Sunday, 3 April 2016


আমি তখন খুবই ছোট। ১৯৮৯ সাল।হঠাৎ শুকতারায় পাণ্ডব গোয়েন্দা বন্ধ হয়ে চলে গেল আনন্দমেলায়। আর তাঁর জায়গায় শুরু হল “পরাশর রায়” নামে একজন লেখকের “ত্রয়ীর অভিযান” নামে ধারাবাহিক যার প্রথম গল্প ছিল পোড়োবাড়ির রহস্য।খুব মজা করে পড়তাম। কলকাতার কাছাকাছি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মজিলপুরের প্রেক্ষাপটে শান্ত ওরফে শান্তনু মাইতি, মোটু ওরফে জীমূতবাহন চট্টোপাধ্যায় এবং শেলি মিত্র নামে কয়েকটি ৯-১০ শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীর গোয়েন্দাগিরি। খুব আপন ছিল এরা।এই গল্প টা শেষ  হলে পড়লাম আর একটি গল্প “একটি ঘরের রহস্য”। এই টা শেষ হবার পর আর কোনও দিন এই ধারাবাহিক বেরয়নি। খুব মিস করতাম বটেশ্বর কনস্টেবল, ইন্সপেক্টর মিস্টার রথিন মিত্র কে। কিন্তু সেই যে ৯৩-৯৪ নাগাদ শেষ হল আর বেরলও না।
তারপর অনেকদিন পরে নিউ বেঙ্গল প্রেস থেকে বই আকারে বেরলে জানলাম এই পরাশর রায় আসলে ফ্রান্সিসের লেখক অনিল ভৌমিক। যাই হক।আফসোশ আরও একটাও ছিল। দ্বিতীয় গল্পতে একটা বিড়ালের রহস্য সংক্রান্ত গল্পের উল্লেখ ছিল। সেটাও পাইনি।    
  গতকাল ৩১ সে মার্চ কলকাতার সেতু ভেঙ্গে পড়ল। ভারত ২০-২০ ওভারের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিল। আর আমার ছোটবেলার এই আনন্দটাও একটু নড়ে গেল। ইলাস্ট্রেশন ও কমিকস সংগ্রাহক ইন্দ্রনাথ দার ফেসবুক পোস্ট এ দেখলাম অনিল ভৌমিকের কিছু বইএর মলাট।আর তাতে হাওড়ার সুমন্ত বিশ্বাস লিখেছেন এই ধারাবাহিকের কথা যে এগুলো নাকি এনিক ব্লাইটনের মিস্ট্রি সিরিজের ফাইভ ফাইন্ড আউটারস থেকে হুবহু অনুকরন। এবং সুত্র উল্লেখ না করে। ওনাকে গল্পের নাম জিজ্ঞেস করতেই বললেন। খুঁজলাম। পেলাম। কথাটা সত্যি। খুব খারাপ লাগছে। ছোট বেলার স্বপ্ন এভাবে ভাঙবে ভাবিনি।
প্রথম গল্পটি অর্থাৎ “পোড়োবাড়ির রহস্য” হল “Mystery of the burnt house”  থেকে গৃহীত,দ্বিতীয় গল্পটি হল “একটি ঘরের রহস্য” যা পুরোপুরি ভাবে “The Mystery of the secret room” এর অনুবাদ।এছাড়া বোধ হয় বিড়ালের গল্পটি “Disappearing cat” থেকেই তৈরি হয়।
চরিত্রগুলিও মোটু ওরফে জীমূতবাহন চট্টোপাধ্যায় তৈরি হয়  ওরফে "Fatty"  থেকে। শান্তনু মাইতি হয় Laurence Daykin ওরফে Larry থেকে। শেলী নির্ঘাত আসে ডেইসি থেকে। দুটি অন্য চরিত্র  কুকুর টি বাদ পরে
বটেশ্বর চরিত্র টি তৈরি হয় Theophilus Goon বা মিস্টার গুন থেকে। এমনকি বটেশ্বর এর " অট যাও" আসলে মিস্টার গুন এর "ক্লিয়ার অরফ" সরাসরি অনুবাদ
 যাই হোক না কেন লেখক যদি আগে বিষয়টি খোলসা করতেন তাহলে বোধ হয় এত খারাপ লাগত না


7 comments:

  1. ধন্যবাদ সুমিত বাবু !
    অনেক না-জানা তথ্য পেলাম আপনার সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ।
    একটি ছোট্ট কথা ।
    এই পোস্টের শেষ তিনটি লাইন, সাদায় হাইলাইটেড হয়ে যাওয়ায় পড়তে একটু অসুবিধে হচ্ছে ।

    Sumit's Blog-এর জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. thank you.... asa kori vobishyote ar hobe na.... baki lekha gulo asa kori porben

      Delete
    2. বাকি লেখা অবশ্যই পড়ব ।
      তবে এই পোস্টের শেষ তিনটি লাইন যদি একটু ঠিক করে দেন, ভাল লাগবে ।
      আমি পড়তে আগ্রহী - কিন্তু বুঝতে পারছি না ।

      Delete
  2. ami onek chesta koreo parlam na....... tai comment e dicchi

    ReplyDelete
  3. Theophilus Goon বা মিস্টার গুন থেকে। এমনকি বটেশ্বর এর " অট যাও" আসলে মিস্টার গুন এর "ক্লিয়ার অরফ" সরাসরি অনুবাদ।
    যাই হোক না কেন লেখক যদি আগে বিষয়টি খোলসা করতেন তাহলে বোধ হয় এত খারাপ লাগত না।

    ReplyDelete
    Replies
    1. বাঃ । অশেষ ধন্যবাদ !
      ভাল থাকবেন ।

      Delete