১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর পূর্ববঙ্গে ক্রিকেট বন্ধ হয় নি। তবে খেলার জনপ্রিয়তা থাকলেও বড় রকমের খেলা হত না। কিছু স্থানীয় লিগ ছাড়া কোনও বড় খেলা হতই না। কিন্তু ১৯৫২-৫৩ সালে পাকিস্তান ভারতে খেলতে এলে তাঁরা পূর্ব পাকিস্তানে গিয়ে তিনটে ম্যাচ খেলে যদিও সেগুলো কোনওটাই প্রথম শ্রেণির নয়। এই ম্যাচে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে খেলছিলেন এক প্রাক্তন টেস্ট খেলোয়াড় । সিন্ধ প্রদেশের জামশেদ খুদাদাদ ইরানি। তিনি ১৯৪৭-৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি দুটি টেস্ট খেলেন ভারতীয় দলের হয়ে। এবং দেশ ভাগের পর করাচি ও সিন্ধের যৌথ দলের হয়ে শেষ প্রথম শ্রেণির খেলা খেলেন প্রথম কমনওয়েলথ দলের বিরুদ্ধে মাত্র ২৬-২৭ বছর বয়সে। তারপর এই দুটো ম্যাচ খেলেন। আর শেষ যে খেলার স্কোর এ ওনার নাম পাওয়া যায় তা হল কারদার একাদশ বনাম পূর্ব পাকিস্তান গভর্নর একাদশের ম্যাচ।তাতে উনি কারদারের দলে খেলেন যা আসলে পাকিস্তানের টেস্ট দল ছিল। এটা বলা মুস্কিল কেন উনি আর টেস্ট খেলেন নি। গুল মহাম্মদ কে পাকিস্তান টেস্ট খেলাল বুড়ো বয়সে আর যুবক ইরানি বাদ গেল কেন বলা মুস্কিল।
আর এক আশ্চর্য ব্যাপার ! পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে একজন খেলেছিলেন তার নাম মহসিন কাজী। তিনি ১৯৩৬-৩৭ সালে বিহারের হয়ে বিহার দলের প্রথম রঞ্জী ম্যাচ খেলেন বাংলার বিরুদ্ধে। তিনি পরে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে কায়েদ-এ-আজম ট্রফি খেলেন। সেটা বড় কথা না। বড় কথা হল এই ম্যাচে বিহারের হয়ে খেলা সুবীর চক্রবর্তী পরবর্তী কালে পূর্ব পাকিস্তান সবুজ মানে ইস্ট পাকিস্তান গ্রিন দলের হয়ে কায়েদ-এ-আজম খেলেন। পূর্ব পাকিস্তান দলে খুব বেশি হলে চার জন কি পাঁচ জন হিন্দু বাঙালি খেলেছেন। সে খেলতে পারেন কিন্তু রঞ্জী খেলা কোনও হিন্দু খেলোয়াড় তাও আবার বাংলা নয় অন্য দলের হয়ে খেলা বাঙালি হিন্দু সে কেন পূর্ব পাকিস্তানে চলে গেল জানা যায় না। মনে হয় মহসিন গাজি ও সুবীর চক্রবর্তী নিজেরা পরামর্শ করেই এই কাজ করেন।
পূর্ব পাকিস্তান কায়েদ-এ-আজম খেলা শুরু করে ১৯৫৪-৫৫ সাল নাগাদ। কম্বাইন্ড সারভিসেসের বিরুদ্ধে। তারা মোট ১৯ টি প্রথম শ্রেণি খেলা খেলে।এছাড়া ইস্ট পাকিস্তান এ দুটি (দুটি ম্যাচ ইস্ট পাকিস্তান বি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে),ইস্ট পাকিস্তান বি দুটি ম্যাচ( একটি ইস্ট পাকিস্তান এ এবং অপর টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে) খেলে যা প্রথম শ্রেণির ছিল। এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট পাকিস্তান গভর্নর,ইস্ট পাকিস্তান হোয়াইট, ইস্ট পাকিস্তান গ্রীন,ইস্ট পাকিস্তান রেলওয়ে,ঢাকা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এডুকেশন বোর্ড,ইস্ট জোন,কম্বাইন্ড সারভিসেস,পাবলিক ওয়ারকস ডিপার্টমেন্ট,রাজশাহী,চট্টগ্রাম,খুলনা ইত্যাদি দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে। যদিও খুলনা দলে কারা খেলেছিলেন বা নির্বাচিত হন তার কোনও খবর নেই কারন ঐ ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়।চট্টগ্রামের ও প্রায় তাই। তাঁরা তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও কোনও ম্যাচই খেলা হয়নি। কেন জানি না। দাঙ্গাও কারন হতে পারে।তবে রাজশাহি দলের খেলোয়াড় দের নাম পাওয়া যায়।
সে যাই হোক পাকিস্তান দলে কোনও বাঙালি সুযোগ না পেলেও এমন বহু খেলোয়াড় আছে যারা পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণি ও পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেছেন যাদের মধ্যে সবথেকে ভাল ছিলেন নাসিম-উল-ঘানি।আসলে এরা কেউ কেউ বাঙালি ছিলেন না। যখন কোনও দল পাকিস্তান সফরে আসত তখন এঁদের পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পাঠানো হত খেলার জন্য। মাত্র একজন খেলোয়াড় পাকিস্তানের হয়ে দুটি টেস্ট খেলেন যিনি তার আগে কোনও দিন কোনও পশ্চিম পাকিস্তানের দলের হয়ে খেলেন নি।পরে অবশ্য খেলেন। তবে তিনি বাঙালি ছিলেন না। তিনি বেনারসের ছেলে নিয়াজ আলি সিদ্দিকি। আর রকিবুল হাসান নামে একজন বাঙালি খেলোয়াড় মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে দ্বাদশ ব্যক্তি হন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। রকিবুল এর পর ১৯৭১ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইলেভেন যখন পাকিস্তানে খেলতে যায় তখন বোর্ড অফ ক্রিকেট কন্ট্রোল ইন পাকিস্তান দলের হয়ে খেলেন যাকে অনেক সময়ে বেসরকারি টেস্ট বলে দাবি করা হয়।রকিবুল পরে বাংলাদেশের হয়ে দুটো ওয়ান ডে ইন্টারন্যাশনাল খেলেছিলেন।
আজ এই অবধি। পূর্ব পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে আবার অন্য কোনও দিন।
আর এক আশ্চর্য ব্যাপার ! পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে একজন খেলেছিলেন তার নাম মহসিন কাজী। তিনি ১৯৩৬-৩৭ সালে বিহারের হয়ে বিহার দলের প্রথম রঞ্জী ম্যাচ খেলেন বাংলার বিরুদ্ধে। তিনি পরে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে কায়েদ-এ-আজম ট্রফি খেলেন। সেটা বড় কথা না। বড় কথা হল এই ম্যাচে বিহারের হয়ে খেলা সুবীর চক্রবর্তী পরবর্তী কালে পূর্ব পাকিস্তান সবুজ মানে ইস্ট পাকিস্তান গ্রিন দলের হয়ে কায়েদ-এ-আজম খেলেন। পূর্ব পাকিস্তান দলে খুব বেশি হলে চার জন কি পাঁচ জন হিন্দু বাঙালি খেলেছেন। সে খেলতে পারেন কিন্তু রঞ্জী খেলা কোনও হিন্দু খেলোয়াড় তাও আবার বাংলা নয় অন্য দলের হয়ে খেলা বাঙালি হিন্দু সে কেন পূর্ব পাকিস্তানে চলে গেল জানা যায় না। মনে হয় মহসিন গাজি ও সুবীর চক্রবর্তী নিজেরা পরামর্শ করেই এই কাজ করেন।
পূর্ব পাকিস্তান কায়েদ-এ-আজম খেলা শুরু করে ১৯৫৪-৫৫ সাল নাগাদ। কম্বাইন্ড সারভিসেসের বিরুদ্ধে। তারা মোট ১৯ টি প্রথম শ্রেণি খেলা খেলে।এছাড়া ইস্ট পাকিস্তান এ দুটি (দুটি ম্যাচ ইস্ট পাকিস্তান বি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে),ইস্ট পাকিস্তান বি দুটি ম্যাচ( একটি ইস্ট পাকিস্তান এ এবং অপর টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে) খেলে যা প্রথম শ্রেণির ছিল। এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট পাকিস্তান গভর্নর,ইস্ট পাকিস্তান হোয়াইট, ইস্ট পাকিস্তান গ্রীন,ইস্ট পাকিস্তান রেলওয়ে,ঢাকা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এডুকেশন বোর্ড,ইস্ট জোন,কম্বাইন্ড সারভিসেস,পাবলিক ওয়ারকস ডিপার্টমেন্ট,রাজশাহী,চট্টগ্রাম,খুলনা ইত্যাদি দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে। যদিও খুলনা দলে কারা খেলেছিলেন বা নির্বাচিত হন তার কোনও খবর নেই কারন ঐ ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়।চট্টগ্রামের ও প্রায় তাই। তাঁরা তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও কোনও ম্যাচই খেলা হয়নি। কেন জানি না। দাঙ্গাও কারন হতে পারে।তবে রাজশাহি দলের খেলোয়াড় দের নাম পাওয়া যায়।
সে যাই হোক পাকিস্তান দলে কোনও বাঙালি সুযোগ না পেলেও এমন বহু খেলোয়াড় আছে যারা পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণি ও পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেছেন যাদের মধ্যে সবথেকে ভাল ছিলেন নাসিম-উল-ঘানি।আসলে এরা কেউ কেউ বাঙালি ছিলেন না। যখন কোনও দল পাকিস্তান সফরে আসত তখন এঁদের পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পাঠানো হত খেলার জন্য। মাত্র একজন খেলোয়াড় পাকিস্তানের হয়ে দুটি টেস্ট খেলেন যিনি তার আগে কোনও দিন কোনও পশ্চিম পাকিস্তানের দলের হয়ে খেলেন নি।পরে অবশ্য খেলেন। তবে তিনি বাঙালি ছিলেন না। তিনি বেনারসের ছেলে নিয়াজ আলি সিদ্দিকি। আর রকিবুল হাসান নামে একজন বাঙালি খেলোয়াড় মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে দ্বাদশ ব্যক্তি হন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। রকিবুল এর পর ১৯৭১ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইলেভেন যখন পাকিস্তানে খেলতে যায় তখন বোর্ড অফ ক্রিকেট কন্ট্রোল ইন পাকিস্তান দলের হয়ে খেলেন যাকে অনেক সময়ে বেসরকারি টেস্ট বলে দাবি করা হয়।রকিবুল পরে বাংলাদেশের হয়ে দুটো ওয়ান ডে ইন্টারন্যাশনাল খেলেছিলেন।
আজ এই অবধি। পূর্ব পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে আবার অন্য কোনও দিন।



