Tuesday, 26 April 2016

কিছু কথা কিছু স্মৃতি-- পূর্ব পাকিস্তান ও ক্রিকেট

১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর পূর্ববঙ্গে ক্রিকেট বন্ধ হয় নি। তবে খেলার জনপ্রিয়তা থাকলেও বড় রকমের খেলা হত না। কিছু স্থানীয় লিগ ছাড়া কোনও বড় খেলা হতই না। কিন্তু ১৯৫২-৫৩ সালে পাকিস্তান ভারতে খেলতে এলে তাঁরা পূর্ব পাকিস্তানে গিয়ে তিনটে ম্যাচ খেলে যদিও সেগুলো কোনওটাই প্রথম শ্রেণির নয়। এই ম্যাচে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে খেলছিলেন এক প্রাক্তন টেস্ট খেলোয়াড় । সিন্ধ প্রদেশের জামশেদ খুদাদাদ ইরানি। তিনি ১৯৪৭-৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি দুটি টেস্ট খেলেন ভারতীয় দলের হয়ে। এবং দেশ ভাগের পর করাচি ও সিন্ধের যৌথ দলের হয়ে শেষ প্রথম শ্রেণির খেলা খেলেন প্রথম কমনওয়েলথ দলের বিরুদ্ধে মাত্র ২৬-২৭ বছর বয়সে। তারপর এই দুটো ম্যাচ খেলেন। আর শেষ যে খেলার স্কোর এ ওনার নাম পাওয়া যায় তা হল কারদার একাদশ বনাম পূর্ব পাকিস্তান গভর্নর একাদশের ম্যাচ।তাতে উনি কারদারের দলে খেলেন যা আসলে পাকিস্তানের টেস্ট দল ছিল। এটা বলা মুস্কিল কেন উনি আর টেস্ট খেলেন নি। গুল মহাম্মদ কে পাকিস্তান টেস্ট খেলাল বুড়ো বয়সে আর যুবক ইরানি বাদ গেল কেন বলা মুস্কিল।
    আর এক আশ্চর্য ব্যাপার ! পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে একজন খেলেছিলেন তার নাম মহসিন কাজী। তিনি ১৯৩৬-৩৭ সালে বিহারের হয়ে বিহার দলের প্রথম রঞ্জী ম্যাচ খেলেন বাংলার বিরুদ্ধে। তিনি পরে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে কায়েদ-এ-আজম ট্রফি খেলেন। সেটা বড় কথা না। বড় কথা হল এই ম্যাচে বিহারের হয়ে খেলা সুবীর চক্রবর্তী পরবর্তী কালে পূর্ব পাকিস্তান সবুজ মানে ইস্ট পাকিস্তান গ্রিন দলের হয়ে কায়েদ-এ-আজম খেলেন। পূর্ব পাকিস্তান দলে খুব বেশি হলে চার জন কি পাঁচ জন হিন্দু বাঙালি খেলেছেন। সে খেলতে পারেন কিন্তু রঞ্জী খেলা কোনও হিন্দু খেলোয়াড়  তাও আবার বাংলা নয় অন্য দলের হয়ে খেলা বাঙালি হিন্দু সে কেন পূর্ব পাকিস্তানে চলে গেল জানা যায় না। মনে হয় মহসিন গাজি ও সুবীর চক্রবর্তী নিজেরা  পরামর্শ করেই এই কাজ করেন।
  পূর্ব পাকিস্তান কায়েদ-এ-আজম  খেলা শুরু করে ১৯৫৪-৫৫  সাল নাগাদ। কম্বাইন্ড সারভিসেসের বিরুদ্ধে। তারা মোট ১৯ টি প্রথম শ্রেণি খেলা খেলে।এছাড়া ইস্ট পাকিস্তান এ দুটি (দুটি ম্যাচ ইস্ট পাকিস্তান বি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে),ইস্ট পাকিস্তান বি দুটি ম্যাচ( একটি ইস্ট পাকিস্তান এ এবং অপর টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে) খেলে যা প্রথম শ্রেণির ছিল। এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট পাকিস্তান গভর্নর,ইস্ট পাকিস্তান হোয়াইট, ইস্ট পাকিস্তান গ্রীন,ইস্ট পাকিস্তান রেলওয়ে,ঢাকা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এডুকেশন বোর্ড,ইস্ট জোন,কম্বাইন্ড সারভিসেস,পাবলিক ওয়ারকস ডিপার্টমেন্ট,রাজশাহী,চট্টগ্রাম,খুলনা ইত্যাদি দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে। যদিও খুলনা দলে কারা খেলেছিলেন বা  নির্বাচিত হন তার কোনও খবর নেই কারন ঐ ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়।চট্টগ্রামের ও প্রায় তাই। তাঁরা তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও কোনও ম্যাচই খেলা হয়নি। কেন জানি না। দাঙ্গাও কারন হতে পারে।তবে রাজশাহি দলের খেলোয়াড় দের নাম পাওয়া যায়।
  সে যাই হোক পাকিস্তান দলে কোনও বাঙালি সুযোগ না পেলেও এমন বহু খেলোয়াড় আছে যারা পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণি ও পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেছেন যাদের মধ্যে সবথেকে ভাল ছিলেন নাসিম-উল-ঘানি।আসলে এরা কেউ কেউ বাঙালি ছিলেন না। যখন কোনও দল পাকিস্তান সফরে আসত তখন এঁদের পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পাঠানো হত খেলার জন্য। মাত্র একজন খেলোয়াড় পাকিস্তানের হয়ে দুটি টেস্ট খেলেন যিনি  তার আগে  কোনও দিন কোনও পশ্চিম পাকিস্তানের দলের হয়ে খেলেন নি।পরে অবশ্য খেলেন। তবে তিনি বাঙালি ছিলেন না। তিনি বেনারসের ছেলে নিয়াজ আলি সিদ্দিকি। আর রকিবুল হাসান নামে একজন বাঙালি খেলোয়াড় মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে দ্বাদশ ব্যক্তি হন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। রকিবুল  এর পর ১৯৭১ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইলেভেন যখন পাকিস্তানে খেলতে যায় তখন বোর্ড অফ ক্রিকেট কন্ট্রোল ইন পাকিস্তান দলের হয়ে খেলেন যাকে অনেক সময়ে বেসরকারি টেস্ট বলে দাবি করা হয়।রকিবুল পরে বাংলাদেশের হয়ে দুটো ওয়ান ডে ইন্টারন্যাশনাল খেলেছিলেন।
   আজ এই অবধি। পূর্ব পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে আবার অন্য কোনও দিন।  

Monday, 25 April 2016

পটলা দা ...... বাঙালি ও ক্রিকেটের বিস্মৃত অধ্যায়

আমরা টেনিদা, ঘনাদার কথা পড়েছি...ফেলুদাও পড়েছি... আজ শুনব পটলাদার কথা। না ইনি কোনও গুলবাজ দাদা বা গোয়েন্দা নন। তবে টেনিদা বা ফেলুদার সাথে এনার দুটি মিল আছে। ইনি ক্রিকেট খেলতেন ( বাকি দুজন ও খেলেছেন), আর এঁর জন্ম কলকাতায়। ১৯১৮ সালের ১৬ জুন। বেছে থাকলে ৯৮-৯৯ বছর বয়স হত। সে যাই হোক। বাঙালি হলেও বাংলার হয়ে কোনও দিন ক্রিকেট খেলেননি। খেলেছেন বিহারের হয়ে। সাথে আরও দুই ভাই বিরাজ আর বিকাশ। এরাও দুজনে বিহারের হয়েই রঞ্জী খেলেছেন। আজ থেকে ৫০-৫৫ বছর আগে ওড়িশা বা বিহার আসামের দলে প্রায় ৮-৯ জন করে বাঙালি খেলোয়াড় খেলতেন। বিহারের অধিনায়ক ছিলেন শুটে ব্যানার্জী। বিহার ভাল দল না হলেও এঁদের জন্য রঞ্জী সেমিফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনাল দু এক বার খেলেছে। পটলা দা মানে বিমলকৃষ্ণ বসু ছাড়া একসময় পূর্বাঞ্চল দল তৈরি হত না তাই ১৯৪০-৪১ থেকে ১৯৬৩-৬৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪৫ টা প্রথম শ্রেণির খেলা খেললেও তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের  বিরুদ্ধে দুবার, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একবার, এম.সি.সি.র বিরুদ্ধে একবার আর কমনওয়েলথ দলের বিরুদ্ধে তিনবার খেলেছেন। ৩৮ টি রঞ্জী ম্যাচে ২০৫ টা উইকেট পান তিনি। তার আগে রঞ্জী তে বিহারের হয়ে কেউ এত উইকেট পায়নি...তার পরে পেয়েছেন অবিনাশ কুমার।
  পটলা দার এক জন দাদাও ছিল। তিনিও ক্রিকেট খেলতেন কিন্তু প্রথম শ্রেণি খেলার সুযোগ পাননি। পাবেন কি করে ? তার আগে দেশের জন্য আরও বড় টেস্ট খেলতে গিয়ে যে আউট হয়ে গেলেন। আজও তার নাম আমাদের ছোটোবেলা থেকে  জানতে হয়। কলকাতায় থাকতে গেলে রোজ সেই নাম শুনতে হয়।
          পশ্চিম প্রান্তের ভারত যখন চরকা কেটে মুক্তির আলো খুঁজছে তখন কলকাতায় কান পাতলে রাইটার্সের অলিন্দে শোনা যায় গুলির শব্দ। সিম্পসন কে আউট করে পটলা দার দাদা স্বেছায় আউট হলেন ...ব্রিটিশ দের হাতে ধরা দেবেন না বলে। কোনও দিন টেস্ট না খেলেও তাই বিমল কৃষ্ণ বসু কোনও আফশোষ করেন নি। ১৯৩২  এ ভারত টেস্ট খেলে। বাংলা রঞ্জী শুরু করে ৩৫ সালে। বেচে থাকলে হয়ত ১৯৩৯  সালে রঞ্জী জয়ী দলের সদস্য হতেন। কিন্তু তার থেকে অনেক বড় টেস্টে  ঝড় তুলে বিদায় নেন বিনয় কৃষ্ণ বসু। বিনয় বাদল দিনেশের বিনয়। পটলা দার বড়দা।
   যারা বলে ফুটবল স্বাধীনতায় প্রেরণা  জুগিয়েছে আর ক্রিকেট কোনও দিন এদিকে যায়নি; ব্রিটিশদের বন্ধুরাই এই খেলা খেলত তাদের একটু অন্য স্বাদ দেওয়ার জন্য এই লেখা। পটলা দা ১৯৯৬ সালে পাটনায় মারা যান।

Monday, 18 April 2016

Bengal's captain: part 2

কোচবিহারের মহারাজা জগদ্বিপেন্দ্রনারায়ন (১৯১৫-১৯৭০) বাংলার অধিনায়ক হন ।মোট ১৫ টা ম্যাচ খেলেন। তাঁর মধ্যে ৮ টায় অধিনায়ক।
এরপর বাংলার অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার কমল ভট্টাচার্য দুটি ম্যাচে অধিনায়ক হন। যে ১৬ জন বাংলার খেলোয়াড় রঞ্জী তে ১০০ উইকেট পেয়েছেন ইনি তাদের একজন।
এরপরে অধিনায়ক সুশীল বসু। ১৫ টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৩টী ম্যাচে বাংলার ক্যাপ্টেন। 
নির্মল চ্যাটারজি। নাম শুনলেই কিরকম একটা লাগে। ফজল মামুদ কে পিটিয়ে সেঞ্চুরী করা এই ক্রিকেটারটি  তৎকালীন বাংলার সেরা ব্যাটসম্যান। কিন্তু মাত্র ৫টা খেলায় অধিনায়ক।

সম্ভবতঃ শাকিব আল হাসানের আগে এর থেকে বড় অলরাউন্ডার বাংলাভাষীদের মধ্যে আর আসেনি। মাশরফি বিন মুরতাজা তাঁর সেরা সময়ে যত জোরে বল করত তাঁর থেকে অনেক জোরে বল ইনি করতেন। দুবারের রঞ্জী জয়ী মহারাস্ট্র কে ৪১ এ অল আউট, টেনিসন, রাইডার বা অস্ট্রেলীয় সেনা দলের বিরুদ্ধে দারুন পারফরমেন্স বা ১১ নম্বরে নেমে ১০০ কিংবা বিহার রঞ্জী ফাইনালে তোলা সব ই তাঁর কৃতিত্ব। তাঁর জন্যই পূর্বাঞ্চল ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে ১০ উইকেটে হারায়।কিন্তু ইনি বাংলাকে মাত্র একবার ই নেতৃত্ব দেন। শরদিন্দুনাথ ব্যানারজি।লোকে তাকে চেনে শুটে বলে। সেই '৩০, '৪০ এর দশকে যখন খেলা খুবই কম হত তখন প্রথম শ্রেনিতে ৩৭১৫ রান আর ৩৮৫ টা উইকেট শুনলে একটু অবাক হতে হয়। মনে রাখবেন আজও ভারতে বছরে ১৫ টা ম্যাচ খেলা খুব কঠিন।   

সি.এস. নাইডু, সি.কের ভাই বাংলার হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনটি খেলায়।


পূর্ববাংলার ঢাকাতে একটা জায়গা আছে। তাঁর নাম ভাগ্যকুল। সেখানকার রায় পরিবার ব্যবসায়ি হিসেবে খুব বিখ্যাত। পরে তাঁরা খেলাধুলাতেও নাম করেন। তিন তিন জন টেস্ট খেলোয়াড় এসেছে এই পরিবার থেকে। তাদের মধ্যে যিনি সেরা তিনি বাংলার ও সেরা। পঙ্কজলাল রায়। দক্ষ রাইট উইঙ্গার টি I.F.A. এর হয়ে  বার্মার বিরুদ্ধে গোল করেন এবং বার্ষিক যে ইউরপিয়ান বনাম ইন্ডিয়ান খেলা হত তাতেও শেষ দুবছর গোল করেন। তাঁর সাথে লেফট উইঙ্গার খেলতেন অজয় বসু। যাই হোক তিনি রঞ্জী তে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন। তারপর সেঞ্চুরি করেন হোলকার আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিরুদ্ধে। অবশেষে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভার্সিটি দলের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে ৮৯ করেন। এবং টেস্ট খেলেন। ১৯৫১-১৯৬০ এর প্রথম দিক অবধি ৪৩ টি টেস্ট  এ ২৪৪২ রান করেন ৫ টি সেঞ্চুরি সহ। সাথে বিশ্বরেকর্ড।প্রথম উইকেট এ ৪১৩ রানের (একজন বাঙালির করা রেকর্ড ভাঙল ১১ জন বাঙ্গালির হাতে)। যাই হোক প্রথম বাঙালি হিসেবে ১০,০০০ রান প্রথম শ্রেণির খেলায় (মোট ১১,৮৬৮ - ৩৩ টি শতরান সহ ) এবং টেস্ট জগতে প্রথম বাঙালি অধিনায়ক আজ রঞ্জিতে সর্বাধিক খেলায় অধিনায়ক। ৪৩ টি তে।

রঞ্জীতে প্রথম এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার প্রথম রেকর্ড করেন প্রেমাংশু চ্যাটারজি। প্রথম শ্রেনিতে ৩২ ম্যাচে ১৩৪ উইকেট নেওয়া এই বোলার ৪ টে খেলায় বাংলার অধিনায়ক হন।

বাংলার আর এক শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান শ্যামসুন্দর মিত্র মাত্র টা খেলায় ক্যাপ্টেন ছিলেন যদিও দুই দশক তাঁর মত ব্যাটসম্যান ছিলই না প্রায়।৫০ গড়ে ৩০০০ এর বেশি রান ৭টা সেঞ্চুরি সহ। তিনি টেস্ট খেলেননি এটা ভারতের লজ্জা

কাকার মতই বড় ব্যাটসম্যান ছিলেন অম্বর রায়। চারটে টেস্ট খেলেছেন, প্রথম শ্রেণি তে ৭০০০ রান করেছেন ১৮টা সেঞ্চুরি সহ। ২৪টি খেলায় বাংলার অধিনায়ক। তাঁর বাহাতি বাংলা তো বটেই ভারতে কম এসেছে।

আজ তবে এইটুকু থাক/ বাকি কথা পরে হবে।

Sunday, 17 April 2016

Bengal's captain part 1

ক্রিকেট যদিও আমাদের উপমহাদেশে ১৮ শতকে শুরু হয়েছিল কিন্তু ভারতীয় দের তাতে অংশ নিতে সময় লেগেছিল প্রায় ৭০ বছর। আর বাঙ্গালীরা তাতে অংশ নেয় সেই উনবিংশ শতকে । আমার এই লেখাটি পুরোপুরিভাবে বাংলার অধিনায়ক দের ধরে।
এই লেখাতে "বাংলা" বলতে বোঝাচ্ছে অবিভক্ত ভারতের  বাংলা কে আর ১৯৪৭ এর পরে "পশ্চিমবঙ্গ" কে । কারন বাংলা বলতে ভারতীয় ক্রিকেটে এই দলটিকেই বোঝায়। আরেকটি কথা। অভিবক্ত যে বাংলা রঞ্জী জিতেছিল সেই দলটির নাম ছিল " বাংলা ও আসাম"।
 "বাংলা" নামক ভাষার উৎপত্তি যে অঞ্চল থেকে সেখান থেকে আজ অবধি প্রায় ২৭ টি দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছে। কাজেই যদি সীমারেখা না ধার্য করি তাহলে বিষয়টি ... বুঝতেই পারছেন।
    প্রথম যখন এখানে প্রথম শ্রেণি ক্রিকেট শুরু হয় তখন কোনও বাংলার দল খেলেনি। একমাত্র ১৮৭৯ সালে কেম্ব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে  এ.এস.পেরেরা বলে একজন খেলেছিলেন যার জন্ম কলকাতায়। সম্ভবত তিনি প্রথম খেলোয়াড় প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে যার জন্ম কলকাতায়। যদিও কলকাতায় ভাল ক্রিকেট খেলা হত কিন্তু প্রথম শ্রেণি শুরু হয়নি। সেটা শুরু হল ১৯১৭-১৮ সালে।
 বাংলার গভর্নর দলের সাথে কোচবিহারের মহারাজা দলের খেলা।এইচ.এল.সিমন্স ছিলেন বাংলার গভর্নর দলের নেতা আর কোচবিহার দলের অধিনায়ক ছিলেন রাজকুমার ভিক্টর নিতেন্দ্রনারায়ন। সিমন্স মোটামুটি অল রাউন্ডার ছিলেন। ১১০ টা প্রথম শ্রেণির খেলায় তাঁর ৩০০০ রান  আর ২০০ উইকেট ছিল। যাই হোক ভিক্টরই প্রথম বাঙ্গালি যিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অধিনায়ক ছিলেন। কোচবিহার দলটি '৪০ এর দশক অবধি প্রথম শ্রেণি খেলেছে। তাদের বাকি অধিনায়করা ছিলেন মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ন, মহারাজা জগদ্বিপেন্দ্রনারায়ন,কুমার হিতেন্দ্রনারায়ন( প্রথম কাউন্টি খেলা বাঙ্গালি),ফ্রাঙ্ক ট্যারান্ট এবং এ.ই.জি.ম্যাক্লায়েন্স এডওয়ার্ড।
 গভর্নর দল ও ১৯৪৮ অবধি প্রথম শ্রেণির খেলা খেলে এ.এল.হোসি (বাংলার প্রথম রঞ্জী অধিনায়ক),সি.কে. নাইডু, কার্ত্তিক বোস, মুস্তাক আলি, টম লংফিল্ড ( রঞ্জী জয়ী অধিনায়ক) এবং শুটে ব্যানারজির নেতৃত্বে।
 এছাড়া আরও দুটো দল বাংলা থেকে প্রথম শ্রেণি খেলেছে।এরা হল বেঙ্গল সাইক্লন এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রি একাদশ। সাইক্লন দলের অধিনায়ক ছিলেন সি.কে. নাইডু। আর মুখ্যমন্ত্রি দলের নেতারা হলেন লালা অমরনাথ এবং মন্সুর আলি খান পাতৌদি।
 বাংলা নামের কোনও দল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে ১৯৩৫ সালে জ্যাক রাইডারের বেসরকারি অস্ট্রেলিয়া দলের বিরুদ্ধে যাদের নিমন্ত্রন করে এনেছিলেন পাতিয়ালার মহারাজা। বাংলার অধিনায়ক হন হোসি। তিনি রঞ্জীতেও বাংলার দলনায়ক হন। প্রথমবারই বাংলা সেমিফাইনাল খেলে।হোসি ভাল ব্যাটসম্যান ছিলেন।
 তাঁর পর দলের অধিনায়ক হন রঞ্জী জয়ী দলের এক সদস্য (পরবর্তীকালে অবশ্যই) পি.ভ্যানডারগুচ।মাত্র দুটি ম্যাচে তিনি দলনেতা ছিলেন।মাঝারি ধাঁচের অলরাউন্ডার ৫১ ম্যাচে ১৫০০ এর কিছু বেশি রান আর ৭৩ টা উইকেট নেন তিনি।
এরপর যিনি দলনেতা হন তিনি মাত্র চারটে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন সারাজীবনে। তাঁর নাম জর্জ ফ্রান্সিস কার্টার।
প্রথম বাঙালি হিসেবে বাংলার প্রথম ক্যাপ্টেন হলেন জিতেন্দ্রনাথ ব্যানারজি।সারাজীবনে মাত্র ১৩ টা প্রথম শ্রেণির খেলা খেলেন তিনি।
তাঁর পরের অধিনায়ক বাংলার প্রথম রঞ্জী জয়ী দলের ক্যাপ্টেন টম লং ফিল্ড। মাত্র তিনটে ম্যাচ এ তিনি অধিনায়ক ছিলেন। তাঁর একটা ছিল ফাইনাল। ওয়াজির আলির দক্ষিণ পাঞ্জাব। যে দলে লালাও ছিলেন। \
প্রাক স্বাধিনতা যুগে বাংলার সেরা ব্যাটসম্যান কার্ত্তিক বোস। সত্যজিৎ রায়ের এই কাকা টি ১১ টি ম্যাচে বাংলার অধিনায়ক ছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি এ প্রথম এবং শেষ বাঙ্গালি যিনি ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার অধিনায়ক হন।
 এই পোস্ট এ এই অবধি। এরপর- পরেরটায়।    সাথে পরিসংখ্যান থাকবে।


Saturday, 16 April 2016

Bina Das - the revolutionary and Stanley Jackson :Captain of English Cricket team

বীনা দাস কে মনে পরে ? সেই নেতাজির স্কুল শিক্ষক বেনিমাধব দাসের মেয়ে। কোলকাতার ডায়াশেষনে পড়ত?  মনে আছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভকেশনে গুলি করেছিলেন জ্যাকসন কে ? ৫টা গুলি। জ্যাকসন তখন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর। বীনা দাস পরে কংগ্রেস করতেন। বিয়ের পর ভৌমিক হন। মারা যান অনেক পরে। হিমালয়ে।আচ্ছা উনি কি জানতেন যে  উনি যাকে গুলি করতে  যাচ্ছেন তিনি উনবিংশ শতকের শেষ ও বিংশ শতকের প্রথম দিকের এক মহান ক্রিকেটার।

স্যার ফ্রান্সিস স্ট্যানলি জ্যাকসন জন্মান ১৮৭০ সালে লিডসে।তাঁর পিতা ছিলেন অ্যালেরটন এর প্রথম ব্যারন উইলিয়াম জ্যাকসন। স্যার ফ্রান্সিস হ্যারো তে পড়াশোনা করেন। তাঁর ফ্যাগ ছিলেন (জুনি‍য়র যে ছেলে সর্বক্ষণের সঙ্গি হন সিনিয়রের) উইনস্টন চার্চিল।
যাই হোক ১৭ বছর বয়সে ইটন বনাম হ্যারো ম্যাচ দিয়ে তাঁর বড় ক্রিকেটে হাতে খড়ি। পরের বছর ইটনের বিরুদ্ধে ৫৯ করে শুরু করলেন জয়যাত্রা। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে প্রথম খেলা ১৮৯০ সালে সি.আই.থরণ্টোন একাদশের বিরুদ্ধে। প্রথম টেস্ট থেকেই ব্যাটে রান। ১৮৯৩ সালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৯১ করে শুরু করেন । ১৯০৫ সালে কেনিংটন ওভালে ৭৬ ও ৩১ করে টেস্ট খেলা শেষ করেন। শেষ প্রথম শ্রেণির খেলা ঘরের মাঠে লিডসে। চিরশত্রু ল্যাঙ্কাশায়ার এর বিরুদ্ধে ৬ ও ৩৫ করে।
১৭ বছরের প্রথম শ্রেণির জীবনে ১৫,০০০ রান ও ৭৫০র বেশি উইকেট নিয়ে শেষ করেন তিনি।৩১ টি শতরান ছাড়াও ছিল ৪২ বার এক ইনিংসে ৫ উইকেট। সর্বচ্চ ১৬০ আর সেরা বোলিং ৫৪ রানে ৮ উইকেট।
টেস্ট খেলেন মাত্র ২০ টা। তাতেই ১৪১৫ রান ৪৮ গড়ে। ৫ টা সেঞ্চুরী সহ।
 সেনা জীবনে বুয়র যুদ্ধ লড়েছেন। রক্ষণশীল দলের সদস্য হিসেবে পার্লামেন্ট সদস্য হন। ৭৭ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 সি.বি.ফ্রাই তাঁর ওপর বীনা দাসের আক্রমন শুনে বলেছিলেন " বলতেই হবে বোলার খুবই বাজে। ৫ টা বল করেও আউট করতে পারল না...... তবে কুমারি মেয়ে তাই ওভার টা মেডেন ছিল"।
     সেই মেডেন ওভার দেওয়া কুমারী আরও ৩৯ বছর পর হৃষীকেশ  মারা যান। ৭৫ বছর বয়সে।


Friday, 15 April 2016

story of test status

আগেই বলেছিলাম যে দক্ষিণ আফ্রিকা কে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হয় একপ্রকার জোর করে। যে খেলাকে (১৮৮৯) টেস্ট বলে ঘোষণা করা হয় অনেক পরে সেই ১৮৯৯ সালে সেই ম্যাচের কোনও খেলোয়াড় জানতেন না যে ওটা টেস্ট বা টেস্ট বলে আদতে কোনও ব্যাপার আছে। যিনি সর্বাধিক কম বয়সি  অধিনায়ক হলেন ইংল্যান্ডের এবং তারপর একদিন গরুর গাড়ি থেকে পড়ে  মারা গেলেন তিনিও জানতেন না যে তিনি একটা রেকর্ড করেছেন। অদ্ভুত ব্যাপার এই খেলা গুলি শুধু দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা প্রথম টেস্টই নয় প্রথম শ্রেণির ও প্রথম ম্যাচ বলে ধরা হয়। মানে দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর আগে কেউ প্রথম শ্রেণির খেলাই খেলেনি। তাহলে ভারননের দলের সাথে ১৮৮৮-৮৯ তে বাংলার খেলাটা কেন প্রথম শ্রেণি নয়। যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে একজন ও প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় নেই সেখানে সেই ম্যাচ হল টেস্ট । আর বাংলা দলে একজন প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় ছিল...এটা কি প্রথম শ্রেণি হওয়ারও যোগ্য নয়? ভারননের দলে অন্ততঃ দুটো টেস্ট আর একটা প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় ছিল।
এই যে টেস্ট বলছি এসব এ ধরে নেওয়া টেস্ট। যাই হোক ১৮৯৯ সালে লর্ড হকের সন্মানে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৮৯, ১৮৯৫,১৮৯৭ ের ম্যাচ গুলো টেস্ট হল। কিন্তু ১৮৯৩ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ টা শুধুই প্রথম শ্রেণির হয়ে রয়ে গেল। কেন? বোধ হয় ভারতিয় দলে তিনজন  ভারতীয় পার্শি খেলেছিল।
তখন পার্শিরা দারুন শক্তিশালি। তাঁরা হকের দল আর ভারননের দলকে হারিয়েছিল। তাছাড়া  তারাই ভারত থেকে প্রথম দল যারা প্রথম শ্রেণি খেলে। এবং প্রথম চারটে ম্যাচে দুটো জয়, একটা হার,একটা ড্র। তারপর যখন এলাহাবাদ এ এই ম্যাচটার কথা এল  যা "ভারত" নামের দলের খেলা প্রথম শ্রেণির প্রথম ম্যাচ তখন পার্শি দের থেকে তিন জন কে ডাকা হল। তাতেই তাঁরা গদগদ। প্রভু ডেকেছেন...।( জে.ফ্রামজি প্যাটেলের বই দেখুন)।

 যাই হোক এরপরে ভারত ১৯১১ সালে  ইংল্যান্ড, ১৯২৬ সালে এম সি সি মানে ইংল্যান্ড ,  ১৯৩২ সালে সিংহল, ১৯৩৫ ও ১৯৩৭ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং লর্ড টেনিসনের দলের বিরুদ্ধে খেললেও একটাও সরকারি টেস্ট ম্যাচ ছিল না।
১৯১৭ সাল নাগাদ লর্ড  উইলিংডন ভারতে অবস্থানকারি ইউরোপিয়োদের নিয়ে তৈরি করেন একটি দল। নাম দেন ইংল্যান্ড। তাঁর বিরুদ্ধে খেলে ভারত। এবং প্রথম ম্যাচ ভারত বাজে ভাবে হারে। পরের বছর আবার খেলা এবার ইংল্যান্ড ফলো  অন খায়। ১০ উইকেট পরে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে । কিন্তু ১২ জনের ম্যাচ। ভারত দয়া করে ড্র করে। এই সেই উইলিংডন যার মত নিয়ে ভিজি লালা কে দল থেকে বাদ দেয়। লোকটা বিংশ শতকে আন্ডার আরম বল করত!!!
  ভারত ও কম যায় না । ১৯২৬ সালে যখন এম.সি.সি. ভারতে আসে তখন মাত্র ৮ টা ম্যাচ ছিল প্রথম শ্রেণির। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে আরও ১৪ টা ম্যাচ কে প্রথম শ্রেণির করা হয়। ফলে দেখা যায় যে বর্মা ও রেঙ্গুন বলে দুটো দল প্রথম শ্রেণি ম্যাচ খেলে ফেলেছে ( সব কটা দুদিনের ম্যাচ কে প্রথম শ্রেণির করা হয়)।

যাই হোক অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান ও এম.সি.সির সাথে অজস্র ম্যাচ খেলেও শ্রীলঙ্কা কে ১৯৮০র আগে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হল না। আবার অবিভক্ত বাংলার অংশ হিসেবে রঞ্জী জয় করা, পাকিস্তানের অংশ হিসেবে কায়েদ এ আজম ট্রফির সেমিফাইনালে যাওয়া বা নিজেদের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা আয়ুব ট্রফি থাকা সত্বেও বাংলাদেশ ২৭ বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বাইরে থাকল আই.সি.সি. এর নিয়মের যাঁতাকলে।
এদিকে জিম্বাবুয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পেল এই কারনে যে তাদের নেতা মুগাবে (যে পরে স্বৈরাচারী হওয়ায় অনেকে ক্রিকেট খেলাই ছেড়ে দেন।) তখন জোট- নিরপেক্ষ আন্দলনে ছিল। না হলে টেস্ট খেলার পরিকাঠামো বলতে জিম্বাবুয়ের কিছুই ছিল না। ওদের খেলোয়াড়রা সব অন্য দেশের ঘরোয়া ম্যাচ খেলে বেড়াত।
 আই.সি.সি আর এক কাঠি ওপরে। ১৯৭১ এ দক্ষিণ আফ্রিকার বদলে যে বিশ্ব একাদশ খেলে তাদের খেলা গুলো প্রথমে টেস্ট হবে বলে ঘোষণা করেও করেনি। আর নিজেদের সুবিধার জন্য পরে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ছ-দিনের সুপার টেস্ট করায় বিশ্ব একাদশের। এবং অজস্র একদিনের ম্যাচ হয়েছে সুপ্রানাশনাল দল তৈরি করে। আমার মাথায় ঢোকে না কেন তাহলে ডমিনিয়ন বনাম গ্রেট ব্রিটেন, কমনওয়েলথ দলের, এস.জে.ও.সি দল, বা অজস্র বিশ্বএকাদশ এর ম্যাচ গুলো কেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না।
 আসলে ঔপনিবেশিক যুগে ক্রিকেট ছিল সাম্রাজ্যবাদী নিতির একটা অঙ্গ ( প্যাটেলের বই তে একটা চ্যাপ্টার আছে ক্রিকেট ও সাম্রাজ্যবাদি নিতি নিয়ে, লেখক ঐ নীতির পক্ষে )। উত্তর ঔপনিবেশিক যুগে ক্রিকেট ছিল কমনওয়েলথ এর মধ্যেকার দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাধ্যম এবং অবশ্যই জোট নিরপেক্ষ রাজনীতির অংশ । ভারত ভীষণ উদ্বেগের সাথে দিন কাটিয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে। কারণ যদি নতুন সংবিধান ভারতকে কমনওয়েলথের বাইরে রাখতো তাহলে ভারতের টেস্ট খেলায় আর ফায়ার আসা হতো না।

আজ এই অবধি। পরে কোনও দিন বিশ্বায়ন ও উত্তর বিশ্বায়ন পর্বের ক্রিকেটের চরিত্র নিয়ে আলচনা করা যাবে।

Thursday, 14 April 2016

origin of first class cricket part 2

সমস্যা ছিল বিরাট। প্রথমত, ১৮৯৪ সালের ঘোষণা তে কোথাও বলা হয়নি যে ১৮৯৪ সালের আগের ম্যাচ গুলো কি হবে। তাছাড়া ওখানে অন্য দেশ গুলির প্রথম শ্রেণি নিয়ে কিছু বলা ছিল না। ইংল্যান্ড খেলতে গেলে তবেই তাকে প্রথম শ্রেণি বলা হবে তা ত মানা যায় কিন্তু নিজেদের খেলা কি হবে তাই নিয়ে কিছুই বলা নেই। যদিও ইতিহাসবিদ ও পরিসঙ্খ্যানবিদেরা মেনে নিয়েছেন যে ভারতে ১৮৯২, অস্ট্রেলিয়ায় ১৮৫৬ বা দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৮৮৯ থেকে প্রথম শ্রেণি খেলা হচ্ছে কিন্তু সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৪৭ এর আগে ইংল্যান্ড না খেললে পৃথিবীর কোথাও কোনও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়নি আর ইংল্যান্ড এও ১৮৯৪ সালের আগে হয়নি। ওগুলো সব "ধরে নেওয়া হয়" তালিকা ভুক্ত। কারন না হলে গ্রেস ,ব্র্যাডম্যান এর সারাজিবনের বহু ম্যাচ এমনকি প্রথম ১২ বছরের রঞ্জী ট্রফিও প্রথম শ্রেণির তকমা হারাবে।আসলে বড় বড় ক্লাব বা বিদেশি দলের সাথে ম্যাচ গুলোর গুরুত্ব বুঝে তাকে প্রথম শ্রেণি বলা হত। এমনকি টেস্ট কেও। ফলে সরকারি কোনও ঘোষণা ছিল না।  সেই সময়ে অর্থাৎ উনবিংশ শতকে উইসডেন ছাড়াও অনেক ক্রিকেট অ্যালমানাক বেরত। তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের স্কোর থাকত। পরবর্তীকালে অনেক ইতিহাসবিদরা নিজেদের ইচ্ছেমত অনেক খেলা কে এই ভাবে গুরুত্বদিয়ে তালিকা ভুক্ত করায় বিরাট সমস্যা হয়ে যায়। ফলে কেউ ১৮২৫, কেউ ১৭৭৩ কেও প্রথম শ্রেণির সুত্রপাত ভাবে। ক্রিকেট ইতিহাসবিদ ও পরিসংখ্যানবিদ দের সংগঠন ও তাদের  ওয়েবসাইট www.cricketarchive.com এবং উইসডেনের ওয়েবসাইট www.espncrickinfo.com ১৭৭১ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির সুত্রপাত ধরে। যদিও তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান এ অনেক তফাৎ আছে।

কয়েকটি উদাহরন দিলেই ব্যাপার টা বোঝা যাবে।
১। একসময় অর্থাৎ ১৯৪৭ এর আগে ১২ জন বা ১৩ জন এর দল গড়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হত। স্বাভাবিক যে ১০ম উইকেট এ শুধু নয় ১১ নম্বর উইকেটেও সর্বচ্চ রানের জুটি বলে একটা কিছু আছে। এখন www.cricketarchive.com বলছে তা হল সিনিয়র পাতউদি ও ফিরোজ ইন্দুলজি পালিয়া এর করা ৮৯ রান লাহরের লরেন্স মাঠে ( বর্তমানে বাগ  এ জিন্না) ভারতের পক্ষে অবশিষ্ট ভারতের বিরুদ্ধে ( এই লেখার সময় দেখলাম এটা কে মুছে দেওয়া হয়েছে,কিন্তু আমার কাছে পুরন স্ক্রীনশট আছে)। আর www.espncrickinfo.com দাবি করে যে ১১ নম্বর উইকেটে সেরা জুটি হল ২১১ রানের । ১৯০২-০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া তে এম.এলিস আর টি.জে.হেস্টিংস ভিক্টরিয়ার হয়ে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে করেছিল। যদিও তাঁরা এই দাবি কেন করেন জানিনা কারন ঐ ম্যাচ ১১ জনের ই ছিল আর জুটি টাও ১০ম উইকেটের ছিল। হেস্টিংস হলেন সেই ১২ জনের একজনের যিনি প্রথম শ্রেণি তে ১১ নম্বরে নেমে সেঞ্চুরী করেছেন।
 ২। ডব্লু. জি. গ্রেসের কেরিয়ার নিয়ে সমস্যা ছিল মারাত্মক। একসময় ধরা হত যে প্রথম শ্রেণিতে তিনি ৫৪,৮৯৬ রান করেছেন আর ১২৬টি সেঞ্চুরী করেছেন। পরে অনেক গবেষণা করে ১৫ টি ম্যাচ বাদ পরে। ফলে এখন ৫৪,২০০+ রান( সঠিক সংখ্যা ভুলে গেছি) আর ১২৪ টা সেঞ্চুরি ধরা হয়। মজার ব্যাপার ঐ ১৫ টা ম্যাচের রান গ্রেসের ক্ষেত্রে ধরা হলেও ঐ ম্যাচে খেলা আর কারোর প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারে ধরা হয়না। এবার বাকিটা বুঝে নিন।
 ৩। এমনও হয়েছে যে উইসডেন কে জানান হয়নি বলে সেই খেলা প্রথম শ্রেণির স্বীকৃতি পায়নি। ভিজিয়ানাগ্রামের মহারাজার দলের হয়ে খেলা জ্যাক হবসের দুটি শতরান যা তিনি সিংহলে মানে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে করেন সেগুলি বাদ পরে প্রথম শ্রেণি তালিকা থেকে কারন উইসডেন জানত না। জানলে তালিকে  থেকে যেত আর হবসের ১৯৭ টা শতরান হয়ে যেত ১৯৯ টা ( এখন অবশ্য মেনে নিয়েছে) ।

      পরের পোস্ট এ দেখাব কি ভাবে টেস্ট এবং প্রথম শ্রেণির তকমা দেওয়া নিয়ে নির্লজ্জ কাজ কর্ম হয়েছে।

Wednesday, 13 April 2016

origin of first class cricket

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা কবে থেকে শুরু হয় তা নিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিরাট  বিতর্ক। এবং মজার ব্যাপার আই.সি.সি. বা এম.সি.সি এই নিয়ে প্রায় কিছুই বলেনি। শুধু ১৮৯৪ আর ১৯৪৭ সালে দুটো ঘোষনা করে ছেড়ে দিয়েছে। আর তাই নিয়ে ১৯৫১ সাল থেকে চলছে বিরাট বিতর্ক। দেখা যাক কি ছিল সেই ঘোষণা পত্রে।
 
     ১৮৯৪ সালের মে মাসে এম.সি.সি যে ঘোষণা করে তাতে বলা ছিল ঃ
যে সমস্ত ক্লাব গুলি আর এম.সি.সি. এবং অক্সফোর্ড ও কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় , বিদেশাগত বড় দল (তখন শুধু অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং যে দল গুলি এম.সি.সি. কখন-সখন তৈরি করে যেমন নর্থ,সাউথ,জেন্টলম্যান,প্লেয়ারস প্রভৃতি দলগুলির মধ্যে আয়োজিত খেলাই হল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। আর ইংল্যান্ড যদি বিদেশে খেলতে গিয়ে এই ধরনের কোনও দলের বিরুদ্ধে খেলে তাহলে সেগুলিও প্রথম শ্রেণির খেলা বলে বিবেচিত হবে। এত কিছু বলা হল কিন্তু ১৮৯৪ এর আগে কোন ম্যাচ প্রথম শ্রেণির তা বলা হল না। টেস্ট ম্যাচ সম্পর্কে বলা হল যে শুধু  ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে খেলা হল টেস্ট ম্যাচ। আর এই সময়েই ১৮৭৭ থেকে প্রথম টেস্ট ম্যাচ ধরা হল।লিলিহোয়াইট একাদশ হয়ে গেল ইংল্যান্ড আর নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া সংযুক্ত একাদশ হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। ১৮৯৯ সালে স্মিথ আর লর্ড হক কে সন্মান জানিয়ে তাদের খেলা ১৮৮৯,১৮৯৫ ০ ১৮৯৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ম্যাচ গুলো কে টেস্ট ম্যাচ করা হল।

এরপর কেটে গেল প্রায় ৫০ বছর।ইতিমধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ,নিউজিলান্ড,ভারত কে টেস্ট খেলান হল। অবশেষে ১৯৪৭ সালে ইম্পিরিয়াল ক্রিকেট কাউন্সিল (আই.সি.সি.) ঘোষণা করল যে ঃ
A match of three or more days' duration between two sides of eleven players officially adjudged first-class, shall be regarded as a first-class fixture. Matches in which either team have more than eleven players or which are scheduled for less than three days shall not be regarded as first-class. The Governing body in each country shall decide the status of teams.
        এর পর থেকেই সারা পৃথিবীতে প্রথম শ্রেণি সরকারি ভাবে শুরু হল। ইতিহাস বিদরা অবশ্য ভারত,ওয়েস্ট ইন্ডিজ,নিউজিলান্ড,অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা  ইত্যাদি দেশে প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটের শুরুর ব্যাপারে একমত। কিন্তু ইংল্যান্ড নিয়ে চলল ঝামেলা। যার শুরু ১৯৫১ থেকে।রয় ওয়েবের দাবি করলেন যে ১৮৬৪ সালের আগের খেলা কে প্রথম শ্রেণির বলা অনুচিত।যুক্তি দিলেন যে লর্ডস বাদে কোথাও বোলিং এর পুরো তথ্য ছিল না কারন ফিল্ডার দের ক্যাচ বোলারের উইকেট তখন ছিল না তাই আর কোনও মাঠ পুরো বোলিং অ্যানালিসিস রাখত না।পরবর্তী কালে  আসসিয়েশন অফ ক্রিকেট স্ট্যাটিস্টিয়ান অ্যান্ড হিস্টরিয়ান এই মত  প্রায় মেনে নেন Guide to First-Class Cricket Matches Played in the British Isles গ্রন্থে। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটল না। 
 ......। ......( বাকিটা পরের পোস্ট  এ)

Monday, 11 April 2016

Specsavers County Championship 2016

শুরু হয়ে গেছে কাউন্টি ক্রিকেট মরশুম ১০ই এপ্রিল থেকে। প্রথম দিন চেস্টার লি ষ্ট্রীট এ ডারহ্যাম ২৫৬ করেছে। জেনিংসের ১১৬ বাদে তাদের বলার মত কিছুই নেই। সমারসেটের পক্ষে গ্রেগরী ৫৮ রানে ৪টি আর গ্রোয়েনওয়াল্ড ৫৬ রানে ৩টি উইকেট পেয়েছেন। সমারসেট অবশ্য বিপদে। প্রথম দিনের শেষে তাদের রান ৩ উইকেটে ৩০।এটি প্রথম ডিভিসনের খেলা।
সাউদাম্পটন এ প্রথম ডিভিশনের অন্য খেলায় হ্যাম্পশায়ার মাত্র ১৮৯ রানে তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট খেলোয়াড় ও কলকাতা নাইট রাইডারস এর  প্রাক্তনি রায়ান ম্যাক্লারেন ৮ নম্বরে নেমে ৮৪ না করলে এটাও হত না।ওয়ারউইকশায়ার এর বারকার ৪৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন।তারা আজ(১১ ই এপ্রিল) ব্যাট করবে।
নটিংহ্যাম এ নটস রা প্রথম দিনে ৪৪৬ তুলে আউট হয়ে গেছে।মুলানে ১১৩,ওয়েসেলস ৮১,সমিত প্যাটেল ৮৫ আর অধিনায়ক ক্রিস রিড অপরাজিত ৬৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রবি রামপাল ৯৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছে সারের হয়ে।সারে দিনের শেষে ৭/০। এটিও প্রথম ডিভিশন।
দ্বিতিয় ডিভিশনের প্রথম খেলায় চেমসফোরড এ গ্লচেস্তারশায়ার ২৬২ তে শেষ। অধিনায়ক রোডেরিক ৮৮(অপরাজিত) আর মার্শাল ৫১ করেন।এসেক্স এর পোর্টার ৫৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছে। জবাবে এসেক্স দিনের শেষে ৩৯/১।
দ্বিতিয় ডিভিশনের অপর খেলায় নরদাম্পটনশায়ার দিনের শেষে ২৯৬/২।ডাকেট ১৭৮ রানে ব্যাট করছেন। সাসেক্স এর সাথে এই খেলাটি হচ্ছে নরদাম্পটণে।

আর একটি দ্বিতিয় ডিভিশনের ম্যাচ হচ্ছে ওরকেস্টারে। ওরকেস্টারশায়ার এর সাথে কেন্ট এর। বৃষ্টির জন্য টস ই হয়নি।

Sunday, 3 April 2016


আমি তখন খুবই ছোট। ১৯৮৯ সাল।হঠাৎ শুকতারায় পাণ্ডব গোয়েন্দা বন্ধ হয়ে চলে গেল আনন্দমেলায়। আর তাঁর জায়গায় শুরু হল “পরাশর রায়” নামে একজন লেখকের “ত্রয়ীর অভিযান” নামে ধারাবাহিক যার প্রথম গল্প ছিল পোড়োবাড়ির রহস্য।খুব মজা করে পড়তাম। কলকাতার কাছাকাছি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মজিলপুরের প্রেক্ষাপটে শান্ত ওরফে শান্তনু মাইতি, মোটু ওরফে জীমূতবাহন চট্টোপাধ্যায় এবং শেলি মিত্র নামে কয়েকটি ৯-১০ শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীর গোয়েন্দাগিরি। খুব আপন ছিল এরা।এই গল্প টা শেষ  হলে পড়লাম আর একটি গল্প “একটি ঘরের রহস্য”। এই টা শেষ হবার পর আর কোনও দিন এই ধারাবাহিক বেরয়নি। খুব মিস করতাম বটেশ্বর কনস্টেবল, ইন্সপেক্টর মিস্টার রথিন মিত্র কে। কিন্তু সেই যে ৯৩-৯৪ নাগাদ শেষ হল আর বেরলও না।
তারপর অনেকদিন পরে নিউ বেঙ্গল প্রেস থেকে বই আকারে বেরলে জানলাম এই পরাশর রায় আসলে ফ্রান্সিসের লেখক অনিল ভৌমিক। যাই হক।আফসোশ আরও একটাও ছিল। দ্বিতীয় গল্পতে একটা বিড়ালের রহস্য সংক্রান্ত গল্পের উল্লেখ ছিল। সেটাও পাইনি।    
  গতকাল ৩১ সে মার্চ কলকাতার সেতু ভেঙ্গে পড়ল। ভারত ২০-২০ ওভারের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিল। আর আমার ছোটবেলার এই আনন্দটাও একটু নড়ে গেল। ইলাস্ট্রেশন ও কমিকস সংগ্রাহক ইন্দ্রনাথ দার ফেসবুক পোস্ট এ দেখলাম অনিল ভৌমিকের কিছু বইএর মলাট।আর তাতে হাওড়ার সুমন্ত বিশ্বাস লিখেছেন এই ধারাবাহিকের কথা যে এগুলো নাকি এনিক ব্লাইটনের মিস্ট্রি সিরিজের ফাইভ ফাইন্ড আউটারস থেকে হুবহু অনুকরন। এবং সুত্র উল্লেখ না করে। ওনাকে গল্পের নাম জিজ্ঞেস করতেই বললেন। খুঁজলাম। পেলাম। কথাটা সত্যি। খুব খারাপ লাগছে। ছোট বেলার স্বপ্ন এভাবে ভাঙবে ভাবিনি।
প্রথম গল্পটি অর্থাৎ “পোড়োবাড়ির রহস্য” হল “Mystery of the burnt house”  থেকে গৃহীত,দ্বিতীয় গল্পটি হল “একটি ঘরের রহস্য” যা পুরোপুরি ভাবে “The Mystery of the secret room” এর অনুবাদ।এছাড়া বোধ হয় বিড়ালের গল্পটি “Disappearing cat” থেকেই তৈরি হয়।
চরিত্রগুলিও মোটু ওরফে জীমূতবাহন চট্টোপাধ্যায় তৈরি হয়  ওরফে "Fatty"  থেকে। শান্তনু মাইতি হয় Laurence Daykin ওরফে Larry থেকে। শেলী নির্ঘাত আসে ডেইসি থেকে। দুটি অন্য চরিত্র  কুকুর টি বাদ পরে
বটেশ্বর চরিত্র টি তৈরি হয় Theophilus Goon বা মিস্টার গুন থেকে। এমনকি বটেশ্বর এর " অট যাও" আসলে মিস্টার গুন এর "ক্লিয়ার অরফ" সরাসরি অনুবাদ
 যাই হোক না কেন লেখক যদি আগে বিষয়টি খোলসা করতেন তাহলে বোধ হয় এত খারাপ লাগত না