Thursday, 14 April 2016

origin of first class cricket part 2

সমস্যা ছিল বিরাট। প্রথমত, ১৮৯৪ সালের ঘোষণা তে কোথাও বলা হয়নি যে ১৮৯৪ সালের আগের ম্যাচ গুলো কি হবে। তাছাড়া ওখানে অন্য দেশ গুলির প্রথম শ্রেণি নিয়ে কিছু বলা ছিল না। ইংল্যান্ড খেলতে গেলে তবেই তাকে প্রথম শ্রেণি বলা হবে তা ত মানা যায় কিন্তু নিজেদের খেলা কি হবে তাই নিয়ে কিছুই বলা নেই। যদিও ইতিহাসবিদ ও পরিসঙ্খ্যানবিদেরা মেনে নিয়েছেন যে ভারতে ১৮৯২, অস্ট্রেলিয়ায় ১৮৫৬ বা দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৮৮৯ থেকে প্রথম শ্রেণি খেলা হচ্ছে কিন্তু সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৪৭ এর আগে ইংল্যান্ড না খেললে পৃথিবীর কোথাও কোনও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়নি আর ইংল্যান্ড এও ১৮৯৪ সালের আগে হয়নি। ওগুলো সব "ধরে নেওয়া হয়" তালিকা ভুক্ত। কারন না হলে গ্রেস ,ব্র্যাডম্যান এর সারাজিবনের বহু ম্যাচ এমনকি প্রথম ১২ বছরের রঞ্জী ট্রফিও প্রথম শ্রেণির তকমা হারাবে।আসলে বড় বড় ক্লাব বা বিদেশি দলের সাথে ম্যাচ গুলোর গুরুত্ব বুঝে তাকে প্রথম শ্রেণি বলা হত। এমনকি টেস্ট কেও। ফলে সরকারি কোনও ঘোষণা ছিল না।  সেই সময়ে অর্থাৎ উনবিংশ শতকে উইসডেন ছাড়াও অনেক ক্রিকেট অ্যালমানাক বেরত। তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের স্কোর থাকত। পরবর্তীকালে অনেক ইতিহাসবিদরা নিজেদের ইচ্ছেমত অনেক খেলা কে এই ভাবে গুরুত্বদিয়ে তালিকা ভুক্ত করায় বিরাট সমস্যা হয়ে যায়। ফলে কেউ ১৮২৫, কেউ ১৭৭৩ কেও প্রথম শ্রেণির সুত্রপাত ভাবে। ক্রিকেট ইতিহাসবিদ ও পরিসংখ্যানবিদ দের সংগঠন ও তাদের  ওয়েবসাইট www.cricketarchive.com এবং উইসডেনের ওয়েবসাইট www.espncrickinfo.com ১৭৭১ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির সুত্রপাত ধরে। যদিও তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান এ অনেক তফাৎ আছে।

কয়েকটি উদাহরন দিলেই ব্যাপার টা বোঝা যাবে।
১। একসময় অর্থাৎ ১৯৪৭ এর আগে ১২ জন বা ১৩ জন এর দল গড়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হত। স্বাভাবিক যে ১০ম উইকেট এ শুধু নয় ১১ নম্বর উইকেটেও সর্বচ্চ রানের জুটি বলে একটা কিছু আছে। এখন www.cricketarchive.com বলছে তা হল সিনিয়র পাতউদি ও ফিরোজ ইন্দুলজি পালিয়া এর করা ৮৯ রান লাহরের লরেন্স মাঠে ( বর্তমানে বাগ  এ জিন্না) ভারতের পক্ষে অবশিষ্ট ভারতের বিরুদ্ধে ( এই লেখার সময় দেখলাম এটা কে মুছে দেওয়া হয়েছে,কিন্তু আমার কাছে পুরন স্ক্রীনশট আছে)। আর www.espncrickinfo.com দাবি করে যে ১১ নম্বর উইকেটে সেরা জুটি হল ২১১ রানের । ১৯০২-০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া তে এম.এলিস আর টি.জে.হেস্টিংস ভিক্টরিয়ার হয়ে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে করেছিল। যদিও তাঁরা এই দাবি কেন করেন জানিনা কারন ঐ ম্যাচ ১১ জনের ই ছিল আর জুটি টাও ১০ম উইকেটের ছিল। হেস্টিংস হলেন সেই ১২ জনের একজনের যিনি প্রথম শ্রেণি তে ১১ নম্বরে নেমে সেঞ্চুরী করেছেন।
 ২। ডব্লু. জি. গ্রেসের কেরিয়ার নিয়ে সমস্যা ছিল মারাত্মক। একসময় ধরা হত যে প্রথম শ্রেণিতে তিনি ৫৪,৮৯৬ রান করেছেন আর ১২৬টি সেঞ্চুরী করেছেন। পরে অনেক গবেষণা করে ১৫ টি ম্যাচ বাদ পরে। ফলে এখন ৫৪,২০০+ রান( সঠিক সংখ্যা ভুলে গেছি) আর ১২৪ টা সেঞ্চুরি ধরা হয়। মজার ব্যাপার ঐ ১৫ টা ম্যাচের রান গ্রেসের ক্ষেত্রে ধরা হলেও ঐ ম্যাচে খেলা আর কারোর প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারে ধরা হয়না। এবার বাকিটা বুঝে নিন।
 ৩। এমনও হয়েছে যে উইসডেন কে জানান হয়নি বলে সেই খেলা প্রথম শ্রেণির স্বীকৃতি পায়নি। ভিজিয়ানাগ্রামের মহারাজার দলের হয়ে খেলা জ্যাক হবসের দুটি শতরান যা তিনি সিংহলে মানে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে করেন সেগুলি বাদ পরে প্রথম শ্রেণি তালিকা থেকে কারন উইসডেন জানত না। জানলে তালিকে  থেকে যেত আর হবসের ১৯৭ টা শতরান হয়ে যেত ১৯৯ টা ( এখন অবশ্য মেনে নিয়েছে) ।

      পরের পোস্ট এ দেখাব কি ভাবে টেস্ট এবং প্রথম শ্রেণির তকমা দেওয়া নিয়ে নির্লজ্জ কাজ কর্ম হয়েছে।

No comments:

Post a Comment