Wednesday, 28 February 2018

homels , cricket and seraching ......

  আচ্ছা শার্লক হোমসের লেখক আর্থার কোনান ডয়েল  তো ক্রিকেট খেলতেন , কিন্তু হোমস কি কখনো মাঠে গেছে? অরুনাভ সেনগুপ্ত মাঝে মাঝে এ নিয়ে লেখেন। ... দেখি তো আমি   কিছু পাই কিনা।

                 Sign of Four উপন্যাসে টোবি (সেই দো-আসলা কুকুর টা ) কেনিংটনের ওভাল মাঠের পাশ দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো হোমস আর ওয়াটসন কে।  মাঠে যদিও ঢোকেনি।  এখন প্রশ্ন হয়েছে কবে? ১৮৮৮ সালে। (গল্পে অন্তত তাই বলেছে-  "Chapter 2: The Statement of the Case",  "He disappeared upon the 3d of December, 1878,—nearly ten years ago." & "About six years ago—to be exact, upon the 4th of May, 1882") ....... কিন্তু এতে তো হবে না..... কত তারিখ? তা নিয়েই আবার দ্বিমত আছে।  Jay Finley Christ মতে ২৫ সে সেপ্টেম্বর আর William Stuart Baring-Gould মতে ১৮ ই সেপ্টেম্বর।  এবার দেখা যাক যে আদৌ ওই দিন বা তার আসে পাশে কোনো খেলা চলছিল কিনা ....আর চললে কি হচ্ছিলো সেই ওভাল মাঠে। ইতিহাস বলছে সারে বনাম ডার্বিশায়ারের একটা দুদিনের খেলা (প্রথম  শ্রেণী নয় ) হয়েছিল ৩ আর ৪ সেপ্টেম্বর।  আর কোনো ম্যাচ ওই বছর ওই মাসে খেলা হয়নি।  ইংল্যান্ডের হয়ে একটাই টেস্ট খেলা উইলিয়াম চ্যাটার্টন ডার্বিশায়ারের হয়ে খেলেছিল ওই ম্যাচ। যদিও সারের  হয়ে ববি আবেল (১৩ টা  টেস্ট), মন্টি বোডেন (২ টো টেস্ট ),  মরিস রিড (১৭ টা টেস্ট), ওয়াল্টার রিড (১৮ টেস্ট ),জর্জ লোম্যান (ওরে বাবা সেই ১৮  টা টেস্ট এ ১১২ টা উইকেট ), হ্যারি উড (৪টা টেস্ট ) খেলেছিল। সারেই জিতেছিল।
 
       ৪ মার্চ ১৮৭৮।  হোমসের সাথে ওয়াটসনের  প্রথম দেখা।  সেই দিন কি ইংল্যান্ডে কোথাও কোন খেলা ছিল? একবার দেখি।  ঠিক ওই দিন কেনিংটন ওভালে ইংল্যান্ড আর স্কটল্যান্ড দলের রাগবি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। ওই দিন মোটামুটি তেমন কোনো খেলা ছিল না.     হোমস নিয়ে আবার ফিরবো। দেখি কবে আবার সময় পাই.

Friday, 30 June 2017

surer jhorna ---biday niyeo roye gelen ------ sobita chowdhuri

তখন আমি অনেক ছোট। টেলিভিশন এ  দেখতাম একজন গায়িকা গান করছেন " ঝিল মিল ঝাউয়ের বনে ঝিকিমিকি" , আর বাড়িতে সবাই বলতো উনি নাকি সবিতা চৌধুরী। তারপর যখন ক্লাস সেভেন এ পড়ার সময় সলিল চৌধুরীর ভক্ত হয়ে উঠলাম তখন থেকেই আমি সবিতা চৌধুরীর ভক্ত। সেই " প্রজাপ্রতি প্রজাপতি","সুরের  ঝর্ণা","মরি হায় গো ","মার্ ঝাড়ু মার্","রাত কুহেলি","তোরা সুন্দর স্বামী পাবি","বৌ কথা কও", "এনে দে এনে দে ঝুমকা" তালিকা  বোধ হয় শেষ হবে না।  এই সব গান শুনেই বড় হয়েছি।
    তার অনেক পরে যখন প্রথম ওনাকে স্টেজ এ দেখলাম সেই একই রকম ভাবে গেয়ে যাচ্ছেন এবং কোনো রেওয়াজ ছাড়াই। আর কত অজস্র অমূল্য স্মৃতি। মনে আছে "এ ফর কে"(অমিত ফর কিশোর ) তে যখন অমিত দা বলছেন " কি বলে ডাকবো? সবিতা চৌধুরী ? সবিতা আন্টি ? না সবিতা  কাকিমা ? " বলেই গান ধরলেন "ও মেরি প্রাণ সজনী চম্পাবতী আজা " ... আর উনিও অন্তরায় ধরলেন --সেই হুবহু অন্নদাতার রেকর্ড এর মতো "হায় ম্যায় সারি মজবুরিয়া / ক্যাইসে বতাউ পিয়া আজ তুমহে "---ওফ সে এক স্মৃতি। তার পর আলাপ হয়েছে।  কথা হয়েছে। ওনার বাড়ি গেছি। এই তো বছর খানেক আগে তমাল সলিল চৌধুরীর ওপর ডকুমেন্টারি করলো। তখন সাখ্যাৎকার নিলাম। উনি আমাদের বই দিলেন। আর ওনার গানের সিডি। তার পরেও দেখা হয়েছে। সলিল চৌধুরীর ৯০ বছর উপলক্ষ্যে অনুষ্টানে, গোর্কি সদনে। ওফ "মেলে পুমালে " যা গেয়েছিলেন সেখানে । আর কত গল্প। প্রতিটা গানের গল্প বলতেন। শেষ বার দেখা হলো এক  ডাক্তারি সংগঠনের অনুষ্টানে। এল সিডির স্লাইড আমি করেছিলাম। আমাকে বলেছিলেন "আমাকে দিয়ে যাস"  ..... দেওয়া হয়নি।
         
           কাল সকালে চন্দন ফোন করে দুঃসংবাদ টা  দিল ।  তারপর শুভাশিস। তীর্থঙ্কর দাকে ফোন করে জানলাম ওনাকে প্রথমে রবীন্দ্র সদনে নিয়ে যাওয়া হবে।  তারপর শ্মশান।  গেলাম। আমি যখন রবীন্দ্রসদনে ঢুকছি তখন গান হচ্ছে " যা রে যা যা /মন পাখি/ জারে যা উড়ে দিলাম ছেড়ে/ আর তোরে প্রাণ খাঁচায় বেঁধে রাখবো না দিলাম ছেড়ে / জারে জারে  যা /" .
   সোজা ভিতরে দেখি অন্তরা দি দাঁড়িয়ে। মুখে বিষণ্ণ হাসি। আমার খুব কষ্ট লাগছিল। " সেই খুকুমনি গো শোনা" মনে পড়ছিল।  কথা বললাম।
     তারপর পিপি দা (সঞ্জয় চৌধুরী ) এলেন। সেখান থেকে ওনারা শ্মশান গেলেন। আমি বাস ধরে পৌঁছতে পৌঁছতে  শেষ হয়েগিয়েছিল।
        ওখানে দেবপ্রিয় ছিল. বললো " আর কেউ গাইবে না " মরি হায়গো". "ও মেরি প্রাণ সজনী" র আর কেউ রইলো না."    
         পিপি দা শুধু বললো কিছু শেষ না. সংগীত শেষ নয়, সবিতা চৌধুরী বাস্তবে আর নেই কিন্তু তার কণ্ঠ আজ আছে, থাকবে আরো বহু দিন.    
                        " তুমি কি কখনো / সেই গান শোনো/ যে গান কানেতে শোনা / যায় না কখনো। ......"

    

Tuesday, 13 December 2016

রঞ্জী ট্রফি ২০১৬-১৭ প্রথম পর্ব।

রঞ্জী ট্রফি ২০১৬-১৭ এর লীগ পর্ব প্রায় শেষের পথে। এবারের রঞ্জী তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অন্যান্য বারের মতই ঘটেছে। একবার দেখে নেওয়া যাক কি কি ঘটল। 
·         গ্রুপ-এঃ মুম্বই এই গ্রুপ এর এক নম্বর দল ৩০ পয়েন্ট পেয়ে। ৮ টি খেলার মধ্যে তাঁরা ৩ টি জিতেছে। আয়ার তাদের দলের হয়ে লীগে সর্বোচ্চ রান কারি(৫৪১)। যাদব করেছেন ৪৯৪ রান। দলের হয়ে মোট ৭টি শতরান এখনও অবধি হয়েছে। ধবল কুলকারনি  ১৯ টি উইকেট নিয়ে দলের সেরা। মুম্বাই এর মৌলিকতা হল তাঁরা কারও ওপর নির্ভর নয়। দলগত সাফল্যের নিরিখে তাঁরা খেলছে। বাংলা আর গুজরাট ছাড়া কোথাও তাঁরা সমস্যায় পরেনি। তা বাংলা ম্যাচে তাঁরা ৩ পয়েন্ট পেয়েছে।
   ৮টি ম্যাচে দুটি জয় সহ ২৬ পয়েন্ট পেয়ে তামিলনাড়ু দ্বিতীয় স্থানে।তাদের কে এম গান্ধী ৩টি শতরান সহ ৭০৯ ও অভিনব মুকুন্দ ৩টি শতরান সহ ৬৭২ রান করেছে। ১০টি শতরান আছে তামিলনাড়ুর খেলোয়াড় দের নামে।বিঘ্নেশ ৩২ টি ও ক্রাইস্ট ২৭ টি উইকেট নিয়েছে তাদের হয়ে।
    তৃতীয় স্থানে আছে গুজরাট।তাদেরও পয়েন্ট ২৬। যদিও তাঁরা বাংলার সাথে ১ পয়েন্ট পেয়েছে খেলা না হওয়ার জন্য। প্রথমবার রঞ্জী খেলতে নামা  গুজরাটের প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চাল মাত্র ৭ ম্যাচে ১০৩৭ করে এক মরশুমে ১০০০ কারি রঞ্জী খেলোয়াড় দের মধ্যে তৃতীয় স্থানে নাম তুলেছে( প্রথম দুজন রুশি মোদী বোম্বের হয়ে ১৯৪৪-৪৫ সালে এবং লক্ষ্মণ হায়দ্রাবাদের হয়ে ২০০০-০১ সালে )। ৪টি শতরান সে করেছে। তাঁর মধ্যে একটা আবার ৩১৪।মোট গুজরাটের হয়ে ৯ খানা শতরান হয়েছে। বোলিং এর ক্ষেত্রে কালারিয়া ২৪ খানা উইকেট পেয়েছে। গুজরাট খুব একটা শক্তিশালী দল নয়। এবার বাংলা ম্যাচ খেলা হলে তাঁরা পরবর্তী পর্বে যেত না। তাঁরা সেমিফাইনাল গেলে একটা চমক হবে।
     ৪ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ওপরের দিকে থাকা বাংলা ৮ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে এবারের মতো রঞ্জী অভিজান শেষ করেছে। অধিনায়ক মনোজের  ৬৪৩ বা সুদীপের ৫৫৭ বা শ্রীবৎসের ৪৯২ তাদের পরবর্তী পর্বে তুলতে পারেনি।দলের পক্ষে ৯ খানা শতরান হয়েছে। ৩৩৭ করে তামিলনাড়ুকে ৩১০/৯ করে দিয়েও তাঁরা ১ পয়েন্ট পায়। মাত্র ৯৭ তে বরোদা আউট করেও ম্যাচ হারে। বরোদা এবার লীগে শেষ স্থান পেয়েছে। মুম্বই কে যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭/৫ করে তখন কেউ ভাবেনি যে বাকি ৫ টা উইকেট ৫৪ ওভারেও তোলা যাবে না। সর্বোপরি গুজরাট ম্যাচ না হওয়াটা অভিশাপ হয়ে ২৬ তম বছর টানা রঞ্জী শূন্য করে দিল। অশোক দিন্দার ৩৯ উইকেট বা অমিত কুইলার ১৭ তম বাংলার খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট কোনও কাজে দিল না। ৪ ম্যাচে ১৭ উইকেট পাওয়া সায়ন কে কেন এত কম খেলা খেলানো হল কে জানে? “বহিরাগত” ওঝা ব্যর্থ। অরিন্দম ঘোষের হাওয়া ঈস্বরনের লেগে গেছে। প্রথম আর শেষ খেলা ছাড়া তাকে পাওয়া যায় নি।

  ভাল শুরু করেও পঞ্চম স্থানে পাঞ্জাব। দলটা পুরোপুরি যুবরাজ সিং নির্ভর। তাঁর ‘আম্লাপুরম’ খ্যাত হ্যাসেল কিচ কে বিয়ে করতে যাওয়া পাঞ্জাবের কাল হয়ে গেল। মাত্র ৫ ম্যাচে যুবরাজের রান ছিল ৬৭২। যা কল (৪৯৫),জীবনজ্যোৎ(৪৪৮) বা গুরকিরাত (৪২৯) ৮ ম্যাচেও করতে পারেনি।দলের পক্ষে ৭টা শতরান হয়েছে।এস কল একাই ৩৫ টা উইকেট নিয়েছে। মনপ্রীত গনি এবং এস শর্মা ২৩টা করে উইকেট নিয়েছে। 

মধ্যপ্রদেশ আর উত্তরপ্রদেশ এর অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁরা পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে ছিলই না। পরপর দুই রঞ্জীতে ধুমকেতুর মতো উত্থান হওয়া মধ্যপ্রদেশের শ্রীবাস্তব কে এবার খুজেই পাওয়া যায়নি। বুড়ো ঘোড়া বুন্দেলা (৫৫৫) বা আরও দুজন ৫০০ এর বেশী রান করলেও (ভাটিয়া ও শর্মা) মাত্র ৫ টা শতরান দেখাচ্ছে তাদের কি হাল।ঈশ্বর পাণ্ডে ৩২ আর শাকুরে ২৭টা উইকেট নেয় মধ্যপ্রদেশের হয়ে।আর উত্তরপ্রদেশের হয়ে এবারে ৭টি শতরান হলেও কেদার যাদব (৪৬৬) আর কেউ ৪০০র গণ্ডি পেরোয় নি। কুলদিপ যাদব ৩৫ টা উইকেট নিয়েছে

  রেল এবারও ব্যর্থ। গ্রুপে শেষের আগের স্থান তাঁরা পেয়েছে।এই শতাব্দির শুরুতে তাঁরা রঞ্জী ফাইনাল পরপর দুবার খেলে। বেশ কিছু খেলোয়াড় তাদের দলকে শক্তিশালি করেছিলো যেমন কার্তিক, পারিদা, বাঙ্গার যারা অনেকেই অবসর নেওয়ায় তাদের জায়গা পূর্ণ হয়নি। রেল আসা করা যায় এদিকে নজর দেবে। তাদের শুক্লা ও বাসকর ৬০০ এর বেশী রান করে এবং কে শর্মা ৩১ টা উইকেট পেলেও মাত্র ৪টি শতরান হয়। বোলিং বাকি কেউ কিছু করতে পারেনি।

    বিজয় হাজারের বরোদা  আতঙ্কিত করেছে ক্রিকেটপ্রেমী দের। অন্ততঃ যারা রঞ্জির ইতিহাস জানে তাদের তো বটেই। কয়েকবছর আগে হায়দ্রাবাদ ঠিক এই অবস্থায় পরেছিল। এবার বরোদা এই জায়গায় এসেছে।বাংলা ছাড়া তাঁরা কাউকে হারাতে পারেনি। যদিও হুডা একটি অপরাজিত ২৯৩ সহ ৭০৯ করেছে বা দেওধার ৬২২ করেছে কিন্তু কোনও বোলার দাগ কাটতে পারে নি শুধু শেঠ একটি ৭/৩৬ সহ ১৮ টি উইকেট নেয়। বোলিং বরোদা কে ডোবাল।

পরবর্তী পর্বে আসবে গ্রুপ বি এর কথা।



Thursday, 30 June 2016

জন উইজডেন, লিলিহোয়াইট এবং প্রথম টেস্ট

জন উইজডেন তার জীবদ্দশায় এই বার্ষিকীকে খুব একটা ভাল অবস্থায় দেখে যাননি। কারন তিনি বিভিন্ন বিষয়ে মেতে থাকতেন। লেমিংটনের একটা মাঠের সাথে তার ভাল মত যোগাযোগ ছিল। ১৮৫৯ সালে তিনি ইংল্যান্ডএর প্রথম কানাডা ও আমেরিকা সফরে যান। তার একটা তামাকজাত দ্রব্য এবং ক্রীড়া সরঞ্জামের ডিপো ছিল লন্ডনের হে মার্কেটে। তিনি নিজে ছিলেন একজন পেশাদার ফাস্ট বোলার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন। ফ্রেড লিলিহোয়াইট ১৮৪৯ সাল থেকে ক্রিকেটারস গাইড বলে একটা অ্যালমানাক বার করতেন। উইজডেন নিজে ১৮৫৫ থেকে ১৮৫৮ অবধি সেখানে যুক্তও ছিলেন। কিন্তু ১৮৬০ এর দশকে ফ্রেড কে সরিয়ে ক্রিকেটারদের ফান্ড ও ফ্রেন্ডলি সোসাইটির সম্পাদক হতেই সাথে সম্পর্ক বিগড়ে গেল। এ ব্যাপারে ইতিহাস বিদেরা খুব বেশি কিছু আলোচনা করেননি কারন লিলিহোয়াইট দের বই ১৯০০ সালে বন্ধ হয়ে যায় আর উইজডেনএর ব্যাপারে সবাইতো জানে। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়।
         ১৮৬৪ সালে উইজডেন প্রকাশ শুরু হল। ১৮৬৫ তে লিলিহোয়াইট দের বই তে লেখা হল উইজডেন সম্পর্কে যে একসময় তিনি ভালই ছিলেন। কিন্তু এখন নাকি "দেশের জন্য" তেমন কিছুই করছেন না। এই সংস্থার (লিলিহোয়াইট ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি) বই গুলি একটু সীমা ছাড়িয়ে ক্রিকেটারদের সমালোচনা করা হত। যদিও প্রথম "উইজডেন" ( যার আসল নাম ছিল ' The Cricketers almanac for the year of 1864 being Bissextile or leap year,and the 28th of the reign of Her majesty Queen Victoria) লিলিহোয়াইটের খুব একটা মাথা ব্যাথার কারন হয়নি। এই বই ডার্বি, ওকস এবং সেন্ট লেজারের ঘোড়ার রেস, চীনের ইতিহাস, গোলাপের  যুদ্ধ এই সব নিয়েও লিখেছিল। কিন্তু গোটা ১৮৭০ এর দশক ধরে লিলি হোয়াইটদের সাথে এটা রীতিমত ঠাণ্ডা লড়াই চালাচ্ছিল।
      ১৮৭৮ সালে যখন ইংল্যান্ড থেকে প্রথম প্রতিনিধিত্ব মূলক সফরে যাওয়া হল অস্ট্রেলিয়ায় তখন উইজডেনের সম্পাদক নাইট গোটা সফর কে নিয়ে লিখলেন বটে কিন্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আলাদা আলাদা অংশে। এবং যাকে  পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম টেস্ট ম্যাচ বলে ধরা হয়, তা প্রায় অনুল্লেখিত থেকে গেল।
এমনকি নাইটের মৃত্যু(১৮৭৯) এর পর যখন জর্জ ওয়েস্ট সম্পাদক হলেন তখনও ১৮৮০ সালের খেলা গুলির সাথে কয়েকটা মাত্র লাইন লিখলেন গোটা সফর কে নিয়ে।
    এখন প্রশ্ন হল কেন? কেউ কেউ বলেন যে ১৮৭২ সালের পরবর্তীকালে যখন সমুদ্রের তলাদিয়ে টেলেগ্রাফ লাইন পাতা হয় তার খরচা ছিল খুব বেশি ফলে উইজডেন তখন জাহাজ গুলিতে পাওয়া যায় এমন কাগজ ব্যাবহার করেতেন যেমন "লিডার", "অস্ট্রেলিয়ান", "স্পোর্টসম্যান" প্রভৃতি।
    আসলে তা নাও হতে পারে। সেই সময় উইজডেন দাবি করত যে তারা তাদের পুরোন প্রতিষ্ঠিত  প্রতিদ্বন্ধি দের প্রচার সংখ্যার নিরিখে পিছনে ফেলে দিয়েছে ঠিক তখন জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়র তার দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যান এবং সেখানে ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসএর যৌথ দলের বিরুদ্ধে যে ম্যাচ খেলেন তাই ১৮৯৫ সালে প্রথম টেস্ট ম্যাচের সন্মান পায়। যেহেতু লিলিওহোয়াইট এর দল তাই উইজডেন ঐ বিষয়ে কিছুই লেখেনি।
  ইতমধ্যে ফ্রেড লিলিহোয়াইটের মৃত্যু হওয়াতে (১৮৬৬) জন লিলিহোয়াইট তৈরি করেছেন "জন লিলহোয়াইট ক্রিকেটারস কম্প্যানিয়ন"। তারা আবার দাবি করত যে তাদের গ্রন্থ খেলাটির সর্ববৃহৎ বার্ষিকী অন্যান্য দের তুলনায়। আবার এও বলত যে বাকিরা নাকি "ফ্যাক্ট" এর প্রতি খুব একটা নজর দেয় না। ফলে তাদের ১৮৭৮ সালের সংস্করণে তারা ১৮৭৭ এর ঐ ম্যাচ গুলির পূর্ণ খবর ছাপে।
         ১৯০০ সালে তাদের প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলেও তাদের ভুত উইজডেন কে তাড়া করে বেড়াত। কারন ১৯৩০ সালে কেইন যখন সম্পাদক তখন উইসডেন দাবি করেছিল যে ১৮৭৭ সালের লিলিহোয়াইট বা ১৮৭৮-৭৯ সালের লর্ড হ্যারিসের দল কোনটাই ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারন প্রথম দল ছিল আর্থিক উদ্দেশ্যে তৈরি আর দ্বিতীয় দল চরম অপেশাদার। মনে রাখবে স্পফোর্থ  এই দলের বিরুদ্ধে হ্যাট্রিক করেছিল যা টেস্টে প্রথম বলে ধরা হয়।
  মজার ব্যাপার । এর ফলে ১৮৮০ সালের লর্ডস টেস্ট কে তাহলে প্রথম বলে ধরতে হয়। কিন্তু তা তারা কোনোদিন ধরেনি। ধরেছে কিন্তু ১৮৭৭ কেই । কারন? দীর্ঘদিন ধরে উইজডেনের পরিসংখ্যানবিদ ছিলেন সিডনি সাউদারটন। যার বাবা জেমস সাউদারটন ঐ ১৮৭৭ এর খেলায় ছিলেন ( মনে রাখবেন জর্জীয় যুগের যে কজন হাতে গোনা ক্রিকেটার টেস্ট খেলেছেন ইনি তাদের একজন।আজও সবথেকে বেশি বয়সে টেস্ট এ অভিষেকের রেকর্ড এর নামে আছে।)। এমন কি ১৯৭১ সালের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক খেলা কেও উইজডেন গুরুত্ব দেয়নি। সংক্ষিপ্ত স্কোর ছেপে ছিল। যাই হোক ১৮৮২-৮৩ সালের সফরে লিলিহোয়াইটরা ২৩ পাতা ছাপলেও উইজডেন এক পাতাও লেখেনি।
       ১৮৮৪ তে জন উইডেন অবিবাহিত অবস্থায় মারা গেলেন। তার ম্যানেজার হেনরি লাফ এর দায়িত্ব নিলেন। উইজডেন আস্তে আস্তে পেশাদার হল।
      অনেক পরে ১৯৭৭ সালে শতবার্ষিকী টেস্ট এর সময় তারা ব্রাকেটে ঐ টেস্টের সাথে ১৮৭৭ সালের ম্যাচের পুরো স্কোর ছাপে।
     

Thursday, 2 June 2016

দ্বাদশ ব্যক্তি (প্রথম পর্ব) ------ লেখক অজ্ঞাত---- প্রথম প্রকাশ বয়ে'জ বুক অফ ক্রিকেট - ১৯৫৩ অনুবাদ - সুমিত গাঙ্গুলী

  জন বেকার , স্কুলের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, তাড়াতাড়ি হাঁটছিল, দাঁড়িয়ে পড়ল ফিল ক্রসকে সামনে দেখে।
            "কি ব্যাপার?" সে জিজ্ঞাসা করল।
    " দল তৈরি হয়ে গেছে?"--- ফিল ওর সাথে যেতে যেতে জিজ্ঞাসা করল।
   " হয়ে গেলে বোর্ডেই দেখতে পেতে"
   "এখনি কি দল বাছা হবে?"---
  "হ্যাঁ। কেন?"--
   "ও"--- ফিল বলল --" আসলে আমাকে নেবে না এটা আমি জানি। যাই হোক, তবু তোমাকে বলি-- আ-আমি খেলতেও চাই না"
        ক্যাপ্টেন দাঁড়িয়ে পড়ল।
" তুমি বলতে কি চাও বলত?"
"আমি আগামিকাল খেলতে চাই না"
"বাহ! বেশ প্রশংসনীয়"- জন বলল।"তার মানে দলে রাখলেও তুমি খেলবে না।"
" না না ---- তা বলিনি। দলে রাখলে খেলব। আসলে আমি চাই না আমাকে দলে রাখা হোক।"
"কেন?"
"দলে রাখার যোগ্য আমি নই।"
"সেটা নির্বাচন সমিতি সিদ্ধান্ত নিক।"
"আমি জানি -কিন্তু- যাই হোক আমি নিশ্চিত।আমি দলে থাকলে একজন যোগ্য খেলোয়াড় বাদ পড়বে।"
"ঠিক কার কথা বলছ তুমি?"
ফিল একটু ইতস্ততঃ বোধ করল---
"তুমি জান আমি কার কথা বলছি" সে বলল-" মানে এমন নয় যে মরিস আমার খুব ভাল বন্ধু।ও সত্যিই আমার থেকে ভাল খেলে"।
"স্বীকার করছি ওর খেলার মধ্যে একটা সাবলীলতা আছে" জন বলল- "কিন্তু ব্যাপারটা আমাদের কে ছেড়ে দাও কে সেরা"।

 
      বাকি নির্বাচন সমিতি জনের অপেক্ষায় ছিল।"আমার মনে হয়না বেশিক্ষন লাগবে"-সে বলল-"দল তো  তৈরিই আছে"।
 ড্যান হোমস - সহ-অধিনায়ক মাথা নাড়ল- " আগেরবারের মতো"-" দরকার শুধু বব টারনারের বিকল্প,যতক্ষণ না সে সারছে"।
  " সারবে না"--- মিস্টার ওয়েব বললেন,তিনি ক্রীড়া শিক্ষক, নির্বাচনী সভার পরামর্শদাতা, ভোট দেননা।"আমি এক্ষুনি ডাক্তারের সাথে কথা বললাম, সেতো বলল কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আর আমার ভয়" --- চিন্তিত ভাবে বললেন "আদৌ বাকি মরসুমে ওকে পাবো কিনা"।
   "তবে"---- বিড়বিড় করল কমিটির তৃতীয় সদস্য পিটার স্টোন।
"তবে টা শুধু ওর না...... আমাদের জন্যও বটে"। জন বলল-- "সমস্যা, আর কেউ তেমন আছে কি যে প্রথম দলে খেলতে পারবে?"
          "ফিল ক্রস"- ড্যান বলল।
         "মরিস থরপ"--- পিটার বলল, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই।
        " ফিল ভাল ব্যাট করে"--- ড্যানের যুক্তি।
   " বিরাট কিছু না"---- পিটার বলল- "মরিস অনেক ভাল ফিল্ডার,সামান্য বলও করে"।
"আমাদের ওর বোলিং এর দরকার নেই" --জন বলল।"ওটা প্রথম দলের মানের নয়"।
"তাহলে মনে হয় ফিলই ঠিক আছে" -----ড্যান বলল।"আমরা তো মেনে নিয়েছি ও ভাল ব্যাট করে"।
    "ওতে এমন কিছু বাহাদুরি নেই"---- পিটার বলল---"মরিস অনেক ভাল স্লিপ ফিল্ডার-স্কুলের সেরা- আর সবাই জানে---ক্যাচেস উইন ম্যাচেস"।
"ফিল খারাপ ফিল্ডার না"--- ড্যান প্রতিবাদ করল।
পিটার মাথা নেড়ে বলল " জানি ও প্রথম দলের যোগ্য কিন্তু তাও বলব যে মরিস ওর থেকে ভাল। ওর ফিল্ডিং ১০-২০ রান আটকে দেবে। ফিল ভাল ব্যাট করবে কিনা এটা বলা মুস্কিল"।
      সবাই খানিক চুপ।
"তোমার কি মত বেকার?"--- মিস্টার ওয়েব জিজ্ঞাসা করলেন।
"আমি ঠিক করতে পারিনি" জন আস্তে আস্তে বলল,"কোনও সন্দেহ নেই ফিল ভাল ব্যাট করে,আর মরিস অনেক ভাল ফিল্ডার"----"প্রশ্ন হল কাকে নেব? আপনি কি ভাবছেন স্যার?"
"আমি বলতে চাই না যদিও" ক্রীড়া শিক্ষক বললেন" যা বললে সবই ঠিক, যদি বল ......... ভাগ্য ভাল আমি ভোট দিই না... তবুও থরপই সঠিক, ও ভাল ফিল্ডার "।
" ফিল খুব একটা খারাপ না" ড্যান আপত্তি করল।
"আমি জানি"---- মিস্টার ওয়েব বলল" ও একজন সাবলীল ফিল্ডার,কিন্তু থরপ ওর থেকেও সাবলীল, ও ক্রিকেট পাগল, এটা ওর বাবারই দোষ"।
    "দোষ?" ---জন আহত হল একটু যেন।
    মিস্টার ওয়েব হেসে উঠলেন," তুমি ওর ক্লাসে গিয়ে কথা বল- যে কোনও বিষয়ে, ও ক্রিকেট ছাড়া কিছু বঝে না। ওর রক্তে ক্রিকেট, তাই বোধ হয় ও অত ভাল ফিল্ডার, ওর ফিল্ডিং দেখলেও অনেক কিছু শেখা যায়"।
       কিছুক্ষন সবাই চুপ।তারপর জন ধিরে ধিরে বলল" জানি আমরা আর একটা ব্যাপার ভেবে দেখতে পারি কিনা----- ফিল কিন্তু দলে থাকতে চায় না"।
          "কী?" ড্যান আর পিটার চমকে উঠলো।
 জন সব কিছু খুলে বলল।তারপর বলল " এটা বোঝাই  যাচ্ছে যে ওরা খুব ভাল বন্ধু আর ফিল জানে এই ম্যাচ নিয়ে মরিসের আগ্রহ কত। ওর বাবা ওল্ড বয়েসের ক্যাপ্টেন--- আর এটাই আসল ব্যাপার নয় কি?"
" ওর বাবা এটা শুনলে খুশি হবে না যে তার ছেলেকে এই কারনে দলে নেওয়া হচ্ছে"---মিস্টার ওয়েব বললেন।
  " আমি জানি,এটা আমি বলতামও না যদি না ফিল আমাকে বলত, প্রশ্ন হল আমরা কি এমন কাউকে দলে নেব যে খেলতে চায় না?"
" ও খুবই দয়ালু"---- ড্যান বলল" ও বলেনি যে দলে রাখলে খেলবে?"
"হ্যাঁ" জন বলল - একটু চুপ করে বলল--- "ভোট হক","ফিল ক্রসের পক্ষে?"
"আমি" -ড্যান বলল।
"মরিস থরপ?"--
"আমি "---পিটার বলল।
ওয়েব বললেন" আমার দিকে দেখ না , কাস্টিং ভোট দাও জন"
জন বলল "আর একটা ব্যাপার হতে পারে"।"দু জনকেই নেটে ট্রায়ালে ডাকলে কেমন হয়?"
" ভাল হয় "---মিস্টার ওয়েব বললেন।
"কিন্তু পাব কোথায় ওদের?"
"নোটিস বোর্ডের দশ গজের মধ্যে"   অধিনায়ক বলল।

জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারসঃ পরিসংখ্যানে প্রথম যুগ

শতরানঃ জেন্টলম্যান- ১
             প্লেয়ারস- ৭
অর্ধশতরানঃ জেন্টলম্যান- ২৫
                   প্লেয়ারস- ৩৫
     
           সর্বচ্চো-দলগত - 
       প্লেয়ারস রা ৩০০ এর বেশি রান করেছে মোট ৭ বার। সবথেকে বেশি ৩৯৪ রান ১৮৬০ সালে লর্ডসে একমাত্র ইনিংসে। 
      জেন্টলম্যান কোনওবারই ৩০০ করতে পারেনি।২৭৬ রান সবথেকে বেশি। ১৮৬২ সালে ওভালে প্রথম ইনিংসে।
      
          সেই যুগে ১০০ এর কমে দল হামেশাই আউট হত। তাই সর্বনিম্ন হিসেবে ৫০ রানকে মাপ কাঠি করলে দেখা যাচ্ছে যে অপেশাদাররা ৮ বার ৫০ এর কমে আউট হয়েছে। সবথেকে কম ৩১। ১৮৪৮ সালে লর্ডসে প্রথম ইনিংসে। পেশাদাররা মাত্র তিন বার ৫০ এর কম করেছে। সর্বনিম্ন ২৪। ১৮২৯ সালে লর্ডসে প্রথম ইনিংসে।
     
    ৫ উইকেট ও এক ইনিংসে অনেক বার হয়েছে। তাই ৭ উইকেটকে মাপকাঠি করলে দেখা যাবে যে দু দলের হয়ে মোট ২১ বার ৭ উইকেট হয়েছে। যার মধ্যে প্লেয়ারসদের  ১৪ বার আর জেন্টলম্যান ৭ বার। একা লিলিহোয়াইট ১০ বার এই কাজ করেছেন। ৯ বার প্লেয়ারস আর ১ বার জেন্টলম্যানের পক্ষে।
    
  ম্যাচে ১০ উইকেট ২৩ বার। প্লেয়ারস দের পক্ষে ১৫ বার । জেন্টলম্যানদের পক্ষে ৮ বার। লিলিহোয়াইট প্লেয়ারসদের জন্য ৭ বার আর জেন্টলম্যানদের জন্য ১ বার করেছেন।
   
              যাই হোক।এই সময় থেকে এই খেলা জাকিয়ে বসে এবং এই খেলার জন্যই ক্রিকেট ভিক্টোরীয় যুগে ইংল্যান্ডের জাতীয় খেলা হয়ে যায়। পরবর্তী প্রায় ৮৫ বছর এই খেলার গুরুত্ব ছিল মারাত্মক। কিন্তু ১৯৫০ থেকে এই খেলা গুরুত্ব হারায়। ঐ সময় কে নিয়ে পরে অবশ্যই লিখব। 

Tuesday, 24 May 2016

জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারসঃ প্রথম যুগ নিয়ে আরও কিছু কথা

জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারসের খেলা শুরু হয়েছিল ১৮০৬ সালে তা আগেই বলেছি। এই খেলা নিয়ে আগেই দুটি পোস্ট করেছি।এখন যা পরে থাকছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বহুল বিষয় যা একই সাথে চমকপ্রদও বটে।
    জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারসদের খেলার প্রথম যুগ অর্থাৎ ১৮০৬ সাল থেকে ১৮৬৪ সাল অবধি ছিল প্লেয়ারসদের দাপট।এই সময়ে জেন্টলম্যান দল খুব একটা ভাল খেলেনি।বহু ক্ষেত্রে প্লেয়ারসদের থেকে খেলোয়াড় নিয়ে দল পূর্ণ হত।একথাও ঠিক যে সমান সমান সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে তারা মাত্র ৭টা ম্যাচ জেতে।
   প্রথম ম্যাচেই প্লেয়ারস বেলদ্যাম ও ল্যাম্বারট কে জেন্টলম্যান দলে নেওয়া হয়।এই খেলায় হ্যাম্বলডনের ৫ জন খেলোয়াড় খেলেন, এরা ছিলেন যথাক্রমে ওয়াকার,স্মল,রবিন্সন,বেলদ্যাম ও নাইরেন।এই সেই নাইরেন যে “Cricketers of My age” গ্রন্থ লিখে হ্যাম্বল্ডন কে অমর করেছেন।ল্যাম্বারট অর্ধশতরান করেন যদিও তিনি প্লেয়ারস কিন্তু খেলেন জেন্টলম্যানদের হয়ে।খেলাটা হয়েছিল পুরোনো লর্ডসে মানে ডরসেট স্কোয়ারে। ঐ বছরই দ্বিতীয় খেলা হয়। তাতে ব্যুক্লার্ক প্রথম অ্যামেচার হিসেবে অর্ধশতরান করেন।
  তৃতীয় ম্যাচে প্লেয়ারসদের পৃষ্ঠপোষক লর্ড স্ট্যাথাভ্যানকে প্লেয়ারস দলে খেলানো হয়। এই ম্যাচেই প্রথম খেলতে নামেন প্লেয়ারসদের প্রথম শতরানকারি বেগলি আর জেন্টলম্যানদের প্রথম শতরানকারি কিংবদন্তী খেলোয়াড় উইলিয়াম ওয়ার্ড।এই খেলা হয় প্রায় ১৩ বছর পর ১৮১৯ সালে নতুন লর্ডস মাঠ মানে সেন্ট জন’স উডে।অনারেবল হেনরি সিসিল লোদার (উলস্টারের প্রথম ভাইকাউন্টের পূর্বপুরুষ- যিনি ১৯২২ সালে এম সি সির সভাপতি হন)। প্লেয়ারস দের হোয়ারড এই খেলায় ৮ উইকেট নেন।বেগলি ৭৫ রান করেন,শেরম্যান করেন ৫২(সবই প্লেয়ারসদের হয়ে,জেন্টলম্যানদের বার্ড ৪টে স্ট্যাম্প করেন ও ২টি উইকেট নেন।
  যাইহোক পঞ্চম খেলা হয় ১৮২১ সালে(চতুর্থ খেলা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমি শুধু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ে আলোচনা করব)।মনে হয় এই খেলাটা হয়েছিল চতুর্থ জর্জের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে। তিনি প্রিন্স অফ ওয়েলশ থাকার সময় ভাল ক্রিকেট খেলতেন তার ঠাকুরদার মতো(ফ্রেডরিখ প্রিন্স অফ ওয়েলশ, যিনি পেটে বল লেগে টিউমার ফেটে মারা যান)। মজার ব্যাপার মেরিলিবোরন এর প্রথমদিকের ম্যাপে এই মাঠ মানে সেন্ট জন’স উডের নাম হল প্রিন্স অফ ওয়েলশ গ্রাউন্ড।ডাবলু সি পায়ার যিনি প্লেয়ারদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন তিনি এই ম্যাচে প্লেয়ারস দলে খেলে।এর কারন বোধহয় হ্যানভারিয় ঐতিহ্যের “ম্যাচ ফিক্সিং”(আজকের ভাষায়) বন্ধ করার চেষ্টা।ম্যাচ ড্র হয়। বেগলি শতরান করেন। পরের বছর প্রথমবার দুপক্ষ সমান দল নিয়ে খেলে।
   ১৮২৫ সালে নবম খেলা ছিল চার দিনের। ১৫৬ বছরে ২৭৭টি প্রথম শ্রেণির খেলার মধ্যে এই একটি ছিল চার দিনের ম্যাচ।এই খেলায় উইলিয়াম ওয়ার্ড ১০২ রান করেন। পরের ৪২ বছর জেন্টলম্যান দলের হয়ে আর কেউ শতরান করেননি। প্লেয়ারসদের সন্ডারস ৯৯ রান করেন। জেন্টলম্যান ছিল ১৬ জনের দল মানে তাদের ১৫ উইকেট পড়লে তবে অল আউট হবে। এই খেলায় বারনেট, বার্নার্ড, কিংস্কট, ডিডেস(সবাই জেন্টলম্যান দলের) পরবর্তী কালে এম সি সির সভাপতি ছিলেন।এই খেলা এবং এর পরের বছর জেন্টলম্যান দল জিতে যায়।পরের বছর মানে ১৮২৬ সালে তারা ১৭ জনের দল নিয়ে নামে(মনে রাখতে হবে, এই গুলো সব প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হিসেবেই ধরা হয়)।
  ১৮২৭ সালে প্লেয়ারসদের সন্ডারস শতরান করেন (পুরো ১০০)। এবার জেন্টলম্যান ১৭ জনের দল গড়ে হেরে যায়।তাদের হয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সী এম সি সির সভাপতি কিংস্কট খেলেন। ইনি উইলিয়াম দ্য কংকয়ারার এর ভাইঝি ইভের বংশধর ছিলেন।গ্লস্টারশায়ারের কিংস্কট ক্লাব এঁদের নিজেদের ক্লাব ছিল।
     ১৮২৯ সালের খেলায় দেখছি প্লেয়ারসদের ব্যাটিং স্কোরশিটে ক্যাচ ও স্ট্যাম্পএর সাথে বোলারদের নাম আছে। কিন্তু জেন্টলম্যানদের ইনিংসে নেই।প্লেয়ারদের লিলিহোয়াইট জেন্টলম্যানদের হয়ে খেলে প্লেয়ারসদের ১২টা উইকেট নিয়েছিলেন।
 ১৮৩২ সালের ১৫তম খেলায় জেন্টলম্যান দলে ভিনসেন্ট কটন নামে এক বিখ্যাত জুয়াড়ি খেলেছিলেন(ইনি অনেকগুলো ম্যাচ খেলছেন যাকে প্রথম শ্রেণি ধরা হয়, এমনকি নিজের নামে দল করেও খেলেছেন)।
  ১৮৩৩ সালে শেষবারের মত এম সি সির তৎকালীন সভাপতি এই খেলায় খেলেন। তখনকার দিনে সক্রিয় অ্যামেচার ক্রিকেটাররাই এম সি সির সভপতি হত।যাই এই ব্যক্তি অর্থাৎ জেনার ৯৯ বছর বয়সে ১৯০৪ সালে মারা যান। প্রথম যুগের জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস খেলার একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিংশশতকে কিছুদিন জীবিত ছিলেন।এই খেলাতেই হেওয়ারড পরিবারের প্রথম কেউ অংশ নেন।
পরের বছর সেই যুগের মহান উইকেট রক্ষক টম বক্স প্রথম খেলেন। বিখ্যাত ব্যাটসম্যান ফুলারপিচ ৬০ করেন প্লেয়ারসদের হয়ে।
১৮৩৬ সালের ১৯ তম ম্যাচ ছিল ঐতিহাসিক। প্রথম আধুনিক স্কোর পাওয়া যাচ্ছে।
 ১৮৩৭ সালের খেলা বেশ মজার।প্লেয়ারসরা ব্যাট করতে নামে ৪টে করে স্ট্যাম্প নিয়ে। সেগুলি আকৃতিতেও বিরাট। ৩ ফুট লম্বা আর একফুট বেধ। মানে বল ফসকালেই আউট। কিন্তু জেন্টলম্যান খেলতে নামে তিনটে উইকেট নিয়ে যা স্বাভাবিক মানের অর্থাৎ ২৭ ইঞ্চি লম্বা আর ৮ ইঞ্চি বেধ। উইলিয়াম ওয়ার্ডের এই অদ্ভুত নিয়ম সত্বেও প্লেয়ারস(৯৯ রান) এক ইনিংস ও ১০ রানে জেতে। লিলহোয়াইট প্রথম এক ইনিংসে ৯ উইকেট নেয়(ম্যাচে ১৩টি)।এই ঐতিহাসিক খেলার নাম “বান ডোর” ম্যাচ(প্রথম শ্রেণি)।
ঐ বছরের জুলাই মাসের শেষে ২১ তম খেলা হয় রানী ভিক্টোরিয়ার রাজ্যাভিষেকের সন্মানে। ১৬ জন জেন্টলম্যান দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১৬ রান করে (মানে ৩০ উইকেটে)। লিলিহোয়াইট একাই ১৮টি উইকেট নেন। তার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ খানা(প্রথম শ্রেণির খেলায় এটাই নাকি প্রথম ১০ উইকেট)।
   পরের বছর উইলিয়াম ওয়ার্ড খেলা ছেড়ে দেন ঠিক ৫১ বছর বয়সে। গ্রেস ও এই বয়সে টেস্ট ও লর্ডসের জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস খেলা ছেড়ে দেন।যাই হোক এই খেলার জন্য ওয়ার্ডের অবদান কেউ ভুলবে না।১৮২৫ সালে যখন লর্ডসে আগুন লাগে তখন তাকে পুনরায় খেলার জন্য প্রস্তুত করায় তার ভূমিকা ছিল বিরাট।উল্লেখযোগ্য এই আগুনেই হ্যাম্বলডনের সেই কাঠের মধ্যে আঁচড় কাটা স্কোর গুলি পুড়ে যায় যা ক্রিকেটের ইতিহাসের বিরাট ক্ষতি।
১৮৪০ সালের খেলা(২৪ তম খেলা)কে “আউট অফ ফ্লেভার” বলা হয়েছিল। আসলে জেন্টলম্যানরা বারবার হেরে যাওয়ায় “লেগস”(মানে তখনকার “বুকি”)রা উৎসাহ পাচ্ছিল না।যাই হোক প্রথম ওভার সহ উইকেট এর হিসেব(রান ছাড়া) এই ম্যাচ থেকেই পাওয়া যায়।
 ১৮৪২ সালের ২৬ তম ম্যাচ থেকে পাক্কা কুড়ি বছর পর জেন্টলম্যান দল “অড” ছাড়া (মানে ১১ জনের বেশি দল) প্রথম জয় পায়। ফেলিক্সের ৮৮ রান ও ৯ উইকেটই এর কারন।
১৮৪৪ সালের খেলায় ২৮ তম ম্যাচে ‘মেডেন’ ওভার ছাড়া পুরো বোলিং এর হিসাব প্রথম পাওয়া যায়।
১৮৪৬ সালের খেলায় ১৮৬৫ সাল অবধি খেলা জর্জ পার এবং “Cricket scores and biography” গ্রন্থের লেখক হোগার্ড প্রথম খেলেন।
 ১৮৪৮ সালে (ঐ বছর যখন ম্যাচ খেলা হয় তার দু সপ্তাহ বাদে ডাবলু জি গ্রেস জন্মান) যে ম্যাচ খেলা হয় তাতে আর টি কিং দ্বিতীয় ইনিংসে পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ৩ টি ক্যাচ লোফেন। এই পয়েন্ট কিন্তু আজকের পয়েন্ট নয়। এটা পুরনো পয়েন্ট। উইকেটের খুব কাছে স্কোয়ার অফ উইকেট দাঁড়াত ফিল্ডার।এই পজিশনটা আজ উঠে গেছে। ই এম গ্রেস এখানেই দাঁড়াত। ডাবলু জি গ্রেস ১৮৮০-৯০ সাল নাগাদ কয়েকটা টেস্ট ম্যাচে এইখানে দাঁড়ায়। সেই যুগে ট্রট,নোবল,অস্ট্রেলিয়ার লেভার,ডার্বিশায়ারের রাইট এখানে ভাল ফিল্ডিং করত।এই খেলায় জন উইসডেন প্লেয়ারস দলের হয়ে খেলন(উইডেন অ্যালমানাকের জন্মদাতা)।
  পরের বছর লিলিহোয়াইট ও ফুলারপিচ শেষবার খেলেন।
  ১৮৫৪ সালে ৪০তম খেলায় শেশবার খেললেন স্যার ফ্রেডরিখ বাথারড। ২৩ বছর ধরে তিনি ৭৩টা উইকেট নেন জেন্টলম্যানদের জন্য।এই বছর কোনও অল ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের উইলিয়াম ক্লার্ক খেলতে দেননি।তিনি ও টম বক্স তার আগের বছর শেষ খেলেছিলেন।
১৮৫৬ সালে সারের জুলিয়াস সিজারের অভিষেক হয় এই খেলায়। এডগার উইলক্সশায়ার ও ঐ বছর প্রথম খেলেন।
 ১৮৫৭ সালে ওভালে প্রথম জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস প্রথম খেলা হয়।চার বছর এখানে জেন্টলম্যান জিততে পারেনি।সারের সি জি লোর প্রথম খেলে।
 ১৮৬০ সালে ৩৩ বছর পর ওভালে প্লেয়ারস দের কারপেন্টার ১১৯ করে শতরান করেন। ঐ বছর ফিরতি খেলায় লর্ডসে ৫০ তম ম্যাচে ক্যাফিন প্লেয়ারসদের হয়ে ১০২ করেন।পরের বছর কারপেন্টার ১০৬ রান করেন।তার পরের বছর ১৮৬২ সালে লর্ডসে ই এম গ্রেস জেন্টলম্যানদের হয়ে খেলতে নামেন।বাবার রাস্তা ধরে জন লিলিহোয়াইট প্লেয়ারসদের হয়ে ২৯ রানে ৮ উইকেট নেন।
১৮৬৩ সালের হেওয়ারড ১১২ করেন। ই এম গ্রেস লর্ডসে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন। তিনি ঐ বছর ওভালেও ১০১ রানে ৫ উইকেট নেন।
১৮৬৪ সালে পেলহ্যাম ওয়ারনারের মতে প্রথম বা আদি যুগের শেষ বছর প্লেয়ারসদের স্টিফেন্সন ১১৭ রান করে ওভালে। পুরো ম্যাচে ১০০০ এর বেশি রান ওঠে। লর্ডসে জেন্টলম্যানদের আর্করাইট ৩৮ রানে ৭ উইকেট নেয়। তিনি ১৮৬৬ সালে ম ব্লাতে তুষারধ্বসে মারা যান।
  পরের পোস্টে থাকবে প্রথম যুগের কিছু পরিসংখ্যান।