ছাড়া একসময় পূর্বাঞ্চল দল তৈরি হত না তাই ১৯৪০-৪১ থেকে ১৯৬৩-৬৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪৫ টা প্রথম শ্রেণির খেলা খেললেও তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের  বিরুদ্ধে দুবার, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একবার, এম.সি.সি.র বিরুদ্ধে একবার আর কমনওয়েলথ দলের বিরুদ্ধে তিনবার খেলেছেন। ৩৮ টি রঞ্জী ম্যাচে ২০৫ টা উইকেট পান তিনি। তার আগে রঞ্জী তে বিহারের হয়ে কেউ এত উইকেট পায়নি...তার পরে পেয়েছেন অবিনাশ কুমার।
  পটলা দার এক জন দাদাও ছিল। তিনিও ক্রিকেট খেলতেন কিন্তু প্রথম শ্রেণি খেলার সুযোগ পাননি। পাবেন কি করে ? তার আগে দেশের জন্য আরও বড় টেস্ট খেলতে গিয়ে যে আউট হয়ে গেলেন। আজও তার নাম আমাদের ছোটোবেলা থেকে  জানতে হয়। কলকাতায় থাকতে গেলে রোজ সেই নাম শুনতে হয়।
          পশ্চিম প্রান্তের ভারত যখন চরকা কেটে মুক্তির আলো খুঁজছে তখন কলকাতায় কান পাতলে রাইটার্সের অলিন্দে শোনা যায় গুলির শব্দ। সিম্পসন কে আউট করে পটলা দার দাদা স্বেছায় আউট হলেন ...ব্রিটিশ দের হাতে ধরা দেবেন না বলে। কোনও দিন টেস্ট না খেলেও তাই বিমল কৃষ্ণ বসু কোনও আফশোষ করেন নি। ১৯৩২  এ ভারত টেস্ট খেলে। বাংলা রঞ্জী শুরু করে ৩৫ সালে। বেচে থাকলে হয়ত ১৯৩৯  সালে রঞ্জী জয়ী দলের সদস্য হতেন। কিন্তু তার থেকে অনেক বড় টেস্টে  ঝড় তুলে বিদায় নেন বিনয় কৃষ্ণ বসু। বিনয় বাদল দিনেশের বিনয়। পটলা দার বড়দা।
   যারা বলে ফুটবল স্বাধীনতায় প্রেরণা  জুগিয়েছে আর ক্রিকেট কোনও দিন এদিকে যায়নি; ব্রিটিশদের বন্ধুরাই এই খেলা খেলত তাদের একটু অন্য স্বাদ দেওয়ার জন্য এই লেখা। পটলা দা ১৯৯৬ সালে পাটনায় মারা যান।

Monday, 18 April 2016

Bengal's captain: part 2

কোচবিহারের মহারাজা জগদ্বিপেন্দ্রনারায়ন (১৯১৫-১৯৭০) বাংলার অধিনায়ক হন ।মোট ১৫ টা ম্যাচ খেলেন। তাঁর মধ্যে ৮ টায় অধিনায়ক।
এরপর বাংলার অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার কমল ভট্টাচার্য দুটি ম্যাচে অধিনায়ক হন। যে ১৬ জন বাংলার খেলোয়াড় রঞ্জী তে ১০০ উইকেট পেয়েছেন ইনি তাদের একজন।
এরপরে অধিনায়ক সুশীল বসু। ১৫ টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৩টী ম্যাচে বাংলার ক্যাপ্টেন। 
নির্মল চ্যাটারজি। নাম শুনলেই কিরকম একটা লাগে। ফজল মামুদ কে পিটিয়ে সেঞ্চুরী করা এই ক্রিকেটারটি  তৎকালীন বাংলার সেরা ব্যাটসম্যান। কিন্তু মাত্র ৫টা খেলায় অধিনায়ক।

সম্ভবতঃ শাকিব আল হাসানের আগে এর থেকে বড় অলরাউন্ডার বাংলাভাষীদের মধ্যে আর আসেনি। মাশরফি বিন মুরতাজা তাঁর সেরা সময়ে যত জোরে বল করত তাঁর থেকে অনেক জোরে বল ইনি করতেন। দুবারের রঞ্জী জয়ী মহারাস্ট্র কে ৪১ এ অল আউট, টেনিসন, রাইডার বা অস্ট্রেলীয় সেনা দলের বিরুদ্ধে দারুন পারফরমেন্স বা ১১ নম্বরে নেমে ১০০ কিংবা বিহার রঞ্জী ফাইনালে তোলা সব ই তাঁর কৃতিত্ব। তাঁর জন্যই পূর্বাঞ্চল ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে ১০ উইকেটে হারায়।কিন্তু ইনি বাংলাকে মাত্র একবার ই নেতৃত্ব দেন। শরদিন্দুনাথ ব্যানারজি।লোকে তাকে চেনে শুটে বলে। সেই '৩০, '৪০ এর দশকে যখন খেলা খুবই কম হত তখন প্রথম শ্রেনিতে ৩৭১৫ রান আর ৩৮৫ টা উইকেট শুনলে একটু অবাক হতে হয়। মনে রাখবেন আজও ভারতে বছরে ১৫ টা ম্যাচ খেলা খুব কঠিন।   

সি.এস. নাইডু, সি.কের ভাই বাংলার হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনটি খেলায়।


পূর্ববাংলার ঢাকাতে একটা জায়গা আছে। তাঁর নাম ভাগ্যকুল। সেখানকার রায় পরিবার ব্যবসায়ি হিসেবে খুব বিখ্যাত। পরে তাঁরা খেলাধুলাতেও নাম করেন। তিন তিন জন টেস্ট খেলোয়াড় এসেছে এই পরিবার থেকে। তাদের মধ্যে যিনি সেরা তিনি বাংলার ও সেরা। পঙ্কজলাল রায়। দক্ষ রাইট উইঙ্গার টি I.F.A. এর হয়ে  বার্মার বিরুদ্ধে গোল করেন এবং বার্ষিক যে ইউরপিয়ান বনাম ইন্ডিয়ান খেলা হত তাতেও শেষ দুবছর গোল করেন। তাঁর সাথে লেফট উইঙ্গার খেলতেন অজয় বসু। যাই হোক তিনি রঞ্জী তে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন। তারপর সেঞ্চুরি করেন হোলকার আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিরুদ্ধে। অবশেষে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভার্সিটি দলের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে ৮৯ করেন। এবং টেস্ট খেলেন। ১৯৫১-১৯৬০ এর প্রথম দিক অবধি ৪৩ টি টেস্ট  এ ২৪৪২ রান করেন ৫ টি সেঞ্চুরি সহ। সাথে বিশ্বরেকর্ড।প্রথম উইকেট এ ৪১৩ রানের (একজন বাঙালির করা রেকর্ড ভাঙল ১১ জন বাঙ্গালির হাতে)। যাই হোক প্রথম বাঙালি হিসেবে ১০,০০০ রান প্রথম শ্রেণির খেলায় (মোট ১১,৮৬৮ - ৩৩ টি শতরান সহ ) এবং টেস্ট জগতে প্রথম বাঙালি অধিনায়ক আজ রঞ্জিতে সর্বাধিক খেলায় অধিনায়ক। ৪৩ টি তে।

রঞ্জীতে প্রথম এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার প্রথম রেকর্ড করেন প্রেমাংশু চ্যাটারজি। প্রথম শ্রেনিতে ৩২ ম্যাচে ১৩৪ উইকেট নেওয়া এই বোলার ৪ টে খেলায় বাংলার অধিনায়ক হন।

বাংলার আর এক শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান শ্যামসুন্দর মিত্র মাত্র টা খেলায় ক্যাপ্টেন ছিলেন যদিও দুই দশক তাঁর মত ব্যাটসম্যান ছিলই না প্রায়।৫০ গড়ে ৩০০০ এর বেশি রান ৭টা সেঞ্চুরি সহ। তিনি টেস্ট খেলেননি এটা ভারতের লজ্জা

কাকার মতই বড় ব্যাটসম্যান ছিলেন অম্বর রায়। চারটে টেস্ট খেলেছেন, প্রথম শ্রেণি তে ৭০০০ রান করেছেন ১৮টা সেঞ্চুরি সহ। ২৪টি খেলায় বাংলার অধিনায়ক। তাঁর বাহাতি বাংলা তো বটেই ভারতে কম এসেছে।

আজ তবে এইটুকু থাক/ বাকি কথা পরে হবে।

Sunday, 17 April 2016

Bengal's captain part 1

ক্রিকেট যদিও আমাদের উপমহাদেশে ১৮ শতকে শুরু হয়েছিল কিন্তু ভারতীয় দের তাতে অংশ নিতে সময় লেগেছিল প্রায় ৭০ বছর। আর বাঙ্গালীরা তাতে অংশ নেয় সেই উনবিংশ শতকে । আমার এই লেখাটি পুরোপুরিভাবে বাংলার অধিনায়ক দের ধরে।
এই লেখাতে "বাংলা" বলতে বোঝাচ্ছে অবিভক্ত ভারতের  বাংলা কে আর ১৯৪৭ এর পরে "পশ্চিমবঙ্গ" কে । কারন বাংলা বলতে ভারতীয় ক্রিকেটে এই দলটিকেই বোঝায়। আরেকটি কথা। অভিবক্ত যে বাংলা রঞ্জী জিতেছিল সেই দলটির নাম ছিল " বাংলা ও আসাম"।
 "বাংলা" নামক ভাষার উৎপত্তি যে অঞ্চল থেকে সেখান থেকে আজ অবধি প্রায় ২৭ টি দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছে। কাজেই যদি সীমারেখা না ধার্য করি তাহলে বিষয়টি ... বুঝতেই পারছেন।
    প্রথম যখন এখানে প্রথম শ্রেণি ক্রিকেট শুরু হয় তখন কোনও বাংলার দল খেলেনি। একমাত্র ১৮৭৯ সালে কেম্ব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে  এ.এস.পেরেরা বলে একজন খেলেছিলেন যার জন্ম কলকাতায়। সম্ভবত তিনি প্রথম খেলোয়াড় প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে যার জন্ম কলকাতায়। যদিও কলকাতায় ভাল ক্রিকেট খেলা হত কিন্তু প্রথম শ্রেণি শুরু হয়নি। সেটা শুরু হল ১৯১৭-১৮ সালে।
 বাংলার গভর্নর দলের সাথে কোচবিহারের মহারাজা দলের খেলা।এইচ.এল.সিমন্স ছিলেন বাংলার গভর্নর দলের নেতা আর কোচবিহার দলের অধিনায়ক ছিলেন রাজকুমার ভিক্টর নিতেন্দ্রনারায়ন। সিমন্স মোটামুটি অল রাউন্ডার ছিলেন। ১১০ টা প্রথম শ্রেণির খেলায় তাঁর ৩০০০ রান  আর ২০০ উইকেট ছিল। যাই হোক ভিক্টরই প্রথম বাঙ্গালি যিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অধিনায়ক ছিলেন। কোচবিহার দলটি '৪০ এর দশক অবধি প্রথম শ্রেণি খেলেছে। তাদের বাকি অধিনায়করা ছিলেন মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ন, মহারাজা জগদ্বিপেন্দ্রনারায়ন,কুমার হিতেন্দ্রনারায়ন( প্রথম কাউন্টি খেলা বাঙ্গালি),ফ্রাঙ্ক ট্যারান্ট এবং এ.ই.জি.ম্যাক্লায়েন্স এডওয়ার্ড।
 গভর্নর দল ও ১৯৪৮ অবধি প্রথম শ্রেণির খেলা খেলে এ.এল.হোসি (বাংলার প্রথম রঞ্জী অধিনায়ক),সি.কে. নাইডু, কার্ত্তিক বোস, মুস্তাক আলি, টম লংফিল্ড ( রঞ্জী জয়ী অধিনায়ক) এবং শুটে ব্যানারজির নেতৃত্বে।
 এছাড়া আরও দুটো দল বাংলা থেকে প্রথম শ্রেণি খেলেছে।এরা হল বেঙ্গল সাইক্লন এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রি একাদশ। সাইক্লন দলের অধিনায়ক ছিলেন সি.কে. নাইডু। আর মুখ্যমন্ত্রি দলের নেতারা হলেন লালা অমরনাথ এবং মন্সুর আলি খান পাতৌদি।
 বাংলা নামের কোনও দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে ১৯৩৫ সালে জ্যাক রাইডারের বেসরকারি অস্ট্রেলিয়া দলের বিরুদ্ধে যাদের নিমন্ত্রন করে এনেছিলেন পাতিয়ালার মহারাজা। বাংলার অধিনায়ক হন হোসি। তিনি রঞ্জীতেও বাংলার দলনায়ক হন। প্রথমবারই বাংলা সেমিফাইনাল খেলে।হোসি ভাল ব্যাটসম্যান ছিলেন।
 তাঁর পর দলের অধিনায়ক হন রঞ্জী জয়ী দলের এক সদস্য (পরবর্তীকালে অবশ্যই) পি.ভ্যানডারগুচ।মাত্র দুটি ম্যাচে তিনি দলনেতা ছিলেন।মাঝারি ধাঁচের অলরাউন্ডার ৫১ ম্যাচে ১৫০০ এর কিছু বেশি রান আর ৭৩ টা উইকেট নেন তিনি।
এরপর যিনি দলনেতা হন তিনি মাত্র চারটে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন সারাজীবনে। তাঁর নাম জর্জ ফ্রান্সিস কার্টার।
প্রথম বাঙালি হিসেবে বাংলার প্রথম ক্যাপ্টেন হলেন জিতেন্দ্রনাথ ব্যানারজি।সারাজীবনে মাত্র ১৩ টা প্রথম শ্রেণির খেলা খেলেন তিনি।
তাঁর পরের অধিনায়ক বাংলার প্রথম রঞ্জী জয়ী দলের ক্যাপ্টেন টম লং ফিল্ড। মাত্র তিনটে ম্যাচ এ তিনি অধিনায়ক ছিলেন। তাঁর একটা ছিল ফাইনাল। ওয়াজির আলির দক্ষিণ পাঞ্জাব। যে দলে লালাও ছিলেন। \
প্রাক স্বাধিনতা যুগে বাংলার সেরা ব্যাটসম্যান কার্ত্তিক বোস। সত্যজিৎ রায়ের এই কাকা টি ১১ টি ম্যাচে বাংলার অধিনায়ক ছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি এ প্রথম এবং শেষ বাঙ্গালি যিনি ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার অধিনায়ক হন।
 এই পোস্ট এ এই অবধি। এরপর- পরেরটায়।    সাথে পরিসংখ্যান থাকবে।


Saturday, 16 April 2016

Bina Das - the revolutionary and Stanley Jackson :Captain of English Cricket team

বীনা দাস কে মনে পরে ? সেই নেতাজির স্কুল শিক্ষক বেনিমাধব দাসের মেয়ে। কোলকাতার ডায়াশেষনে পড়ত?  মনে আছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভকেশনে গুলি করেছিলেন জ্যাকসন কে ? ৫টা গুলি। জ্যাকসন তখন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর। বীনা দাস পরে কংগ্রেস করতেন। বিয়ের পর ভৌমিক হন। মারা যান অনেক পরে। হিমালয়ে।আচ্ছা উনি কি জানতেন যে  উনি যাকে গুলি করতে  যাচ্ছেন তিনি উনবিংশ শতকের শেষ ও বিংশ শতকের প্রথম দিকের এক মহান ক্রিকেটার।

স্যার ফ্রান্সিস স্ট্যানলি জ্যাকসন জন্মান ১৮৭০ সালে লিডসে।তাঁর পিতা ছিলেন অ্যালেরটন এর প্রথম ব্যারন উইলিয়াম জ্যাকসন। স্যার ফ্রান্সিস হ্যারো তে পড়াশোনা করেন। তাঁর ফ্যাগ ছিলেন (জুনি‍য়র যে ছেলে সর্বক্ষণের সঙ্গি হন সিনিয়রের) উইনস্টন চার্চিল।
যাই হোক ১৭ বছর বয়সে ইটন বনাম হ্যারো ম্যাচ দিয়ে তাঁর বড় ক্রিকেটে হাতে খড়ি। পরের বছর ইটনের বিরুদ্ধে ৫৯ করে শুরু করলেন জয়যাত্রা। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে প্রথম খেলা ১৮৯০ সালে সি.আই.থরণ্টোন একাদশের বিরুদ্ধে। প্রথম টেস্ট থেকেই ব্যাটে রান। ১৮৯৩ সালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৯১ করে শুরু করেন । ১৯০৫ সালে কেনিংটন ওভালে ৭৬ ও ৩১ করে টেস্ট খেলা শেষ করেন। শেষ প্রথম শ্রেণির খেলা ঘরের মাঠে লিডসে। চিরশত্রু ল্যাঙ্কাশায়ার এর বিরুদ্ধে ৬ ও ৩৫ করে।
১৭ বছরের প্রথম শ্রেণির জীবনে ১৫,০০০ রান ও ৭৫০র বেশি উইকেট নিয়ে শেষ করেন তিনি।৩১ টি শতরান ছাড়াও ছিল ৪২ বার এক ইনিংসে ৫ উইকেট। সর্বচ্চ ১৬০ আর সেরা বোলিং ৫৪ রানে ৮ উইকেট।
টেস্ট খেলেন মাত্র ২০ টা। তাতেই ১৪১৫ রান ৪৮ গড়ে। ৫ টা সেঞ্চুরী সহ।
 সেনা জীবনে বুয়র যুদ্ধ লড়েছেন। রক্ষণশীল দলের সদস্য হিসেবে পার্লামেন্ট সদস্য হন। ৭৭ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 সি.বি.ফ্রাই তাঁর ওপর বীনা দাসের আক্রমন শুনে বলেছিলেন " বলতেই হবে বোলার খুবই বাজে। ৫ টা বল করেও আউট করতে পারল না...... তবে কুমারি মেয়ে তাই ওভার টা মেডেন ছিল"।
     সেই মেডেন ওভার দেওয়া কুমারী আরও ৩৯ বছর পর হৃষীকেশ  মারা যান। ৭৫ বছর বয়সে।


Friday, 15 April 2016

story of test status

আগেই বলেছিলাম যে দক্ষিণ আফ্রিকা কে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হয় একপ্রকার জোর করে। যে খেলাকে (১৮৮৯) টেস্ট বলে ঘোষণা করা হয় অনেক পরে সেই ১৮৯৯ সালে সেই ম্যাচের কোনও খেলোয়াড় জানতেন না যে ওটা টেস্ট বা টেস্ট বলে আদতে কোনও ব্যাপার আছে। যিনি সর্বাধিক কম বয়সি  অধিনায়ক হলেন ইংল্যান্ডের এবং তারপর একদিন গরুর গাড়ি থেকে পড়ে  মারা গেলেন তিনিও জানতেন না যে তিনি একটা রেকর্ড করেছেন। অদ্ভুত ব্যাপার এই খেলা গুলি শুধু দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা প্রথম টেস্টই নয় প্রথম শ্রেণির ও প্রথম ম্যাচ বলে ধরা হয়। মানে দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর আগে কেউ প্রথম শ্রেণির খেলাই খেলেনি। তাহলে ভারননের দলের সাথে ১৮৮৮-৮৯ তে বাংলার খেলাটা কেন প্রথম শ্রেণি নয়। যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে একজন ও প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় নেই সেখানে সেই ম্যাচ হল টেস্ট । আর বাংলা দলে একজন প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় ছিল...এটা কি প্রথম শ্রেণি হওয়ারও যোগ্য নয়? ভারননের দলে অন্ততঃ দুটো টেস্ট আর একটা প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় ছিল।
এই যে টেস্ট বলছি এসব এ ধরে নেওয়া টেস্ট। যাই হোক ১৮৯৯ সালে লর্ড হকের সন্মানে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৮৯, ১৮৯৫,১৮৯৭ ের ম্যাচ গুলো টেস্ট হল। কিন্তু ১৮৯৩ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ টা শুধুই প্রথম শ্রেণির হয়ে রয়ে গেল। কেন? বোধ হয় ভারতিয় দলে তিনজন  ভারতীয় পার্শি খেলেছিল।
তখন পার্শিরা দারুন শক্তিশালি। তাঁরা হকের দল আর ভারননের দলকে হারিয়েছিল। তাছাড়া  তারাই ভারত থেকে প্রথম দল যারা প্রথম শ্রেণি খেলে। এবং প্রথম চারটে ম্যাচে দুটো জয়, একটা হার,একটা ড্র। তারপর যখন এলাহাবাদ এ এই ম্যাচটার কথা এল  যা "ভারত" নামের দলের খেলা প্রথম শ্রেণির প্রথম ম্যাচ তখন পার্শি দের থেকে তিন জন কে ডাকা হল। তাতেই তাঁরা গদগদ। প্রভু ডেকেছেন...।( জে.ফ্রামজি প্যাটেলের বই দেখুন)।

 যাই হোক এরপরে ভারত ১৯১১ সালে  ইংল্যান্ড, ১৯২৬ সালে এম সি সি মানে ইংল্যান্ড ,  ১৯৩২ সালে সিংহল, ১৯৩৫ ও ১৯৩৭ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং লর্ড টেনিসনের দলের বিরুদ্ধে খেললেও একটাও সরকারি টেস্ট ম্যাচ ছিল না।
১৯১৭ সাল নাগাদ লর্ড  উইলিংডন ভারতে অবস্থানকারি ইউরোপিয়োদের নিয়ে তৈরি করেন একটি দল। নাম দেন ইংল্যান্ড। তাঁর বিরুদ্ধে খেলে ভারত। এবং প্রথম ম্যাচ ভারত বাজে ভাবে হারে। পরের বছর আবার খেলা এবার ইংল্যান্ড ফলো  অন খায়। ১০ উইকেট পরে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে । কিন্তু ১২ জনের ম্যাচ। ভারত দয়া করে ড্র করে। এই সেই উইলিংডন যার মত নিয়ে ভিজি লালা কে দল থেকে বাদ দেয়। লোকটা বিংশ শতকে আন্ডার আরম বল করত!!!
  ভারত ও কম যায় না । ১৯২৬ সালে যখন এম.সি.সি. ভারতে আসে তখন মাত্র ৮ টা ম্যাচ ছিল প্রথম শ্রেণির। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে আরও ১৪ টা ম্যাচ কে প্রথম শ্রেণির করা হয়। ফলে দেখা যায় যে বর্মা ও রেঙ্গুন বলে দুটো দল প্রথম শ্রেণি ম্যাচ খেলে ফেলেছে ( সব কটা দুদিনের ম্যাচ কে প্রথম শ্রেণির করা হয়)।

যাই হোক অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান ও এম.সি.সির সাথে অজস্র ম্যাচ খেলেও শ্রীলঙ্কা কে ১৯৮০র আগে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হল না। আবার অবিভক্ত বাংলার অংশ হিসেবে রঞ্জী জয় করা, পাকিস্তানের অংশ হিসেবে কায়েদ এ আজম ট্রফির সেমিফাইনালে যাওয়া বা নিজেদের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা আয়ুব ট্রফি থাকা সত্বেও বাংলাদেশ ২৭ বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বাইরে থাকল আই.সি.সি. এর নিয়মের যাঁতাকলে।
এদিকে জিম্বাবুয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পেল এই কারনে যে তাদের নেতা মুগাবে (যে পরে স্বৈরাচারী হওয়ায় অনেকে ক্রিকেট খেলাই ছেড়ে দেন।) তখন জোট- নিরপেক্ষ আন্দলনে ছিল। না হলে টেস্ট খেলার পরিকাঠামো বলতে জিম্বাবুয়ের কিছুই ছিল না। ওদের খেলোয়াড়রা সব অন্য দেশের ঘরোয়া ম্যাচ খেলে বেড়াত।
 আই.সি.সি আর এক কাঠি ওপরে। ১৯৭১ এ দক্ষিণ আফ্রিকার বদলে যে বিশ্ব একাদশ খেলে তাদের খেলা গুলো প্রথমে টেস্ট হবে বলে ঘোষণা করেও করেনি। আর নিজেদের সুবিধার জন্য পরে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ছ-দিনের সুপার টেস্ট করায় বিশ্ব একাদশের। এবং অজস্র একদিনের ম্যাচ হয়েছে সুপ্রানাশনাল দল তৈরি করে। আমার মাথায় ঢোকে না কেন তাহলে ডমিনিয়ন বনাম গ্রেট ব্রিটেন, কমনওয়েলথ দলের, এস.জে.ও.সি দল, বা অজস্র বিশ্বএকাদশ এর ম্যাচ গুলো কেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না।
 আসলে ঔপনিবেশিক যুগে ক্রিকেট ছিল সাম্রাজ্যবাদী নিতির একটা অঙ্গ ( প্যাটেলের বই তে একটা চ্যাপ্টার আছে ক্রিকেট ও সাম্রাজ্যবাদি নিতি নিয়ে, লেখক ঐ নীতির পক্ষে )। উত্তর ঔপনিবেশিক যুগে ক্রিকেট ছিল কমনওয়েলথ এর মধ্যেকার দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাধ্যম এবং অবশ্যই জোট নিরপেক্ষ রাজনীতির অংশ । ভারত ভীষণ উদ্বেগের সাথে দিন কাটিয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে। কারণ যদি নতুন সংবিধান ভারতকে কমনওয়েলথের বাইরে রাখতো তাহলে ভারতের টেস্ট খেলায় আর ফায়ার আসা হতো না।

আজ এই অবধি। পরে কোনও দিন বিশ্বায়ন ও উত্তর বিশ্বায়ন পর্বের ক্রিকেটের চরিত্র নিয়ে আলচনা করা যাবে।

Thursday, 14 April 2016

origin of first class cricket part 2

সমস্যা ছিল বিরাট। প্রথমত, ১৮৯৪ সালের ঘোষণা তে কোথাও বলা হয়নি যে ১৮৯৪ সালের আগের ম্যাচ গুলো কি হবে। তাছাড়া ওখানে অন্য দেশ গুলির প্রথম শ্রেণি নিয়ে কিছু বলা ছিল না। ইংল্যান্ড খেলতে গেলে তবেই তাকে প্রথম শ্রেণি বলা হবে তা ত মানা যায় কিন্তু নিজেদের খেলা কি হবে তাই নিয়ে কিছুই বলা নেই। যদিও ইতিহাসবিদ ও পরিসঙ্খ্যানবিদেরা মেনে নিয়েছেন যে ভারতে ১৮৯২, অস্ট্রেলিয়ায় ১৮৫৬ বা দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৮৮৯ থেকে প্রথম শ্রেণি খেলা হচ্ছে কিন্তু সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৪৭ এর আগে ইংল্যান্ড না খেললে পৃথিবীর কোথাও কোনও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়নি আর ইংল্যান্ড এও ১৮৯৪ সালের আগে হয়নি। ওগুলো সব "ধরে নেওয়া হয়" তালিকা ভুক্ত। কারন না হলে গ্রেস ,ব্র্যাডম্যান এর সারাজিবনের বহু ম্যাচ এমনকি প্রথম ১২ বছরের রঞ্জী ট্রফিও প্রথম শ্রেণির তকমা হারাবে।আসলে বড় বড় ক্লাব বা বিদেশি দলের সাথে ম্যাচ গুলোর গুরুত্ব বুঝে তাকে প্রথম শ্রেণি বলা হত। এমনকি টেস্ট কেও। ফলে সরকারি কোনও ঘোষণা ছিল না।  সেই সময়ে অর্থাৎ উনবিংশ শতকে উইসডেন ছাড়াও অনেক ক্রিকেট অ্যালমানাক বেরত। তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের স্কোর থাকত। পরবর্তীকালে অনেক ইতিহাসবিদরা নিজেদের ইচ্ছেমত অনেক খেলা কে এই ভাবে গুরুত্বদিয়ে তালিকা ভুক্ত করায় বিরাট সমস্যা হয়ে যায়। ফলে কেউ ১৮২৫, কেউ ১৭৭৩ কেও প্রথম শ্রেণির সুত্রপাত ভাবে। ক্রিকেট ইতিহাসবিদ ও পরিসংখ্যানবিদ দের সংগঠন ও তাদের  ওয়েবসাইট www.cricketarchive.com এবং উইসডেনের ওয়েবসাইট www.espncrickinfo.com ১৭৭১ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির সুত্রপাত ধরে। যদিও তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান এ অনেক তফাৎ আছে।

কয়েকটি উদাহরন দিলেই ব্যাপার টা বোঝা যাবে।
১। একসময় অর্থাৎ ১৯৪৭ এর আগে ১২ জন বা ১৩ জন এর দল গড়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হত। স্বাভাবিক যে ১০ম উইকেট এ শুধু নয় ১১ নম্বর উইকেটেও সর্বচ্চ রানের জুটি বলে একটা কিছু আছে। এখন www.cricketarchive.com বলছে তা হল সিনিয়র পাতউদি ও ফিরোজ ইন্দুলজি পালিয়া এর করা ৮৯ রান লাহরের লরেন্স মাঠে ( বর্তমানে বাগ  এ জিন্না) ভারতের পক্ষে অবশিষ্ট ভারতের বিরুদ্ধে ( এই লেখার সময় দেখলাম এটা কে মুছে দেওয়া হয়েছে,কিন্তু আমার কাছে পুরন স্ক্রীনশট আছে)। আর www.espncrickinfo.com দাবি করে যে ১১ নম্বর উইকেটে সেরা জুটি হল ২১১ রানের । ১৯০২-০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া তে এম.এলিস আর টি.জে.হেস্টিংস ভিক্টরিয়ার হয়ে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে করেছিল। যদিও তাঁরা এই দাবি কেন করেন জানিনা কারন ঐ ম্যাচ ১১ জনের ই ছিল আর জুটি টাও ১০ম উইকেটের ছিল। হেস্টিংস হলেন সেই ১২ জনের একজনের যিনি প্রথম শ্রেণি তে ১১ নম্বরে নেমে সেঞ্চুরী করেছেন।
 ২। ডব্লু. জি. গ্রেসের কেরিয়ার নিয়ে সমস্যা ছিল মারাত্মক। একসময় ধরা হত যে প্রথম শ্রেণিতে তিনি ৫৪,৮৯৬ রান করেছেন আর ১২৬টি সেঞ্চুরী করেছেন। পরে অনেক গবেষণা করে ১৫ টি ম্যাচ বাদ পরে। ফলে এখন ৫৪,২০০+ রান( সঠিক সংখ্যা ভুলে গেছি) আর ১২৪ টা সেঞ্চুরি ধরা হয়। মজার ব্যাপার ঐ ১৫ টা ম্যাচের রান গ্রেসের ক্ষেত্রে ধরা হলেও ঐ ম্যাচে খেলা আর কারোর প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারে ধরা হয়না। এবার বাকিটা বুঝে নিন।
 ৩। এমনও হয়েছে যে উইসডেন কে জানান হয়নি বলে সেই খেলা প্রথম শ্রেণির স্বীকৃতি পায়নি। ভিজিয়ানাগ্রামের মহারাজার দলের হয়ে খেলা জ্যাক হবসের দুটি শতরান যা তিনি সিংহলে মানে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে করেন সেগুলি বাদ পরে প্রথম শ্রেণি তালিকা থেকে কারন উইসডেন জানত না। জানলে তালিকে  থেকে যেত আর হবসের ১৯৭ টা শতরান হয়ে যেত ১৯৯ টা ( এখন অবশ্য মেনে নিয়েছে) ।

      পরের পোস্ট এ দেখাব কি ভাবে টেস্ট এবং প্রথম শ্রেণির তকমা দেওয়া নিয়ে নির্লজ্জ কাজ কর্ম হয়েছে।

Wednesday, 13 April 2016

origin of first class cricket

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা কবে থেকে শুরু হয় তা নিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিরাট  বিতর্ক। এবং মজার ব্যাপার আই.সি.সি. বা এম.সি.সি এই নিয়ে প্রায় কিছুই বলেনি। শুধু ১৮৯৪ আর ১৯৪৭ সালে দুটো ঘোষনা করে ছেড়ে দিয়েছে। আর তাই নিয়ে ১৯৫১ সাল থেকে চলছে বিরাট বিতর্ক। দেখা যাক কি ছিল সেই ঘোষণা পত্রে।
 
     ১৮৯৪ সালের মে মাসে এম.সি.সি যে ঘোষণা করে তাতে বলা ছিল ঃ
যে সমস্ত ক্লাব গুলি আর এম.সি.সি. এবং অক্সফোর্ড ও কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় , বিদেশাগত বড় দল (তখন শুধু অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং যে দল গুলি এম.সি.সি. কখন-সখন তৈরি করে যেমন নর্থ,সাউথ,জেন্টলম্যান,প্লেয়ারস প্রভৃতি দলগুলির মধ্যে আয়োজিত খেলাই হল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। আর ইংল্যান্ড যদি বিদেশে খেলতে গিয়ে এই ধরনের কোনও দলের বিরুদ্ধে খেলে তাহলে সেগুলিও প্রথম শ্রেণির খেলা বলে বিবেচিত হবে। এত কিছু বলা হল কিন্তু ১৮৯৪ এর আগে কোন ম্যাচ প্রথম শ্রেণির তা বলা হল না। টেস্ট ম্যাচ সম্পর্কে বলা হল যে শুধু  ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে খেলা হল টেস্ট ম্যাচ। আর এই সময়েই ১৮৭৭ থেকে প্রথম টেস্ট ম্যাচ ধরা হল।লিলিহোয়াইট একাদশ হয়ে গেল ইংল্যান্ড আর নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া সংযুক্ত একাদশ হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। ১৮৯৯ সালে স্মিথ আর লর্ড হক কে সন্মান জানিয়ে তাদের খেলা ১৮৮৯,১৮৯৫ ০ ১৮৯৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ম্যাচ গুলো কে টেস্ট ম্যাচ করা হল।

এরপর কেটে গেল প্রায় ৫০ বছর।ইতিমধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ,নিউজিলান্ড,ভারত কে টেস্ট খেলান হল। অবশেষে ১৯৪৭ সালে ইম্পিরিয়াল ক্রিকেট কাউন্সিল (আই.সি.সি.) ঘোষণা করল যে ঃ
A match of three or more days' duration between two sides of eleven players officially adjudged first-class, shall be regarded as a first-class fixture. Matches in which either team have more than eleven players or which are scheduled for less than three days shall not be regarded as first-class. The Governing body in each country shall decide the status of teams.
        এর পর থেকেই সারা পৃথিবীতে প্রথম শ্রেণি সরকারি ভাবে শুরু হল। ইতিহাস বিদরা অবশ্য ভারত,ওয়েস্ট ইন্ডিজ,নিউজিলান্ড,অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা  ইত্যাদি দেশে প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটের শুরুর ব্যাপারে একমত। কিন্তু ইংল্যান্ড নিয়ে চলল ঝামেলা। যার শুরু ১৯৫১ থেকে।রয় ওয়েবের দাবি করলেন যে ১৮৬৪ সালের আগের খেলা কে প্রথম শ্রেণির বলা অনুচিত।যুক্তি দিলেন যে লর্ডস বাদে কোথাও বোলিং এর পুরো তথ্য ছিল না কারন ফিল্ডার দের ক্যাচ বোলারের উইকেট তখন ছিল না তাই আর কোনও মাঠ পুরো বোলিং অ্যানালিসিস রাখত না।পরবর্তী কালে  আসসিয়েশন অফ ক্রিকেট স্ট্যাটিস্টিয়ান অ্যান্ড হিস্টরিয়ান এই মত  প্রায় মেনে নেন Guide to First-Class Cricket Matches Played in the British Isles গ্রন্থে। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটল না। 
 ......। ......( বাকিটা পরের পোস্ট  এ)

Monday, 11 April 2016

Specsavers County Championship 2016

শুরু হয়ে গেছে কাউন্টি ক্রিকেট মরশুম ১০ই এপ্রিল থেকে। প্রথম দিন চেস্টার লি ষ্ট্রীট এ ডারহ্যাম ২৫৬ করেছে। জেনিংসের ১১৬ বাদে তাদের বলার মত কিছুই নেই। সমারসেটের পক্ষে গ্রেগরী ৫৮ রানে ৪টি আর গ্রোয়েনওয়াল্ড ৫৬ রানে ৩টি উইকেট পেয়েছেন। সমারসেট অবশ্য বিপদে। প্রথম দিনের শেষে তাদের রান ৩ উইকেটে ৩০।এটি প্রথম ডিভিসনের খেলা।
সাউদাম্পটন এ প্রথম ডিভিশনের অন্য খেলায় হ্যাম্পশায়ার মাত্র ১৮৯ রানে তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট খেলোয়াড় ও কলকাতা নাইট রাইডারস এর  প্রাক্তনি রায়ান ম্যাক্লারেন ৮ নম্বরে নেমে ৮৪ না করলে এটাও হত না।ওয়ারউইকশায়ার এর বারকার ৪৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন।তারা আজ(১১ ই এপ্রিল) ব্যাট করবে।
নটিংহ্যাম এ নটস রা প্রথম দিনে ৪৪৬ তুলে আউট হয়ে গেছে।মুলানে ১১৩,ওয়েসেলস ৮১,সমিত প্যাটেল ৮৫ আর অধিনায়ক ক্রিস রিড অপরাজিত ৬৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রবি রামপাল ৯৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছে সারের হয়ে।সারে দিনের শেষে ৭/০। এটিও প্রথম ডিভিশন।
দ্বিতিয় ডিভিশনের প্রথম খেলায় চেমসফোরড এ গ্লচেস্তারশায়ার ২৬২ তে শেষ। অধিনায়ক রোডেরিক ৮৮(অপরাজিত) আর মার্শাল ৫১ করেন।এসেক্স এর পোর্টার ৫৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছে। জবাবে এসেক্স দিনের শেষে ৩৯/১।
দ্বিতিয় ডিভিশনের অপর খেলায় নরদাম্পটনশায়ার দিনের শেষে ২৯৬/২।ডাকেট ১৭৮ রানে ব্যাট করছেন। সাসেক্স এর সাথে এই খেলাটি হচ্ছে নরদাম্পটণে।

আর একটি দ্বিতিয় ডিভিশনের ম্যাচ হচ্ছে ওরকেস্টারে। ওরকেস্টারশায়ার এর সাথে কেন্ট এর। বৃষ্টির জন্য টস ই হয়নি।

Sunday, 3 April 2016


আমি তখন খুবই ছোট। ১৯৮৯ সাল।হঠাৎ শুকতারায় পাণ্ডব গোয়েন্দা বন্ধ হয়ে চলে গেল আনন্দমেলায়। আর তাঁর জায়গায় শুরু হল “পরাশর রায়” নামে একজন লেখকের “ত্রয়ীর অভিযান” নামে ধারাবাহিক যার প্রথম গল্প ছিল পোড়োবাড়ির রহস্য।খুব মজা করে পড়তাম। কলকাতার কাছাকাছি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মজিলপুরের প্রেক্ষাপটে শান্ত ওরফে শান্তনু মাইতি, মোটু ওরফে জীমূতবাহন চট্টোপাধ্যায় এবং শেলি মিত্র নামে কয়েকটি ৯-১০ শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীর গোয়েন্দাগিরি। খুব আপন ছিল এরা।এই গল্প টা শেষ  হলে পড়লাম আর একটি গল্প “একটি ঘরের রহস্য”। এই টা শেষ হবার পর আর কোনও দিন এই ধারাবাহিক বেরয়নি। খুব মিস করতাম বটেশ্বর কনস্টেবল, ইন্সপেক্টর মিস্টার রথিন মিত্র কে। কিন্তু সেই যে ৯৩-৯৪ নাগাদ শেষ হল আর বেরলও না।
তারপর অনেকদিন পরে নিউ বেঙ্গল প্রেস থেকে বই আকারে বেরলে জানলাম এই পরাশর রায় আসলে ফ্রান্সিসের লেখক অনিল ভৌমিক। যাই হক।আফসোশ আরও একটাও ছিল। দ্বিতীয় গল্পতে একটা বিড়ালের রহস্য সংক্রান্ত গল্পের উল্লেখ ছিল। সেটাও পাইনি।    
  গতকাল ৩১ সে মার্চ কলকাতার সেতু ভেঙ্গে পড়ল। ভারত ২০-২০ ওভারের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিল। আর আমার ছোটবেলার এই আনন্দটাও একটু নড়ে গেল। ইলাস্ট্রেশন ও কমিকস সংগ্রাহক ইন্দ্রনাথ দার ফেসবুক পোস্ট এ দেখলাম অনিল ভৌমিকের কিছু বইএর মলাট।আর তাতে হাওড়ার সুমন্ত বিশ্বাস লিখেছেন এই ধারাবাহিকের কথা যে এগুলো নাকি এনিক ব্লাইটনের মিস্ট্রি সিরিজের ফাইভ ফাইন্ড আউটারস থেকে হুবহু অনুকরন। এবং সুত্র উল্লেখ না করে। ওনাকে গল্পের নাম জিজ্ঞেস করতেই বললেন। খুঁজলাম। পেলাম। কথাটা সত্যি। খুব খারাপ লাগছে। ছোট বেলার স্বপ্ন এভাবে ভাঙবে ভাবিনি।
প্রথম গল্পটি অর্থাৎ “পোড়োবাড়ির রহস্য” হল “Mystery of the burnt house”  থেকে গৃহীত,দ্বিতীয় গল্পটি হল “একটি ঘরের রহস্য” যা পুরোপুরি ভাবে “The Mystery of the secret room” এর অনুবাদ।এছাড়া বোধ হয় বিড়ালের গল্পটি “Disappearing cat” থেকেই তৈরি হয়।
চরিত্রগুলিও মোটু ওরফে জীমূতবাহন চট্টোপাধ্যায় তৈরি হয়  ওরফে "Fatty"  থেকে। শান্তনু মাইতি হয় Laurence Daykin ওরফে Larry থেকে। শেলী নির্ঘাত আসে ডেইসি থেকে। দুটি অন্য চরিত্র  কুকুর টি বাদ পরে
বটেশ্বর চরিত্র টি তৈরি হয় Theophilus Goon বা মিস্টার গুন থেকে। এমনকি বটেশ্বর এর " অট যাও" আসলে মিস্টার গুন এর "ক্লিয়ার অরফ" সরাসরি অনুবাদ
 যাই হোক না কেন লেখক যদি আগে বিষয়টি খোলসা করতেন তাহলে বোধ হয় এত খারাপ লাগত না