Tuesday, 13 December 2016

রঞ্জী ট্রফি ২০১৬-১৭ প্রথম পর্ব।

রঞ্জী ট্রফি ২০১৬-১৭ এর লীগ পর্ব প্রায় শেষের পথে। এবারের রঞ্জী তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অন্যান্য বারের মতই ঘটেছে। একবার দেখে নেওয়া যাক কি কি ঘটল। 
·         গ্রুপ-এঃ মুম্বই এই গ্রুপ এর এক নম্বর দল ৩০ পয়েন্ট পেয়ে। ৮ টি খেলার মধ্যে তাঁরা ৩ টি জিতেছে। আয়ার তাদের দলের হয়ে লীগে সর্বোচ্চ রান কারি(৫৪১)। যাদব করেছেন ৪৯৪ রান। দলের হয়ে মোট ৭টি শতরান এখনও অবধি হয়েছে। ধবল কুলকারনি  ১৯ টি উইকেট নিয়ে দলের সেরা। মুম্বাই এর মৌলিকতা হল তাঁরা কারও ওপর নির্ভর নয়। দলগত সাফল্যের নিরিখে তাঁরা খেলছে। বাংলা আর গুজরাট ছাড়া কোথাও তাঁরা সমস্যায় পরেনি। তা বাংলা ম্যাচে তাঁরা ৩ পয়েন্ট পেয়েছে।
   ৮টি ম্যাচে দুটি জয় সহ ২৬ পয়েন্ট পেয়ে তামিলনাড়ু দ্বিতীয় স্থানে।তাদের কে এম গান্ধী ৩টি শতরান সহ ৭০৯ ও অভিনব মুকুন্দ ৩টি শতরান সহ ৬৭২ রান করেছে। ১০টি শতরান আছে তামিলনাড়ুর খেলোয়াড় দের নামে।বিঘ্নেশ ৩২ টি ও ক্রাইস্ট ২৭ টি উইকেট নিয়েছে তাদের হয়ে।
    তৃতীয় স্থানে আছে গুজরাট।তাদেরও পয়েন্ট ২৬। যদিও তাঁরা বাংলার সাথে ১ পয়েন্ট পেয়েছে খেলা না হওয়ার জন্য। প্রথমবার রঞ্জী খেলতে নামা  গুজরাটের প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চাল মাত্র ৭ ম্যাচে ১০৩৭ করে এক মরশুমে ১০০০ কারি রঞ্জী খেলোয়াড় দের মধ্যে তৃতীয় স্থানে নাম তুলেছে( প্রথম দুজন রুশি মোদী বোম্বের হয়ে ১৯৪৪-৪৫ সালে এবং লক্ষ্মণ হায়দ্রাবাদের হয়ে ২০০০-০১ সালে )। ৪টি শতরান সে করেছে। তাঁর মধ্যে একটা আবার ৩১৪।মোট গুজরাটের হয়ে ৯ খানা শতরান হয়েছে। বোলিং এর ক্ষেত্রে কালারিয়া ২৪ খানা উইকেট পেয়েছে। গুজরাট খুব একটা শক্তিশালী দল নয়। এবার বাংলা ম্যাচ খেলা হলে তাঁরা পরবর্তী পর্বে যেত না। তাঁরা সেমিফাইনাল গেলে একটা চমক হবে।
     ৪ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ওপরের দিকে থাকা বাংলা ৮ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে এবারের মতো রঞ্জী অভিজান শেষ করেছে। অধিনায়ক মনোজের  ৬৪৩ বা সুদীপের ৫৫৭ বা শ্রীবৎসের ৪৯২ তাদের পরবর্তী পর্বে তুলতে পারেনি।দলের পক্ষে ৯ খানা শতরান হয়েছে। ৩৩৭ করে তামিলনাড়ুকে ৩১০/৯ করে দিয়েও তাঁরা ১ পয়েন্ট পায়। মাত্র ৯৭ তে বরোদা আউট করেও ম্যাচ হারে। বরোদা এবার লীগে শেষ স্থান পেয়েছে। মুম্বই কে যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭/৫ করে তখন কেউ ভাবেনি যে বাকি ৫ টা উইকেট ৫৪ ওভারেও তোলা যাবে না। সর্বোপরি গুজরাট ম্যাচ না হওয়াটা অভিশাপ হয়ে ২৬ তম বছর টানা রঞ্জী শূন্য করে দিল। অশোক দিন্দার ৩৯ উইকেট বা অমিত কুইলার ১৭ তম বাংলার খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট কোনও কাজে দিল না। ৪ ম্যাচে ১৭ উইকেট পাওয়া সায়ন কে কেন এত কম খেলা খেলানো হল কে জানে? “বহিরাগত” ওঝা ব্যর্থ। অরিন্দম ঘোষের হাওয়া ঈস্বরনের লেগে গেছে। প্রথম আর শেষ খেলা ছাড়া তাকে পাওয়া যায় নি।

  ভাল শুরু করেও পঞ্চম স্থানে পাঞ্জাব। দলটা পুরোপুরি যুবরাজ সিং নির্ভর। তাঁর ‘আম্লাপুরম’ খ্যাত হ্যাসেল কিচ কে বিয়ে করতে যাওয়া পাঞ্জাবের কাল হয়ে গেল। মাত্র ৫ ম্যাচে যুবরাজের রান ছিল ৬৭২। যা কল (৪৯৫),জীবনজ্যোৎ(৪৪৮) বা গুরকিরাত (৪২৯) ৮ ম্যাচেও করতে পারেনি।দলের পক্ষে ৭টা শতরান হয়েছে।এস কল একাই ৩৫ টা উইকেট নিয়েছে। মনপ্রীত গনি এবং এস শর্মা ২৩টা করে উইকেট নিয়েছে। 

মধ্যপ্রদেশ আর উত্তরপ্রদেশ এর অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁরা পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে ছিলই না। পরপর দুই রঞ্জীতে ধুমকেতুর মতো উত্থান হওয়া মধ্যপ্রদেশের শ্রীবাস্তব কে এবার খুজেই পাওয়া যায়নি। বুড়ো ঘোড়া বুন্দেলা (৫৫৫) বা আরও দুজন ৫০০ এর বেশী রান করলেও (ভাটিয়া ও শর্মা) মাত্র ৫ টা শতরান দেখাচ্ছে তাদের কি হাল।ঈশ্বর পাণ্ডে ৩২ আর শাকুরে ২৭টা উইকেট নেয় মধ্যপ্রদেশের হয়ে।আর উত্তরপ্রদেশের হয়ে এবারে ৭টি শতরান হলেও কেদার যাদব (৪৬৬) আর কেউ ৪০০র গণ্ডি পেরোয় নি। কুলদিপ যাদব ৩৫ টা উইকেট নিয়েছে

  রেল এবারও ব্যর্থ। গ্রুপে শেষের আগের স্থান তাঁরা পেয়েছে।এই শতাব্দির শুরুতে তাঁরা রঞ্জী ফাইনাল পরপর দুবার খেলে। বেশ কিছু খেলোয়াড় তাদের দলকে শক্তিশালি করেছিলো যেমন কার্তিক, পারিদা, বাঙ্গার যারা অনেকেই অবসর নেওয়ায় তাদের জায়গা পূর্ণ হয়নি। রেল আসা করা যায় এদিকে নজর দেবে। তাদের শুক্লা ও বাসকর ৬০০ এর বেশী রান করে এবং কে শর্মা ৩১ টা উইকেট পেলেও মাত্র ৪টি শতরান হয়। বোলিং বাকি কেউ কিছু করতে পারেনি।

    বিজয় হাজারের বরোদা  আতঙ্কিত করেছে ক্রিকেটপ্রেমী দের। অন্ততঃ যারা রঞ্জির ইতিহাস জানে তাদের তো বটেই। কয়েকবছর আগে হায়দ্রাবাদ ঠিক এই অবস্থায় পরেছিল। এবার বরোদা এই জায়গায় এসেছে।বাংলা ছাড়া তাঁরা কাউকে হারাতে পারেনি। যদিও হুডা একটি অপরাজিত ২৯৩ সহ ৭০৯ করেছে বা দেওধার ৬২২ করেছে কিন্তু কোনও বোলার দাগ কাটতে পারে নি শুধু শেঠ একটি ৭/৩৬ সহ ১৮ টি উইকেট নেয়। বোলিং বরোদা কে ডোবাল।

পরবর্তী পর্বে আসবে গ্রুপ বি এর কথা।