যতদূর জানা যায় যে
জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস খেলা প্রথম হয়েছিল ১৮০৬ সালে লর্ডসে। পরে অবশ্য অনেক
জায়গাতেই হয়েছে। তবে হ্যাঁ, ওভালের যে খেলা গুলি হয়েছিল (তা মোটামুটিভাবে ১৮৫৭
থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে- এবং অবশ্যই ১৯৩০-১৯৩৩ সালের সংক্ষিপ্ত পর্বের ছেদ ঘটার সময়কে
বাদ দিলে) তাকে লর্ডসের খেলারই একটি বিশেষ সংস্করণ বলা যায়। যদিও অতিরিক্ত
ক্রিকেটের জন্য প্রকৃতপক্ষে পরবর্তীকালে সমস্যা হয় এবং ম্যাচ গুলি খুব একটা
প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল না।
কিন্তু লর্ডসের খেলা সবসময়েই গুরুত্বপূর্ণ
ছিল। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার আগে।এই খেলায় আমন্ত্রন পাওয়া
ছিল সর্বদা বিশেষ ভাবে সম্মানের। আর এইচ লিটেল্টন লিখেছেন “In conclusion, let us
express a hope that the Gentlemen and Players match will never fall through;
for , having been played on and off since 1806,it has a notable history, and it
ought to be the summit of ambition of every cricketer, be he amateur or
professional, to appear in the great classic contest.”
১৮০৬ সালের আগেও এই ধাঁচের খেলা
আয়োজন করার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু তা আদৌ হয়েছেইল কিনা তা নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। বলা
হয় ১৭৯৮ সালে জেন্টলম্যান বনাম কমনারস নামে খেলা হয়।আর দুটি খেলা মোসলে-হারস্ট এবং
কক্সহেচ নামে আরও দুই জায়গায় হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বোধহয় হয়নি।
অ্যামেচার শব্দটি ফরাসি শব্দ যা
ইংরেজি ভাষায় খেলাধুলা সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে যুক্ত হয় ১৮০৪ সাল থেকে। বহু বছর আগে
থেকেই ক্রিকেট সংক্রান্ত ক্লাব গুলোর খরচ-পাতির তালিকায় “ খেলোয়াড়দের পেমেন্ট”
নামে আলাদা হিসাব থাকত। যদিও “পেশাদার” বলতে বিশ শতকের প্রথমে বা উনিশ শতকে যা বলত
তা এটা নয়। এমনকি আজকের দিনেও “পেশাদার ক্রিকেটার” ব্যাপারটা অনেক ভিন্ন।
যাই হোক প্রথম যুগে যখন বেটিং বৈধ
ছিল তখন “খেলোয়াড়” মানে প্লেয়ারস দের দাপটে খেলা কৌলীন্য হারাচ্ছিল। শুধু সামান্য
কিছু “ জেন্টলম্যান” খেলা অন্যরকম করে তুলত যার মধ্যে একজন ছিলেন উইলিয়াম ওয়ার্ড।যিনি লর্ডস কে “বিল্ডারস” দের হাত থেকে বাঁচান। ১৮২৮ সালে তার করা ২৭৮ রান
১৮৭৬ অবধি প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান ছিল। এই রান তিনি করেছিলেন এম সি সি
এর পক্ষে নরফোকের বিরুদ্ধে(নরফোক এখন প্রথম শ্রেণি খেলে না, মাইনর কাউন্টি দল)।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে ১৮০৬ থেকে
১৮৬৫ অবধি জেন্টলম্যান দল মাত্র ১৫টি খেলায় যেতে। ১৮৫৩ সাল থেকে শেষ ১২ বছর একটাও
জেতেনি,১৮৩৭ থেকে মাত্র ৭টি জিতেছিল। কিন্তু ১৮৬৫ থেকে পুরো ব্যাপারটা আলাদা হয়ে
যায়। পরবর্তী ১৮ বছরে তারা হেরেছিল মাত্র ৭টি ম্যাচ কারন “একমেবঃদ্বিতিয়ম” উইলিয়াম
গিলবার্ট গ্রেস।
পৃথিবীর কোনও ধরনের
প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় গ্রেসের মত
অলরাউন্ড দক্ষতা খুব কমই আছে। ৬০০৮ রান,২৭১টা উইকেট।যাই হোক গ্রেস লর্ডসের ম্যাচ
খেলা ১৮৯৯ সালেই ছেড়ে দেন, যদিও ওভালের খেলায় ১৯০৬ অবধি তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা
যায়।
আবার মজার ব্যাপার ১৮৮০ বা ১৮৯০ এর দশকে প্লেয়ারসরা ৬ জনের কম বোলার নিয়ে
খেলেছে খুব কম। কখনবা ৭ এমনকি ৮ জন বোলার নিয়েও খেলেছে। জেন্টলম্যান দলে চিরকাল
ভাল ব্যাটসম্যানরা খেলে গেছেন যেখানে পেশাদাররা বোলিং সবসময়েই ভাল করেছেন।
এবার আশা যাক অনন্য কিছু কৃতিত্বে।
১৮৭৫ সালে গেস ছিলেন মারাত্মক ফর্মে। তিনি ঐ বছর ১৪৯৮ রান করেন আর ১৯২টা উইকেট
নেন। বহুদিন পরে ১৯০৬ সালে জর্জ হার্স্ট ২৩৮৫ রান করেন আর ২০৮টা উইকেট নেন। ১৯৩৭
সালে পার্কস সেই রেকর্ড ভেঙ্গে দেন ৩০০৩ রান আর ১০১ উইকেট নিয়ে। যাই হোক ঐ ১৮৭৫
সালে গ্রেস লর্ডসে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫২ রান করেন আর ১২৫ রানে ১২ উইকেট নেন।
যাই হোক ১৮৯০ থেকেই সব বদলাচ্ছিল।
গ্রেস তার একটি রচনায় লেখেন (১৮৯০ সালে)-“The professional are now the
equals of the amateurs in batting and fielding, and their superior in bowling”.
এক্ষেত্রে বিশেষ করে বলতেই হবে এস এম যে উডসের কথা। জেন্টলম্যান দলের উডসের মত
কোনও বোলার ছিলই না। তিনি মাত্র ১৯.৯ গড়ে ৭৫ উইকেট নেন ১৮৮৮ সালে। যা কিনা টম রিচার্ডসনের
২০.৭ গড়ে ৬৩ উইকেটের থেকে ভাল ছিল।
উনবিংশ শতকে ডগলাস খুব ভাল বোলার ছিলেন।
এবং অবশ্যই বুচানন। যিনি ১৮৭৪ সালে অবসর নিলে জেন্টলম্যান দল সমস্যায় পড়ে গিয়েছিল।
যে সমস্যা ১৯১৪ সালে গিয়ে শেষ হয় জে জি হোয়াইট আসার পর। এছাড়া অবশ্যই উল্লেখ করার মত বোলার ছিলেন পিটে,
পিল, ব্রিগস,রোডস,ব্লাইথ, লিলিহোয়াইট প্রভৃতিরা।
এবং প্লেয়ার্স দলেও ছিলেন শ’,উইলশার,এমেট,মরলে,হার্স্ট ইত্যাদিরা।
প্রথম দিকে সেঞ্চুরি তো হতইনা। বিশেষ করে জেন্টলম্যানদের। ১৮২৫ সালের পর ঐ
দলের সেঞ্চুরি আসে ১৮৬৭ সালে যেবার লাবক ১০৭ করল।তাও ওভালে। সেই উইলিয়াম ওয়ার্ড
করেছিলেন ১৮২৫ এ লর্ডসে ১০২, তারপর। কিন্তু সব বদলে গেল গ্রেসের জন্য। ১৮৬৮ থেকে
১৮৮৫ গ্রেস একাই করল ১৩টা। এরপর ১৮৯৪ আর ১৮৯৫ সালে আরও দুটো। ১৮৬৮ থেকে ১৮৭৫ সালের
মধ্যে ৯খানা ছিল এমন বোলিং এর বিরুদ্ধে যাকে অনায়াসে ইংল্যান্ড দলের বোলিং বলা
যায়। যাই হোক ১৮৯৯ সালে আরও একটা সেঞ্চুরি তিনি করেন, এবং সর্বশেষটা আসে (যদিও
সেটা সেঞ্চুরি নয়, ৭৪) ১৯০৬ সালে ৫৮ বছর বয়সে। যাই হোক এরপর থেকে হবস যুগের
সুত্রপাত। জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ারস নিয়ে আরও কথা বাকি যা পরে হবে।

No comments:
Post a Comment