আগেই বলেছিলাম যে দক্ষিণ আফ্রিকা কে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হয় একপ্রকার জোর করে। যে খেলাকে (১৮৮৯) টেস্ট বলে ঘোষণা করা হয় অনেক পরে সেই ১৮৯৯ সালে সেই ম্যাচের কোনও খেলোয়াড় জানতেন না যে ওটা টেস্ট বা টেস্ট বলে আদতে কোনও ব্যাপার আছে। যিনি সর্বাধিক কম বয়সি অধিনায়ক হলেন ইংল্যান্ডের এবং তারপর একদিন গরুর গাড়ি থেকে পড়ে মারা গেলেন তিনিও জানতেন না যে তিনি একটা রেকর্ড করেছেন। অদ্ভুত ব্যাপার এই খেলা গুলি শুধু দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা প্রথম টেস্টই নয় প্রথম শ্রেণির ও প্রথম ম্যাচ বলে ধরা হয়। মানে দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর আগে কেউ প্রথম শ্রেণির খেলাই খেলেনি। তাহলে ভারননের দলের সাথে ১৮৮৮-৮৯ তে বাংলার খেলাটা কেন প্রথম শ্রেণি নয়। যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে একজন ও প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় নেই সেখানে সেই ম্যাচ হল টেস্ট । আর বাংলা দলে একজন প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় ছিল...এটা কি প্রথম শ্রেণি হওয়ারও যোগ্য নয়? ভারননের দলে অন্ততঃ দুটো টেস্ট আর একটা প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড় ছিল।
এই যে টেস্ট বলছি এসব এ ধরে নেওয়া টেস্ট। যাই হোক ১৮৯৯ সালে লর্ড হকের সন্মানে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৮৯, ১৮৯৫,১৮৯৭ ের ম্যাচ গুলো টেস্ট হল। কিন্তু ১৮৯৩ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ টা শুধুই প্রথম শ্রেণির হয়ে রয়ে গেল। কেন? বোধ হয় ভারতিয় দলে তিনজন ভারতীয় পার্শি খেলেছিল।
তখন পার্শিরা দারুন শক্তিশালি। তাঁরা হকের দল আর ভারননের দলকে হারিয়েছিল। তাছাড়া তারাই ভারত থেকে প্রথম দল যারা প্রথম শ্রেণি খেলে। এবং প্রথম চারটে ম্যাচে দুটো জয়, একটা হার,একটা ড্র। তারপর যখন এলাহাবাদ এ এই ম্যাচটার কথা এল যা "ভারত" নামের দলের খেলা প্রথম শ্রেণির প্রথম ম্যাচ তখন পার্শি দের থেকে তিন জন কে ডাকা হল। তাতেই তাঁরা গদগদ। প্রভু ডেকেছেন...।( জে.ফ্রামজি প্যাটেলের বই দেখুন)।
যাই হোক এরপরে ভারত ১৯১১ সালে ইংল্যান্ড, ১৯২৬ সালে এম সি সি মানে ইংল্যান্ড , ১৯৩২ সালে সিংহল, ১৯৩৫ ও ১৯৩৭ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং লর্ড টেনিসনের দলের বিরুদ্ধে খেললেও একটাও সরকারি টেস্ট ম্যাচ ছিল না।
১৯১৭ সাল নাগাদ লর্ড উইলিংডন ভারতে অবস্থানকারি ইউরোপিয়োদের নিয়ে তৈরি করেন একটি দল। নাম দেন ইংল্যান্ড। তাঁর বিরুদ্ধে খেলে ভারত। এবং প্রথম ম্যাচ ভারত বাজে ভাবে হারে। পরের বছর আবার খেলা এবার ইংল্যান্ড ফলো অন খায়। ১০ উইকেট পরে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে । কিন্তু ১২ জনের ম্যাচ। ভারত দয়া করে ড্র করে। এই সেই উইলিংডন যার মত নিয়ে ভিজি লালা কে দল থেকে বাদ দেয়। লোকটা বিংশ শতকে আন্ডার আরম বল করত!!!
ভারত ও কম যায় না । ১৯২৬ সালে যখন এম.সি.সি. ভারতে আসে তখন মাত্র ৮ টা ম্যাচ ছিল প্রথম শ্রেণির। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে আরও ১৪ টা ম্যাচ কে প্রথম শ্রেণির করা হয়। ফলে দেখা যায় যে বর্মা ও রেঙ্গুন বলে দুটো দল প্রথম শ্রেণি ম্যাচ খেলে ফেলেছে ( সব কটা দুদিনের ম্যাচ কে প্রথম শ্রেণির করা হয়)।
যাই হোক অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান ও এম.সি.সির সাথে অজস্র ম্যাচ খেলেও শ্রীলঙ্কা কে ১৯৮০র আগে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হল না। আবার অবিভক্ত বাংলার অংশ হিসেবে রঞ্জী জয় করা, পাকিস্তানের অংশ হিসেবে কায়েদ এ আজম ট্রফির সেমিফাইনালে যাওয়া বা নিজেদের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা আয়ুব ট্রফি থাকা সত্বেও বাংলাদেশ ২৭ বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বাইরে থাকল আই.সি.সি. এর নিয়মের যাঁতাকলে।
এদিকে জিম্বাবুয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পেল এই কারনে যে তাদের নেতা মুগাবে (যে পরে স্বৈরাচারী হওয়ায় অনেকে ক্রিকেট খেলাই ছেড়ে দেন।) তখন জোট- নিরপেক্ষ আন্দলনে ছিল। না হলে টেস্ট খেলার পরিকাঠামো বলতে জিম্বাবুয়ের কিছুই ছিল না। ওদের খেলোয়াড়রা সব অন্য দেশের ঘরোয়া ম্যাচ খেলে বেড়াত।
আই.সি.সি আর এক কাঠি ওপরে। ১৯৭১ এ দক্ষিণ আফ্রিকার বদলে যে বিশ্ব একাদশ খেলে তাদের খেলা গুলো প্রথমে টেস্ট হবে বলে ঘোষণা করেও করেনি। আর নিজেদের সুবিধার জন্য পরে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ছ-দিনের সুপার টেস্ট করায় বিশ্ব একাদশের। এবং অজস্র একদিনের ম্যাচ হয়েছে সুপ্রানাশনাল দল তৈরি করে। আমার মাথায় ঢোকে না কেন তাহলে ডমিনিয়ন বনাম গ্রেট ব্রিটেন, কমনওয়েলথ দলের, এস.জে.ও.সি দল, বা অজস্র বিশ্বএকাদশ এর ম্যাচ গুলো কেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না।
আসলে ঔপনিবেশিক যুগে ক্রিকেট ছিল সাম্রাজ্যবাদী নিতির একটা অঙ্গ ( প্যাটেলের বই তে একটা চ্যাপ্টার আছে ক্রিকেট ও সাম্রাজ্যবাদি নিতি নিয়ে, লেখক ঐ নীতির পক্ষে )। উত্তর ঔপনিবেশিক যুগে ক্রিকেট ছিল কমনওয়েলথ এর মধ্যেকার দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাধ্যম এবং অবশ্যই জোট নিরপেক্ষ রাজনীতির অংশ । ভারত ভীষণ উদ্বেগের সাথে দিন কাটিয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে। কারণ যদি নতুন সংবিধান ভারতকে কমনওয়েলথের বাইরে রাখতো তাহলে ভারতের টেস্ট খেলায় আর ফায়ার আসা হতো না।
আজ এই অবধি। পরে কোনও দিন বিশ্বায়ন ও উত্তর বিশ্বায়ন পর্বের ক্রিকেটের চরিত্র নিয়ে আলচনা করা যাবে।
তখন পার্শিরা দারুন শক্তিশালি। তাঁরা হকের দল আর ভারননের দলকে হারিয়েছিল। তাছাড়া তারাই ভারত থেকে প্রথম দল যারা প্রথম শ্রেণি খেলে। এবং প্রথম চারটে ম্যাচে দুটো জয়, একটা হার,একটা ড্র। তারপর যখন এলাহাবাদ এ এই ম্যাচটার কথা এল যা "ভারত" নামের দলের খেলা প্রথম শ্রেণির প্রথম ম্যাচ তখন পার্শি দের থেকে তিন জন কে ডাকা হল। তাতেই তাঁরা গদগদ। প্রভু ডেকেছেন...।( জে.ফ্রামজি প্যাটেলের বই দেখুন)।
যাই হোক এরপরে ভারত ১৯১১ সালে ইংল্যান্ড, ১৯২৬ সালে এম সি সি মানে ইংল্যান্ড , ১৯৩২ সালে সিংহল, ১৯৩৫ ও ১৯৩৭ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং লর্ড টেনিসনের দলের বিরুদ্ধে খেললেও একটাও সরকারি টেস্ট ম্যাচ ছিল না।
১৯১৭ সাল নাগাদ লর্ড উইলিংডন ভারতে অবস্থানকারি ইউরোপিয়োদের নিয়ে তৈরি করেন একটি দল। নাম দেন ইংল্যান্ড। তাঁর বিরুদ্ধে খেলে ভারত। এবং প্রথম ম্যাচ ভারত বাজে ভাবে হারে। পরের বছর আবার খেলা এবার ইংল্যান্ড ফলো অন খায়। ১০ উইকেট পরে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে । কিন্তু ১২ জনের ম্যাচ। ভারত দয়া করে ড্র করে। এই সেই উইলিংডন যার মত নিয়ে ভিজি লালা কে দল থেকে বাদ দেয়। লোকটা বিংশ শতকে আন্ডার আরম বল করত!!!
ভারত ও কম যায় না । ১৯২৬ সালে যখন এম.সি.সি. ভারতে আসে তখন মাত্র ৮ টা ম্যাচ ছিল প্রথম শ্রেণির। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে আরও ১৪ টা ম্যাচ কে প্রথম শ্রেণির করা হয়। ফলে দেখা যায় যে বর্মা ও রেঙ্গুন বলে দুটো দল প্রথম শ্রেণি ম্যাচ খেলে ফেলেছে ( সব কটা দুদিনের ম্যাচ কে প্রথম শ্রেণির করা হয়)।
যাই হোক অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান ও এম.সি.সির সাথে অজস্র ম্যাচ খেলেও শ্রীলঙ্কা কে ১৯৮০র আগে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হল না। আবার অবিভক্ত বাংলার অংশ হিসেবে রঞ্জী জয় করা, পাকিস্তানের অংশ হিসেবে কায়েদ এ আজম ট্রফির সেমিফাইনালে যাওয়া বা নিজেদের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা আয়ুব ট্রফি থাকা সত্বেও বাংলাদেশ ২৭ বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বাইরে থাকল আই.সি.সি. এর নিয়মের যাঁতাকলে।
এদিকে জিম্বাবুয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পেল এই কারনে যে তাদের নেতা মুগাবে (যে পরে স্বৈরাচারী হওয়ায় অনেকে ক্রিকেট খেলাই ছেড়ে দেন।) তখন জোট- নিরপেক্ষ আন্দলনে ছিল। না হলে টেস্ট খেলার পরিকাঠামো বলতে জিম্বাবুয়ের কিছুই ছিল না। ওদের খেলোয়াড়রা সব অন্য দেশের ঘরোয়া ম্যাচ খেলে বেড়াত।
আই.সি.সি আর এক কাঠি ওপরে। ১৯৭১ এ দক্ষিণ আফ্রিকার বদলে যে বিশ্ব একাদশ খেলে তাদের খেলা গুলো প্রথমে টেস্ট হবে বলে ঘোষণা করেও করেনি। আর নিজেদের সুবিধার জন্য পরে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ছ-দিনের সুপার টেস্ট করায় বিশ্ব একাদশের। এবং অজস্র একদিনের ম্যাচ হয়েছে সুপ্রানাশনাল দল তৈরি করে। আমার মাথায় ঢোকে না কেন তাহলে ডমিনিয়ন বনাম গ্রেট ব্রিটেন, কমনওয়েলথ দলের, এস.জে.ও.সি দল, বা অজস্র বিশ্বএকাদশ এর ম্যাচ গুলো কেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না।
আসলে ঔপনিবেশিক যুগে ক্রিকেট ছিল সাম্রাজ্যবাদী নিতির একটা অঙ্গ ( প্যাটেলের বই তে একটা চ্যাপ্টার আছে ক্রিকেট ও সাম্রাজ্যবাদি নিতি নিয়ে, লেখক ঐ নীতির পক্ষে )। উত্তর ঔপনিবেশিক যুগে ক্রিকেট ছিল কমনওয়েলথ এর মধ্যেকার দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাধ্যম এবং অবশ্যই জোট নিরপেক্ষ রাজনীতির অংশ । ভারত ভীষণ উদ্বেগের সাথে দিন কাটিয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে। কারণ যদি নতুন সংবিধান ভারতকে কমনওয়েলথের বাইরে রাখতো তাহলে ভারতের টেস্ট খেলায় আর ফায়ার আসা হতো না।
আজ এই অবধি। পরে কোনও দিন বিশ্বায়ন ও উত্তর বিশ্বায়ন পর্বের ক্রিকেটের চরিত্র নিয়ে আলচনা করা যাবে।
No comments:
Post a Comment